ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারে চালুর আশায় স্থানীয়রা
বর্তমানে অফিসের চারপাশে আগাছা ও ঝোপজঙ্গলের দাপট দেখে বোঝার উপায় নেই যে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কার্যালয়।
বিজেপির অভিযোগ, পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলে স্থানীয় স্তরে ‘দাদাগিরি’ এবং জমি সংক্রান্ত কিছু জটিলতা তৈরি করা হয়েছিল। সেই কারণেই তৎকালীন শাসকদলের একাংশের আপত্তিতে ভবনটি তৈরি হওয়ার পরেও ব্যবহারের অনুমতি মেলেনি। বর্তমানে রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠিত হওয়ায় এবং স্থানীয় পঞ্চায়েতও বিজেপির দখলে থাকায় সেই বাধা আর থাকবে না বলে মনে করছেন বিজেপি নেতৃত্ব।
নিউজ ইউএপি ডিজিটাল ডেস্ক,আলিপুরদুয়ার: ১২ই মে ২০২৬ঃ-
সরকারের পটপরিবর্তন হলেও আলিপুরদুয়ার ১ ব্লকের পলাশবাড়িতে একটি সরকারি ভবন আজও ব্রাত্য হয়ে পড়ে রয়েছে। পূর্ব কাঁঠালবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় প্রায় তিন-চার বছর আগে ঘটা করে তৈরি করা হয়েছিল আরআই (রিভিনিউ ইন্সপেক্টর) অফিস। কিন্তু নির্মাণের পর একদিনের জন্যও সেই অফিসের দরজা খোলেনি। বর্তমানে অফিসের চারপাশে আগাছা ও ঝোপজঙ্গলের দাপট দেখে বোঝার উপায় নেই যে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কার্যালয়।
বিজেপির অভিযোগ, পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলে স্থানীয় স্তরে ‘দাদাগিরি’ এবং জমি সংক্রান্ত কিছু জটিলতা তৈরি করা হয়েছিল। সেই কারণেই তৎকালীন শাসকদলের একাংশের আপত্তিতে ভবনটি তৈরি হওয়ার পরেও ব্যবহারের অনুমতি মেলেনি। বর্তমানে রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠিত হওয়ায় এবং স্থানীয় পঞ্চায়েতও বিজেপির দখলে থাকায় সেই বাধা আর থাকবে না বলে মনে করছেন বিজেপি নেতৃত্ব।
পূর্ব কাঁঠালবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সুপর্ণা বর্মন জানান, তাঁর দায়িত্ব নেওয়ার আগেই ভবনের কাজ শেষ হয়েছিল। তিনি বলেন, “বর্তমানে গ্রাম পঞ্চায়েত কার্যালয়ের একটি ছোট্ট ঘর থেকেই আরআই অফিসের কাজকর্ম চালাতে হয়। ফলে সাধারণ মানুষের যেমন অসুবিধা হয়, তেমনই কাজের পরিবেশও বিঘ্নিত হয়। নবনির্মিত ভবনটি যাতে অবিলম্বে চালু হয়, তার জন্য আমি প্রশাসনের ওপরমহলে যোগাযোগ করব।”
যদিও বিরোধীদের অভিযোগ মানতে নারাজ ঘাসফুল শিবির। তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি গিরিন্দ্রনাথ বর্মন জানিয়েছেন, ভবন নির্মাণের সময় তিনি বর্তমান পদে ছিলেন না, তাই কে বা কারা বাধা দিয়েছিল তা তাঁর জানা নেই। তবে তিনি যোগ করেন, “বিজেপির জনপ্রতিনিধিরা যদি নিয়ম মেনে অফিসটি চালুর চেষ্টা করেন, তবে তা ভালো উদ্যোগ।”
এখন পলাশবাড়ির বাসিন্দারা চাইছেন, স্রেফ রাজনীতির দড়ি টানাটানিতে যেন সরকারি সম্পদ নষ্ট না হয়। দ্রুত এই ভবনটি চালু হলে জমি-জমা সংক্রান্ত কাজের জন্য গ্রামবাসীদের আর পঞ্চায়েত কার্যালয়ে ভিড় করতে হবে না।
