‘মহাসিন্ডিকেট’ ও কাটমানি রাজের ফাইল খুলছে নতুন সরকার
নিউজ ইউএপি ডিজিটাল ডেস্ক, ১২ই মে ২০২৬ঃশিলিগুড়ি: – উন্নয়নের গালভরা প্রতিশ্রুতির আড়ালে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরে কি তবে কোটি কোটি টাকার লুঠ হয়েছে? প্রাক্তন মন্ত্রী উদয়ন গুহর সময়কালে হওয়া প্রায় ৩০০ কোটি টাকার কাজ নিয়ে এমনই জোরালো সন্দেহ দানা বাঁধছে। ক্ষমতা বদলের পরেই উত্তরকন্যার অলিন্দে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে নানা অনিয়ম ও ‘সিন্ডিকেটরাজ’-এর কথা। দুর্নীতির শিকড় খুঁজতে ইতিমধ্যেই নবান্ন ও উত্তরকন্যা— দুই স্তরেই ফাইলের ধুলো ঝাড়ার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।
উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের কাজে স্বচ্ছতা আনতে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠনের তোড়জোড় শুরু হয়েছে। এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়েছেন, “ওদের পাপের ভার আমরা বইব না। যারা কাটমানি খেয়েছে, তাদের প্রত্যেককে শাস্তি পেতে হবে। উত্তরবঙ্গের মানুষের উন্নয়নের টাকায় যাদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি ফুলেফেঁপে উঠেছে, তাদের খুঁজে বের করে কঠিন শাস্তি দেওয়া হবে।”
অভিযোগের তির মূলত দপ্তরের টেন্ডার প্রক্রিয়ার দিকে।
অভিযোগ, যোগ্য ঠিকাদারদের সরিয়ে দিয়ে নিজেদের পছন্দের আটজন ঠিকাদারকে কোটি কোটি টাকার কাজ পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে রাস্তা, কালভার্ট ও পাইপলাইন তৈরি করা হয়েছে, যা উদ্বোধনের আগেই বিকল হয়ে পড়ছে। এমনকি সরকারি আধিকারিকদের যোগসাজশে ‘কমপ্লিশন সার্টিফিকেট’ ম্যানেজ করে কোটি কোটি টাকার বিল পাশ করানো হয়েছে। সবচেয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ হলো, খাতা-কলমে অস্তিত্ব থাকলেও বাস্তবে নেই— এমন কিছু ‘ভৌতিক’ প্রকল্পের হদিসও মেলার সম্ভাবনা রয়েছে।
তদন্তকারীদের আতশকাচের তলায় রয়েছেন উদয়ন ঘনিষ্ঠ চৌধুরীহাট এলাকার এক প্রভাবশালী ঠিকাদার এবং কোচবিহারের এক অবাঙালি ঠিকাদার। অভিযোগ, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার থেকে শুরু করে শিলিগুড়ি পর্যন্ত দপ্তরের যাবতীয় কাজ এঁরাই নিয়ন্ত্রণ করতেন। এমনকি উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন পুরসভাতেও এই সিন্ডিকেটের হাত ছিল বলে দাবি দপ্তরের কর্মীদের একাংশের।
দুর্নীতির জট ছাড়াতে প্রতিটি পুরোনো ফাইল ধরে ধরে পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কোন প্রকল্পের জন্য কত বরাদ্দ হয়েছিল এবং কাজগুলো বর্তমানে কী অবস্থায় আছে, তা সরেজমিনে দেখার জন্য ‘ফিজিক্যাল ভেরিফিকেশন’ শুরু হচ্ছে। মালদা থেকে কোচবিহার— বিস্তীর্ণ এলাকার প্রকল্পগুলি এখন তদন্তের আওতায়।
