২৫শে মার্চ,২০২৬ :-নিউজ ইউ এ পি ডিজিটাল ডেস্ক,:-পুরীর মাটির নিচে “প্রাচীন নগরী” ও “গোপন সুড়ঙ্গ” নিয়ে যে খবরটি ঘুরছে, সেটি নিঃসন্দেহে রোমাঞ্চকর—কিন্তু এখানে কিছু তথ্য, কিছু সম্ভাবনা, আর কিছু অপ্রমাণিত দাবি—সব একসঙ্গে মিশে গেছে।
পুরীর ভূগর্ভে রহস্য: সত্যি, সম্ভাবনা না কি গুজব?
ওড়িশার উপকূলবর্তী শহর পুরী—যেখানে অবস্থিত বিখ্যাত জগন্নাথ মন্দির—সেই পবিত্র তীর্থক্ষেত্রকে ঘিরে নতুন করে তৈরি হয়েছে রহস্যের আবহ। সাম্প্রতিক কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হচ্ছে, মন্দিরের নিচে এবং আশেপাশে লুকিয়ে রয়েছে একটি প্রাচীন নগরীর ধ্বংসাবশেষ, এমনকি সমুদ্র পর্যন্ত পৌঁছানো একটি গোপন সুড়ঙ্গও থাকতে পারে।
কীভাবে শুরু হল এই আবিষ্কারের গল্প?
‘শ্রীমন্দির পরিক্রমা প্রকল্প’-এর কাজ চলাকালীন শ্রমিকরা প্রথমে খুঁজে পান একটি প্রাচীন সিংহমূর্তি। প্রত্নতাত্ত্বিকরা অনুমান করেন, এটি গঙ্গা রাজবংশ-এর সময়কার হতে পারে।
এরপর আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে শুরু হয় GPR (Ground Penetrating Radar) সমীক্ষা—
এই প্রযুক্তি মাটির নিচে থাকা গঠন বা বস্তু শনাক্ত করতে সাহায্য করে।
কী কী পাওয়া গেছে বলে দাবি?
গবেষকদের প্রাথমিক দাবি অনুযায়ী—
পুরীর বিভিন্ন অংশে ৪০টিরও বেশি স্থানে ভূগর্ভস্থ কাঠামোর ইঙ্গিত এমার মঠ, নৃসিংহ মন্দির, বুড়ি মা মন্দির এলাকায় ছড়িয়ে থাকা নিদর্শন মাটির নিচে পাওয়া: প্রাচীন মৃৎপাত্র ধাতব বস্তু দৈনন্দিন ব্যবহারের জিনিস এগুলো দেখে মনে করা হচ্ছে, এখানে একসময় একটি উন্নত জনবসতি বা নগরী ছিল।রহস্যময় কাঠামো ও কক্ষ আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ দাবিও সামনে এসেছে— প্রায় ৩০ ফুট দীর্ঘ প্রাচীর একটি বড় কক্ষ (প্রায় ৭.৬ মিটার × ৩ মিটার) ও যেখানে সম্ভবত স্বর্ণখচিত মূর্তি পূজা হতো ক্ষতিগ্রস্ত সিংহমূর্তি, যা ঐতিহাসিক গুরুত্বের ইঙ্গিত দেয়
“মন্দির থেকে সমুদ্র পর্যন্ত সুড়ঙ্গ” — কতটা সত্য? সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর দাবি হলো— জগন্নাথ মন্দির থেকে সমুদ্র পর্যন্ত একটি গোপন সুড়ঙ্গের অস্তিত্ব কিন্তু এখানে গুরুত্বপূর্ণ কথা: এই সুড়ঙ্গের বিষয়টি এখনও প্রমাণিত নয় কোনও সরকারি বা বৈজ্ঞানিক সংস্থা এখনো এটি নিশ্চিত করেনি এটি মূলত প্রাথমিক অনুমান বা জনপ্রিয় গুজবের অংশ রিপোর্ট নিয়ে বিভ্রান্তি মন্দির প্রশাসন প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা দিয়ে IIT Gandhinagar-কে GPR সমীক্ষার দায়িত্ব দেয় কিন্তু পরে: প্রশাসন বলে তারা রিপোর্ট পায়নি IIT জানায় তারা রিপোর্ট জমা দিয়েছে এক আইনজীবী RTI করে রিপোর্ট সংগ্রহ করেন এবং বৈজ্ঞানিক খননের দাবি তোলেন ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট গঙ্গা রাজবংশ ছিল কলিঙ্গ অঞ্চলের শক্তিশালী শাসক।
তাদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান: জগন্নাথ মন্দির নির্মাণ (প্রায় ১১১২–১১৬১ খ্রিস্টাব্দ) কোনার্ক সূর্য মন্দির নির্মাণ এই কারণে পুরী এলাকায় প্রাচীন নগরীর অস্তিত্ব অসম্ভব নয়, বরং ঐতিহাসিকভাবে যুক্তিযুক্ত। পুরী মন্দিরের চিরন্তন রহস্য পুরী মন্দির বরাবরই নানা রহস্যে ঘেরা— পতাকা নাকি বাতাসের বিপরীতে ওড়ে মন্দিরের ওপর দিয়ে পাখি উড়ে না—এমন বিশ্বাস রত্নভাণ্ডারের গোপন কক্ষএসবের অনেকটাই মিথ বা লোকবিশ্বাস, বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত নয়।
তাহলে আসল সত্য কী? যা সত্য বা সম্ভাব্য কিছু প্রাচীন কাঠামো ও নিদর্শনের অস্তিত্ব গঙ্গা যুগের স্থাপত্যের প্রমাণ GPR-এ ভূগর্ভস্থ গঠনের ইঙ্গিত যা এখনো প্রমাণিত নয় সম্পূর্ণ “প্রাচীন নগরী” সমুদ্র পর্যন্ত সুড়ঙ্গ বড় আকারের শহর বিস্তৃত ছিল—এই দাবি শেষ কথা পুরীর মাটির নিচে ইতিহাস লুকিয়ে আছে—এটা খুবই সম্ভব। কিন্তু এখন যা শোনা যাচ্ছে, তার বড় অংশই এখনও গবেষণার পর্যায়ে।
