লোকসভায় পাশ হল না মহিলা সংরক্ষণ ও আসনবৃদ্ধি বিল

17th April, নিউজ ইউ এ পি ডিজিটাল ডেস্ক,  :-সংসদের বিশেষ অধিবেশনে বড়সড় ধাক্কা খেল কেন্দ্র। প্রবল বিতর্কের পর লোকসভায় ভোটাভুটিতে পাশ হতে ব্যর্থ হল ১৩১ তম সংবিধান সংশোধনী বিল (নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম)। আসন পুনর্বিন্যাস এবং মহিলা সংরক্ষণকে একই বিলে জুড়ে দেওয়ার সরকারি কৌশলের বিরোধিতায় একজোট হয়ে রুখে দাঁড়াল বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’। সংবিধান সংশোধনী বিল পাশের জন্য প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা জোগাড় করতে পারেনি বিজেপি সরকার। বিলের পক্ষে পড়ে ২৯৮ ভোট বিলের বিপক্ষে পড়ে ২৩০ ভোট। মোট ৫২৮ জন সাংসদ ভোটদানে অংশ নেন (Constitutional Amendment Bill)।

লোকসভার আসন সংখ্যা বাড়িয়ে ৮৫০ করার পরিকল্পনা শুরুতেই ধাক্কা খেল৷ সংসদে আটকে গেল ১৩১ তম সংবিধান সংশোধনী বিল৷ শুক্রবার এই বিল লোকসভায় পেশ করে কেন্দ্রীয় সরকার৷ যদিও বিলের পক্ষে ভোট পড়ে ২৯৮টি৷ বিপক্ষে ভোট পড়েছে ২৩০টি ভোট৷ মহিলা সংরক্ষণ এবং লোকসভায় আসনবৃদ্ধি সংক্রান্ত ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিল লোকসভায় ভোটাভুটিতে পাশ করাতে পারল না প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার। দু’দিনের বিতর্কপর্ব শেষে শুক্রবার বিকেলে বিল নিয়ে ভোটাভুটি হয়। বিলের পক্ষে পড়ে ২৯৮টি ভোট। বিপক্ষে ২৩০টি। মোট ৫২৮ জন সাংসদ ভোটাভুটিতে যোগ দেন। সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত বিল পাশের জন্য দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন, যা পেতে ব্যর্থ হয়েছে মোদি সরকার।
কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়ালের পেশ করা এই বিলের মূল লক্ষ্য ছিল, লোকসভার (Lok Sabha) আসন সংখ্যা বাড়িয়ে ৮৫০ করা এবং মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণ নিশ্চিত করা। কিন্তু বিরোধীদের আপত্তির মূল জায়গা ছিল দু’টি পৃথক বিষয়কে মিলিয়ে দেওয়া। প্রিয়ঙ্কা গান্ধী ও অখিলেশ যাদবদের দাবি, জনগণনার আগেই আসন পুনর্বিন্যাস করে উত্তর ভারতের আসন বাড়িয়ে দক্ষিণ ভারতের প্রভাব খর্ব করতে চাইছে বিজেপি। রাহুল গান্ধী সরব হন ওবিসি মহিলাদের অধিকার নিয়ে। তাঁর অভিযোগ, সরকার আসলে ওবিসি এবং দলিতদের অধিকার কেড়ে নিয়ে দেশের ভোট মানচিত্র বদলে দেওয়ার চেষ্টা করছে।

ভোটাভুটির আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শা (Amit Shah) বিরোধীদের ‘মহিলা বিরোধী’ বলে দাগিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। জনসংখ্যা বৃদ্ধির দোহাই দিয়ে তিনি বলেন, ‘এমন আসন আছে যেখানে ৪৮ লক্ষ ভোটার, সেখানে সাংসদের পক্ষে কাজ করা অসম্ভব।’ অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে সাংসদদের কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন যাতে চার দশকের বঞ্চনা ঘুচিয়ে মহিলাদের অধিকার দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর আবেগঘন আবেদন কিংবা অমিত শায়ের আক্রমণ— কোনওটিই বিরোধীদের অবস্থানে চিড় ধরাতে পারেনি। ফলে লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাস ও মহিলা সংরক্ষণের এই মেগা পরিকল্পনা আপাতত বিশ বাঁও জলে।

কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মিত্র দিনটিকে ভারত ও ভারতের গণতন্ত্রে একটি ‘ঐতিহাসিক দিন’ বলে ব্যখ্যা করেন। তাঁর ভাষায়, ” আজ একটি ঐতিহাসিক দিন— আমরা বিরোধীরা ঐক্যবদ্ধভাবে ‘মহিলা সংরক্ষণ বিল’-এর আড়ালে আনা অবৈধ ও অবিবেচক সংবিধান সংশোধনী বিলকে পরাজিত করেছি। ওরা বলছে এটা নাকি ‘মহিলা সংরক্ষণ বিল’, কিন্তু সেই বিল তো ২০২৩-এই পাশ হয়ে গিয়েছে। ওরা যদি চাইত, ৫৪৩ আসনের মধ্যে এক তৃতিয়ংশ আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষণ করতে পারত। কিন্তু তা না করে ওরা ২০১১-র সেনসাসের উপর নির্ভর করে লোকসভা ও বিধানসভায় আসন সংখ্যা বাড়ানোর প্ল্যান নিয়ে আসল।”