বোনাস ও বকেয়া মজুরির দাবি, টানা ৫ ঘন্টা জাতীয় সড়ক অবরোধ শ্রমিকদের

নিউজ ইউ এ পি ডিজিটাল ডেস্ক, ২৪ শে সেপ্টেম্বর,২০২৫ : ওদলাবাড়ি: বকেয়া রয়েছে ৪টি পাক্ষিক হাজিরা, তার উপরে ২০ শতাংশ হারে বোনাস দেওয়া নিয়ে টালবাহানা করছেন বাগান কর্তৃপক্ষ। ফলে টানা ৫ ঘন্টা ১৭ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখালেন জলপাইগুড়ির বাগরাকোট চা বাগানের শ্রমিকরা।
বাগান কর্তৃপক্ষের দাবি, শ্রমিকদের ১০ শতাংশ হারে বোনাস দেওয়ার কথা জানানো হয়েছিল, বাকি ১০ শতাংশ হোলির মধ্যে ২ দফায় মিটিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। কিন্তু শ্রমিকরা তা মানতে নারাজ। এদিন দীর্ঘক্ষণ অবরোধ চলার পরও কোনও সরকারি আধিকারিক শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলতে আসেননি। পরে ফোনে শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেন মালবাজারের অ্যাসিস্ট্যান্ট লেবার কমিশনার। তিনি প্রথমে ১০ শতাংশ বোনাস ও দ্বিতীয় দফায় পুজো ও দীপাবলির মাঝে বকেয়া ২ টি পাক্ষিক হাজিরা শ্রমিকদের দেওয়ার প্রস্তাব দেন। কিন্তু সেই প্রস্তাব প্রত্যাখান করেছেন শ্রমিক নেতারা। তাদের হুঁশিয়ারি ১০ শতাংশ বোনাসের সঙ্গেই বকেয়া ২ টি পাক্ষিক হাজিরা মিটিয়ে দিতে হবে। আগামীকাল সকাল ৮ টা পর্যন্ত সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করবেন তাঁরা। না হলে আগামীকাল ফের অবরোধ হবে। প্রয়োজনে রেল রোকোও হতে পারে বলে জানিয়েছেন শ্রমিকরা।

থিমে রেডিওর নস্টালজিয়া

শিলিগুড়ি: টেলিভিশন বা টিভির দৌরাত্ম্য তখনও শুরু হয়নি, বিশ্বজগতের খবর জানতে ভরসা বেতার বা আকাশবাণী। ‘মহিলা মহল’ থেকে ‘গীতমালা’, ‘শিশুকিশোর আসর’ থেকে ‘আজ রাতে’, তখন রেডিও-র নব ঘোরাতে অভ্যস্ত বাঙালি। দেবদুলাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখে সংবাদ পাঠ শোনার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে থাকা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য। চুনী-বলরামদের যুগ ছাপিয়ে কার্তিক শেঠ অথবা ভাস্কর গঙ্গোপাধ্যায়ের লড়াই শোনার জন্যও তো বিকেলের অপেক্ষা ছিল ফুটবলপ্রেমী বাঙালির। সময়ের সঙ্গে সেই সুদিন এখন অতীত। প্রবীণরা বলেন, ‘কানে শুনলেও, তা ছিল চোখে দেখার থেকেও ভালো।’
এখনও যে রেডিও বাজে না, তা নয়। হাতেগোনা কিছু বাড়িতে। তবে নির্দিষ্ট একটি দিন ‘মহালয়া’র জন্য। পিতৃপক্ষের অবসান এবং দেবীপক্ষের সূচনার আগে নির্দিষ্ট জায়গা থেকে রেডিও নীচে নামে। ঝুল, নোংরা পরিষ্কার হয়। ঝেড়েমুছে ব্যাটারির পরিবর্তন করা হয়। মহালয়ার পর আবার বছরভর ধুলো জমে। রেডিও নিঃসন্দেহে প্রবীণদের কাছে আবেগ। রেডিও প্রসঙ্গ উত্থাপন করলে তাই অনেকেই নস্টালজিক হয়ে পড়েন। এবার পুজোয় এই নস্টালজিয়াকেই ধরতে চাইছে শিলিগুড়ির সুকান্ত স্পোর্টিং ইউনিয়ন ক্লাব। তাই ৪৬তম বর্ষের থিম ‘স্বর্ণযুগের গান, রেডিও ছিল প্রাণ’। উদ্যোক্তারা বলছেন, দেবী দর্শনে প্রচুর প্রবীণ মানুষ আসেন। তাঁদের অতীত ফিরিয়ে দিতেই এই প্রচেষ্টা। নতুন প্রজন্মকে অতীত সম্পর্কে অবহিত করার প্রয়াস ।
মহালয়া-বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র-দুর্গাপুজো, বাঙালির কাছে সমার্থক শব্দ। তাই পুজোর থিম যখন রেডিওকেন্দ্রিক, তখন তো আর বীরেন্দ্রকৃষ্ণকে বাইরে রাখা যায় না, রাখার চেষ্টাও করেননি পুজো উদ্যোক্তারা। মণ্ডপের প্রবেশপথেই থাকবে বিশোলাকার একটি রেডিও এবং তার নীচে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের ছবি। প্লাইউড, বাঁশ সহ বিভিন্ন জিনিস দিয়ে তৈরি হচ্ছে রেডিওটি। দেখে মনে হবে সত্যিকারের রেডিও। তবে মণ্ডপসজ্জাতে ব্যবহার করা হচ্ছে একাধিক আসল রেডিও। মণ্ডপের ভেতর একটি গ্রামোফোন ও বিভিন্ন রেকর্ড। স্বর্ণযুগের বিভিন্ন গানের কলি ফুটে উঠবে মণ্ডপের ভিতর। যা চোখে পড়তেই, মন গেয়ে উঠতে বাধ্য, ‘এই পথ যদি না শেষ হয়…’ অথবা ‘এমন একটি ঝিনুক খুঁজে পেলাম না…’। স্মৃতিতে ফিরে আসবেন সন্ধ্যা-আরতি-প্রতিমা-কিশোর-হেমন্ত-মান্নারা।
থিম পরিচালনায় রয়েছেন পুজো কমিটির কোষাধ্যক্ষ রানা সাহা। তিনি বললেন, ‘শুধু স্বর্ণযুগের গান নয়, মণ্ডপে পা রেখে শোনা যাবে, বিভিন্ন কমেন্ট্রি এবং সংবাদ পাঠ। ৮ লক্ষ টাকার পুজোর উদ্বোধন চতুর্থীতে। মণ্ডপের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতিমা গড়েছেন শিলিগুড়ির মৃৎশিল্পী দেবেশ পাল।
মণ্ডপের কাজ দেখছিলেন স্থানীয় লক্ষ্মণ সাহা। বললেন, ‘ছোটবেলা থেকে এই পুজো দেখছি। রেডিও নিয়ে যে থিম হতে পারে, তেমন ধারণাই ছিল না। কয়েকদিন ধরে কাজ দেখছি। শিল্পীদের দক্ষতায় আমি মুগ্ধ। মা আসছেন, তাই মনটাও বেশ ভালো থাকছে আজকাল।’