Conductorকনডাক্টরের বদলে এবার অ্যাটেনডেন্ট,

       আজ থেকে চলবে এসি স্লিপার বাস

নিউজ ইউএপি ডিজিটাল ডেস্ক | কলকাতা, ২৬ শে এপ্রিল ২০২৬ঃ-কোচবিহার: এবার থেকে উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগমের যাত্রীবাহী অত্যাধুনিক স্লিপার ভলভো বাসে থাকবে না কোনও কনডাক্টর। বাসে উঠলে যাত্রীদের স্বাগত জানাবেন বাস অ্যাটেনডেন্টরা। আকাশপথের বিমান সেবিকাদের আদলেই এবার স্থলপথের যাত্রীদের পরিষেবা দেবেন তাঁরা। যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্যকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে নিগম সূত্রে খবর। অ্যাটেনডেন্টরা যাত্রীদের আসন খুঁজে দেওয়া, ব্যাগ গুছিয়ে রাখতে সাহায্য করা সহ তাঁদের সুবিধা-অসুবিধার খবর নেবেন। রবিবার বিকেলে শিলিগুড়ি থেকে এবং সোমবার বিকেলে কোচবিহার থেকে কলকাতার উদ্দেশে রওনা দেবে অত্যাধুনিক এই স্লিপার ভলভো বাস।
এ বিষয়ে নিগমের ম্যানেজিং ডিরেক্টর দীপঙ্কর পিপলাই বলেন, ‘যাত্রী সুবিধার্থে রবিবার থেকেই বাসগুলি রাস্তায় নামছে। বাসগুলিতে কোনও কনডাক্টর থাকছে না। দুজন ড্রাইভার এবং একজন অ্যাটেনডেন্ট নিয়েই বাসগুলি রওনা দেবে।’
জানুয়ারির মাঝামাঝি শিলিগুড়িতে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করেছিলেন ছয়টি অত্যাধুনিক স্লিপার ভলভো বাসের। সে সময় ফিতে কেটে উদ্বোধন করা হলেও এতদিন পরিষেবা বন্ধই ছিল। রবিবার থেকে বাসগুলি যাত্রা শুরুর কথা জানাজানি হতেই খুশি দূরপাল্লার যাত্রীরা। নিগম সূত্রে খবর, অনলাইন বুকিংয়ের পাশাপাশি নির্দিষ্ট ডিপো থেকে টিকিট কেটে যাত্রীরা বুকিং করতে পারবেন। কোচবিহার থেকে দুই হাজার টাকা ভাড়া থাকলেও শিলিগুড়ি থেকে ভাড়া ধার্য হয়েছে ১৭০০ টাকা। বাসগুলিতে যাত্রীদের জন্য থাকবে বিশেষ পরিষেবা। প্রত্যেক যাত্রীকে দেওয়া হবে জলের বোতল, ফ্রি ওয়াইফাই, টিভি, বালিশ, বিছানার চাদর এবং কম্বল।

      ট্রাফিক আইনের তোয়াক্কা নেই,

   লরির ডালায় ঝুঁকি নিয়ে চলছে পড়ুয়াদের স্কুলযাত্রা

মালবাজার: বাইকচালক ও আরোহীদের নিয়ে ট্রাফিক পুলিশের কড়াকড়ি থাকলেও নিয়মের বালাই নেই চা বাগানের ছোট লরি বা ট্র্যাক্টরের জন্য। অথচ সেইসব লরিতেই প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে নিত্যদিন যাতায়াত করে কয়েকশো ছাত্রছাত্রী।
মালবাজার শহরে সরকারপোষিত উচ্চবিদ্যালয়ের মধ্যে রয়েছে আদর্শ বিদ্যাভবন, সুভাষিণী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়, বিএল হিন্দি উচ্চবিদ্যালয় এবং পুষ্পিকা হিন্দি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়। এই চারটি স্কুলে পড়াশোনা করে বাগানের কয়েক হাজার ছাত্রছাত্রী। মাল ব্লকের রাঙ্গামাটি, নিদাম, গুরজংঝোরা, মিনগ্লাস, নিউ গ্লেনকো, কুমলাই সহ মেটেিল ব্লকের বড়দিিঘ, সোনগাছি, আইভিল সহ বিভিন্ন চা বাগানের শ্রমিক পরিবার এইসব সরকাির স্কুলের ওপর নির্ভরশীল। সকাল সাড়ে আটটা থেকে নয়টার মধ্যে চা বাগানের নির্দিষ্ট বাস বা লরি ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে মালবাজারে আসে। পড়ুয়ার সংখ্যা বেশি থাকলেও একবারের পরিবর্তে দু’বার পড়ুয়াদের নিয়ে শহরে আসে না বাগানের গাড়ি। তাই সবাইকে ঠাসাঠাসি করেই আসতে হয়। তবে যেসব বাগানের বাস আছে, তাদের ছাত্রছাত্রীদের খুব বেশি সমস্যা হয় না। কিন্তু যারা লরিতে দাঁড়িয়ে যাতায়াত করে তাদের রীতিমতো প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে যাওয়া-আসা করতে হয়। বসার জায়গা না থাকায় অধিকাংশ ছাত্র লরির পেছনের ডালায় বসে বাড়ি ফেরে। কিছু লরি যাতায়াত করে থানা মোড়ে ট্রাফিক পোস্টের সামনে দিয়ে। ছাত্রছাত্রীরা ডালায় বসে থাকলেও পুলিশ তাদের কখনও শাসন করে না। আর সেই লরির ছবি তুলতে দেখে তড়িঘড়ি কিছু ছাত্র লরির ডালা থেকে নেমে দাঁড়ায়। এমন ঘটনায় পুলিশের কড়া পদক্ষেপের দাবি করেছেন অভিভাবকরা।
গুরজংঝোরা বাগানের এক অভিভাবকের কথায়, ‘পুলিশের উচিত একটু কড়াভাবে লরির চালকদের শাসন করা। তাহলে আমরাও ছাত্রছাত্রীদের সচেতন করতে পারব।’ যদিও চা বাগানের এক লরিচালকের দাবি, ছাত্রছাত্রীদের লরির ভেতরে দাঁড়াতে বলা হলেও কেউ কেউ ডালায় গিয়ে বসে থাকে।
এই অবস্থায় সব বাগানে লরির পরিবর্তে বাসে স্কুল পড়ুয়াদের যাতায়াতের ব্যবস্থা করা উচিত বলে মনে করেন আদিবাসী নেতা বাবলু মািঝ। বিজেপি প্রার্থী শুক্রা মুন্ডাও জানান, অনেক চা বাগানে এখনও স্কুলবাসের ব্যবস্থা নেই। প্রশাসনের উচিত তাদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিবহণের ব্যবস্থা করা।
এরপর থেকে স্কুল পড়ুয়াদের বাস ও লরির গতিবিধির দিকে কড়া নজর দেওয়া হবে এবং আইন ভাঙলে অবশ্যই পদক্ষেপ করা হবে বলে মালের ট্রাফিক পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন।