“If God takes everything”সব তো কেড়ে নিলে ভগবান, এখন শোব কোথায়?”

 কালবৈশাখীর তাণ্ডবে খোলা আকাশের নিচে নুরেফারা
নিউজ ইউএপি ডিজিটাল ডেস্ক | কলকাতা, ২৭ শে এপ্রিল ২০২৬ঃ-ইসলামপুর ও চাকুলিয়া: ঝড়ের দাপটে মহকুমায় প্রায় ২০০টি বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়ায় বিস্তীর্ণ এলাকা বর্তমানে বিদ্যুৎহীন। ইসলামপুরের ডিভিশনাল ইঞ্জিনিয়ার সমীর চৌধুরী জানিয়েছেন, যুদ্ধকালীন তৎপরতায় খুঁটি মেরামতির কাজ চলছে এবং দ্রুত বিদ্যুৎ পরিষেবা স্বাভাবিক করার চেষ্টা হচ্ছে। ইসলামপুরের বিডিও পিনাকী দেবনাথ এবং গোয়ালপোখরের বিডিও তারকনাথ হালদার জানিয়েছেন, নির্বাচনি আচরণবিধি বলবৎ থাকলেও মানবিক কারণে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির কাছে দ্রুত ত্রাণ ও ত্রিপল পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।  

শনিবার গভীর রাতের কালবৈশাখীর তাণ্ডবে কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুর মহকুমা। ঝড়ের দাপটে সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ইসলামপুর, চাকুলিয়া ও গোয়ালপোখর ব্লক। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার মাঝরাত নাগাদ হঠাৎ আকাশ নিকষ কালো হয়ে আবহাওয়া রুদ্ররূপ ধারণ করে। কয়েক মুহূর্তের প্রবল ঝড়ে কয়েকশো বাড়ির টিনের চাল উড়ে যায়, ভেঙে পড়ে বড় বড় গাছ। গোয়ালপোখর ফুলবাড়ি এলাকার বাসিন্দা নুরেফা খাতুনের মতো অনেকেই প্রাণ বাঁচাতে আসবাবপত্রের নিচে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। অনেকেরই শেষ সম্বল ঘরটুকু প্রকৃতির রোষে ধূলিসাৎ হয়ে গিয়েছে। রবিবারের সকাল মহকুমার বাসিন্দাদের কাছে এক বিভীষিকা হয়ে ধরা দেয়।

ইসলামপুর মহকুমা প্রশাসন সূত্রে খবর, ইসলামপুর, চাকুলিয়া ও গোয়ালপোখর ব্লক মিলিয়ে ৩০০-রও বেশি বাড়ি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দাড়িভিট, কালনাগিন, গাইসাল ও আগডিমটিখন্তি এলাকায় ঝড়ের তাণ্ডব ছিল সবথেকে বেশি। কেবল ঘরবাড়ি নয়, বিঘার পর বিঘা জমির ভুট্টা চাষ পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। চাকুলিয়ার ভুঁইধর গ্রামের চাষি অহেদুর আলমের মতো প্রান্তিক কৃষকরা, যারা ঋণ নিয়ে জমি লিজ নিয়েছিলেন, তাঁরা এখন সর্বস্ব হারিয়ে দিশেহারা। ইসলামপুর মহকুমা কৃষি আধিকারিক মেহফুজ আহমেদ জানিয়েছেন, ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ খতিয়ে দেখতে টিম কাজ শুরু করেছে এবং সোমবারের মধ্যে বিস্তারিত রিপোর্ট পাওয়া যাবে। কৃষি দপ্তরের পক্ষ থেকে দুর্গত এলাকায় কন্ট্রোল রুম খোলার প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে, ঝড়ের দাপটে মহকুমায় প্রায় ২০০টি বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়ায় বিস্তীর্ণ এলাকা বর্তমানে বিদ্যুৎহীন। ইসলামপুরের ডিভিশনাল ইঞ্জিনিয়ার সমীর চৌধুরী জানিয়েছেন, যুদ্ধকালীন তৎপরতায় খুঁটি মেরামতির কাজ চলছে এবং দ্রুত বিদ্যুৎ পরিষেবা স্বাভাবিক করার চেষ্টা হচ্ছে। ইসলামপুরের বিডিও পিনাকী দেবনাথ এবং গোয়ালপোখরের বিডিও তারকনাথ হালদার জানিয়েছেন, নির্বাচনি আচরণবিধি বলবৎ থাকলেও মানবিক কারণে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির কাছে দ্রুত ত্রাণ ও ত্রিপল পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

চাকুলিয়ার তৃণমূল প্রার্থী মিনহাজুল আরফিন আজাদ এবং কংগ্রেস প্রার্থী আলি ইমরান রমজ (ভিক্টর) ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলি ঘুরে দেখে দ্রুত সরকারি সাহায্যের দাবি জানিয়েছেন।ইসলামপুর লাগোয়া বিহারের কিশনগঞ্জ জেলাতেও ঝড়ের ভয়াবহতা কম ছিল না। সেখানেও ঝড়ের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় প্রায় ৮০ কিমি। কিশনগঞ্জ শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডের পাশাপাশি জেলাশাসক বিশাল রাজের বাংলোর পাঁচিল ভেঙে বটগাছ পড়ে বিপত্তি ঘটেছে। তবে দুই এলাকা মিলিয়ে প্রাণহানির খবর না থাকলেও আম বাগান এবং ভুট্টা চাষের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। উত্তর দিনাজপুর এবং কিশনগঞ্জ— দুই প্রশাসনের পক্ষ থেকেই কৃষকদের ক্ষতিপূরণ ও সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। আপাতত আকাশের মুখ ভার থাকায় নতুন করে দুর্যোগের আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন মহকুমার কয়েক হাজার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ।