17th April, নিউজ ইউ এ পি ডিজিটাল ডেস্ক, :-সংসদের বিশেষ অধিবেশনে বড়সড় ধাক্কা খেল কেন্দ্র। প্রবল বিতর্কের পর লোকসভায় ভোটাভুটিতে পাশ হতে ব্যর্থ হল ১৩১ তম সংবিধান সংশোধনী বিল (নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম)। আসন পুনর্বিন্যাস এবং মহিলা সংরক্ষণকে একই বিলে জুড়ে দেওয়ার সরকারি কৌশলের বিরোধিতায় একজোট হয়ে রুখে দাঁড়াল বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’। সংবিধান সংশোধনী বিল পাশের জন্য প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা জোগাড় করতে পারেনি বিজেপি সরকার। বিলের পক্ষে পড়ে ২৯৮ ভোট বিলের বিপক্ষে পড়ে ২৩০ ভোট। মোট ৫২৮ জন সাংসদ ভোটদানে অংশ নেন (Constitutional Amendment Bill)।
ভোটাভুটির আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শা (Amit Shah) বিরোধীদের ‘মহিলা বিরোধী’ বলে দাগিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। জনসংখ্যা বৃদ্ধির দোহাই দিয়ে তিনি বলেন, ‘এমন আসন আছে যেখানে ৪৮ লক্ষ ভোটার, সেখানে সাংসদের পক্ষে কাজ করা অসম্ভব।’ অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে সাংসদদের কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন যাতে চার দশকের বঞ্চনা ঘুচিয়ে মহিলাদের অধিকার দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর আবেগঘন আবেদন কিংবা অমিত শায়ের আক্রমণ— কোনওটিই বিরোধীদের অবস্থানে চিড় ধরাতে পারেনি। ফলে লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাস ও মহিলা সংরক্ষণের এই মেগা পরিকল্পনা আপাতত বিশ বাঁও জলে।
কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মিত্র দিনটিকে ভারত ও ভারতের গণতন্ত্রে একটি ‘ঐতিহাসিক দিন’ বলে ব্যখ্যা করেন। তাঁর ভাষায়, ” আজ একটি ঐতিহাসিক দিন— আমরা বিরোধীরা ঐক্যবদ্ধভাবে ‘মহিলা সংরক্ষণ বিল’-এর আড়ালে আনা অবৈধ ও অবিবেচক সংবিধান সংশোধনী বিলকে পরাজিত করেছি। ওরা বলছে এটা নাকি ‘মহিলা সংরক্ষণ বিল’, কিন্তু সেই বিল তো ২০২৩-এই পাশ হয়ে গিয়েছে। ওরা যদি চাইত, ৫৪৩ আসনের মধ্যে এক তৃতিয়ংশ আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষণ করতে পারত। কিন্তু তা না করে ওরা ২০১১-র সেনসাসের উপর নির্ভর করে লোকসভা ও বিধানসভায় আসন সংখ্যা বাড়ানোর প্ল্যান নিয়ে আসল।”
