জখম আরও এক রক্তাক্ত দিনহাটা, বোমা ফেটে ঝলসে গেল কিশোর

নিউজ ইউএপি ডিজিটাল ডেস্কঃ এক পুলিশকর্মীও গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। বুধবার দু’জনেরই অস্ত্রোপচার হওয়ার কথা কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে। ভোট-সন্ত্রাসে বার বার শিরোনামে উঠে এসেছে কোচবিহারের দিনহাটা । মনোনয়ন পর্ব থেকে রক্ত ঝরছে দিনহাটায়। ভোটের দিন অশান্তি চরমে পৌঁছয়। ভোট-সন্ত্রাসের আঁতুরঘর হয়ে ওঠে দিনহাটা। ফলপ্রকাশের  দিনও অশান্তি ধারা অব্যাহতই রইল। একের পর এক গুলি, বোমা, প্রাণহানি। বোমা ফেটে জখম হল এক কিশোর-সহ দু’জন।
সূত্রের খবর, গোসানিমারিতে মাঠের মধ্যে পড়েছিল বোমা। আঘাত লাগতেই সেটি ফেটে যায়। ঝলসে যান এক কিশোর। এক মহিলাও জখম হয়েছেন বলে খবর। দু’জনেই দিনহাটা মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি। ময়নার বাকচাতেও বোমা ফেটে গুরুতর জখম হন একজন। বোমা ফেটে হাত উড়ে যায় এক ব্যক্তির।

ভোটের দিন ভাঙড়ের ছায়ানিতে বল ভেবে খেলতে গিয়ে বোমা ফেটে ঝলসে যায় দুই শিশু। সাত বছরের একটি ছেলে ও চার বছরের এক শিশুকন্যার অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের কলকাতার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মাঝরাতে অগ্নিগর্ভ ভাঙড়, পুলিশ-আইএসএফ দফায় দফায় সংঘর্ষ, বোমাবাজি পঞ্চায়েত ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশ ইস্তক বাংলার বিভিন্ন জায়গায় হিংসার খবর পাওয়া গিয়েছে। যে কয়েকটি জায়গায় নিত্যদিন অশান্তির খবর মেলে তার মধ্যে অন্যতম দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড় এবং কোচবিহারের দিনহাটা। তৃণমূল এবং বিজেপির সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়েছে দিনহাটা।

রাজ্যের মন্ত্রী উদয়ন গুহের বিধানসভা এলাকা দিনহাটা তথা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিকের লোকসভা কেন্দ্রে বারে বারেই হিংসার ঘটনা ঘটেছে। গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে এক তৃণমূল কর্মীর। জখম হয়েছেন অন্তত ছ’জন। মঙ্গলবার রাতে গুলি এবং বোমার লড়াইয়ের মধ্যে সারা রাত গণনাকেন্দ্রের একটি ঘরের মধ্যেই আটকে ছিলেন এক ভোটকর্মী এবং পুলিশকর্মীরা। বুধবার সকালে জেলা পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে পুলিশ বাহিনী এসে তাঁদের উদ্ধার করে। সকাল সকাল ঘটনাস্থলে যান এডিজি (দক্ষিণবঙ্গ) সিদ্ধিনাথ গুপ্ত-সহ পুলিশের পদস্থ কর্তারা। শুরু হয় ধরপাকড়। আপাতত থমথমে পুরো এলাকা। নতুন করে অশান্তির খবর নেই। তবে কাঁঠালিয়া হাই স্কুল চত্বর থেকে ভাঙড়ের কাশীপুর রোড জুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে রয়েছে ইটের টুকরো, বোমার সুতলি ইত্যাদি। পুলিশের একের পর এক গাড়ি ভাঙচুর হয়েছে।

মঙ্গলবার ভাঙড়-২ ব্লকের কাঁঠালিয়ার গণনাকেন্দ্রে চলছিল জেলা পরিষদের ভোটগণনা। আইএসএফ নেত্রী রেশমা খাতুন অভিযোগ করেন, তাঁদের জেলা পরিষদের প্রার্থী জাহানারা খাতুন প্রথমে পাঁচ হাজার ভোটে এগিয়ে ছিলেন। কিন্তু রাত সাড়ে ১২টা নাগাদ বিডিও জানান, জাহানারা ৩৬০ ভোটে হেরে গিয়েছেন। আইএসএফ নেতৃত্বের দাবি, প্রশাসনের সঙ্গে ‘সেটিং’ করেছে তৃণমূল। তার পরেই ভোটের এই ফল ঘোষণা হয়েছে। তাঁরা পুনর্নির্বাচনের দাবি তোলেন। যদিও তৃণমূল এই অভিযোগ উড়িয়ে দেয়। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যে এলাকায় উত্তেজনা শুরু হয়।

পুলিশের অভিযোগ, একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের কর্মী-সমর্থকেরা তাদের উপর আক্রমণ শুরু করে। এলাকায় একের পর এক বিস্ফোরণ হয়। বোমা এবং গুলির শব্দে আতঙ্ক ছড়ায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রবার বুলেট ছোড়ে পুলিশ। কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটানো হয়। কিন্তু অবস্থা বদলায়নি। আইএসএফের পাল্টা অভিযোগ, পুলিশ গুলি চালিয়েছে। তাতে তাঁদের বেশ কয়েক জন কর্মী আহত হয়েছেন। মৃত্যু হয়েছে হাসান আলি নামে বছর ছাব্বিশের এক কর্মীর। কলাডাঙার বাসিন্দা হাসানকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল কলকাতার আরজি কর হাসপাতালে। সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। পুলিশ জানিয়েছে, মঙ্গলবার রাত ১২টা ১০ মিনিট নাগাদ হাসানকে কয়েক জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি আক্রমণ করেন। তাতেই প্রাণ হারিয়েছেন ওই যুবক। অন্য দিকে, পুলিশের এক পদস্থ কর্তার হাতে গুলি লেগেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *