একাধিক সোনার দোকানে রাতভর তল্লাশি
নিউজ ইউএপি ডিজিটাল ডেস্ক | কলকাতা, ২৫ শে এপ্রিল ২০২৬ঃ-কিশনগঞ্জ: কিশনগঞ্জের চেনা ‘সোনার পট্টি’ থেকে কলকাতার বউবাজার— নামী অলঙ্কার ব্যবসায়ীর একাধিক সোনার দোকানে হানা দিল আয়কর দপ্তর। শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে শুরু হওয়া এই তল্লাশি অভিযান শনিবারও জারি রয়েছে। কর ফাঁকি ও আর্থিক লেনদেনে অস্বচ্ছতার অভিযোগে এই ম্যারাথন অভিযানে রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে স্বর্ণ ব্যবসায়ী মহলে। সূত্রের খবর, শুধুমাত্র কিশনগঞ্জ নয়, এই ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের কলকাতার বউবাজার ও রবীন্দ্র সরণির শোরুম এবং অফিসেও একই কায়দায় তল্লাশি চালাচ্ছেন আধিকারিকরা। এছাড়া মহারাষ্ট্র-কেন্দ্রিক এই প্রতিষ্ঠানের ভিন রাজ্যের বিভিন্ন শাখাতেও আয়কর হানা চলছে। কিশনগঞ্জ ও কলকাতার বউবাজারের কারখানাতেও চলছে বিশেষ তল্লাশি। আয়কর দপ্তর সূত্রের খবর, কিশনগঞ্জের জুয়েলার্সে গত কয়েক বছরের কেনাবেচার নথিপত্র, কাঁচা বিল ও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের বিস্তারিত তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানের বাস্তবিক কেনাবেচার সঙ্গে দাখিল করা নথিপত্রের হিসাবে বিরাট ফারাক পাওয়া গিয়েছে। ইতিমধ্য়েই শোরুমের কম্পিউটার সিস্টেম, হার্ড ডিস্ক এবং অন্যান্য ডিজিটাল সরঞ্জাম সিজ (Seize) করেছেন আধিকারিকরা। অভিযান চলাকালীন শুক্রবার রাত থেকে কিশনগঞ্জের শোরুমের সামনে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। বাইরে সাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ। তবে এই অভিযান নিয়ে আয়কর দফতরের আধিকারিকরা এখনও সংবাদমাধ্যমের কাছে মুখ খোলেননি। জানানো হয়েছে, পুরো প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই বিস্তারিত জানানো হবে।
অন্যদিকে, প্রতিষ্ঠানের মালিক রাজেন্দ্র ভোঁসলের পক্ষ থেকেও এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। দীর্ঘদিন ধরেই কিশনগঞ্জ এলাকাটি সোনা ও মূল্যবান ধাতুর বেআইনি কারবারের করিডর হিসেবে পরিচিত। সেই প্রেক্ষাপটে এই নামী প্রতিষ্ঠানের ওপর আয়কর হানা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সোনা, হীরা ও জড়োয়া গয়নার এই নামী বিপণন সংস্থার বিরুদ্ধে কর চুরির প্রমাণ মিললে বড়সড় ব্যবস্থা নিতে পারে সংশ্লিষ্ট দপ্তর।
ভোট মিটতেই নজরদারিতে কি ঢিলেমি?
ফালাকাটায় হাতির তাণ্ডবে ভাঙল দোকান, তছনছ ভুট্টা খেত

ফালাকাটা: ভোটের দিন পর্যন্ত বন দপ্তরের তৎপরতায় বুনো হাতির আনাগোনা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে ছিল। কিন্তু নির্বাচন মিটতেই ছবিটা বদলে গেল ফালাকাটায়। শুক্রবার রাতে ফালাকাটার খাউচাঁদপাড়া ও বংশীধরপুর গ্রামে দাঁতাল হাতির তাণ্ডবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বন দপ্তরের নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা। শুক্রবার রাতে জলদাপাড়া জঙ্গল থেকে একটি দাঁতাল হাতি খাউচাঁদপাড়া গ্রামে ঢুকে পড়ে। প্রথমে ভুট্টা খেতের ক্ষতি করার পর হাতিটি চড়াও হয় শংকর কার্জি নামে এক ব্যক্তির মুদি দোকানে। মালিক রাতে দোকানে না থাকায় বড়সড় বিপদ এড়ানো গেলেও, হাতিটি দোকানের পাকা দেওয়াল ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়। ভেতরে থাকা চাল ও ডাল সাবাড় করার পাশাপাশি অন্যান্য সামগ্রী তছনছ করে দেয় দাঁতালটি। এছাড়া পার্শ্ববর্তী এলাকার একটি কলা বাগানও লন্ডভন্ড করেছে হাতিটি।
পরে বনকর্মীরা এসে হাতিটিকে জঙ্গলে ফেরত পাঠান। একই রাতে বংশীধরপুর গ্রামেও একটি দলছুট হাতি ঢুকে পড়লে আতঙ্ক ছড়ায়। বাসিন্দারা সার্চলাইট জ্বালিয়ে হাতিটিকে তাড়ানোর চেষ্টা করেন। সেখানেও বেশ কিছু ভুট্টা খেতের ক্ষতি হয়েছে। খবর পেয়ে বনকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে হাতিটিকে জঙ্গলে তাড়িয়ে দেন। গ্রামের মানুষের দাবি, নির্বাচন কমিশনের কড়া নির্দেশে ভোটের দিন পর্যন্ত বনকর্মীদের যে সক্রিয়তা ছিল, ভোট মিটতেই তাতে ঢিলেমি দেখা দিয়েছে। এই নজরদারির অভাবেই হাতি লোকালয়ে ঢুকছে। যদিও জলদাপাড়া বন দপ্তর এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। বন দপ্তরের দাবি, নজরদারিতে কোনও খামতি নেই। শুক্রবার রাতের বৃষ্টির কারণে এবং গ্রামজুড়ে বিঘার পর বিঘা ভুট্টা খেত থাকায় হাতিকে দ্রুত চিহ্নিত করতে সমস্যা হচ্ছে। তবে ক্ষতিগ্রস্তদের সরকারি নিয়ম অনুযায়ী দ্রুত ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
গরু চোর সন্দেহে গণপিটুনি শিলিগুড়িতে!
খুঁটিতে বেঁধে মারধরে মৃত ১, এলাকা জুড়ে তীব্র উত্তেজনা

শিলিগুড়ি: গরু চোর সন্দেহে দুই তরুণকে খুঁটিতে বেঁধে গণপিটুনির ঘটনায় রণক্ষেত্রের চেহারা নিল শিলিগুড়ির অদূরে উত্তর একতিয়াশাল এলাকা। উন্মত্ত জনতার মারে মৃত্যু হয়েছে এক তরুণের, অন্যজন আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পরিস্থিতির সামাল দিতে মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার ভোরে উত্তর একতিয়াশাল এলাকায় দুই তরুণকে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরি করতে দেখেন বাসিন্দারা। অভিযোগ, তাঁরা একটি গরু নিয়ে এলাকা থেকে পালানোর চেষ্টা করছিলেন। স্থানীয়রা তাঁদের পিছু ধাওয়া করলে ওই দুই তরুণ হায়দারপাড়া মার্কেট কমপ্লেক্সের দিকে পালিয়ে যান। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। হায়দারপাড়া বাজার সংলগ্ন এলাকা থেকেই তাঁদের পাকড়াও করেন উত্তেজিত জনতা।
অভিযোগ, পাকড়াও করার পর ওই দুই তরুণকে ফের উত্তর একতিয়াশালে ফিরিয়ে নিয়ে আসা হয়। সেখানে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটিতে বেঁধে তাঁদের ওপর চলে অকথ্য অত্যাচার। দীর্ঘক্ষণ ধরে চলে গণপিটুনি। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় আশিঘর ফাঁড়ির পুলিশ। পুলিশ রক্তাক্ত অবস্থায় দুই তরুণকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা একজনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। অন্যজনের অবস্থাও অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। এই ঘটনার পর উত্তর একতিয়াশাল এলাকায় চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অভিযোগে পুলিশ ইতিমধ্যেই কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে। আশিঘর ফাঁড়ির পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযুক্তদের শনাক্ত করতে তল্লাশি চলছে। এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে পুলিশি টহলদারি বাড়ানো হয়েছে। শহর সংলগ্ন এলাকায় এভাবে গণপিটুনির ঘটনায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও আইনের শাসন নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
