উত্তরে অধিকাংশ পুরোনো বিধায়কে আস্থা
বিধায়ক গোপাল সাহা ও শ্রীরূপা মিত্র চৌধুরীর বিরুদ্ধে সংগঠনের ভেতরে ক্ষোভ থাকায় মালদা এবং ইংরেজবাজারের মতো দুই গুরুত্বপূর্ণ আসনে নতুন মুখ দেখা গেলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। একইভাবে দক্ষিণ দিনাজপুরে সুকান্ত মজুমদারের খাসতালুক গঙ্গারামপুর এবং তপন আসনেও প্রার্থী বদলের প্রবল সম্ভাবনা। টিকিট নিয়ে অভিমানে ওই জেলার সভাপতি শুক্রবারই ইস্তফা দেওয়ায় জলঘোলা শুরু হয়েছে।
১৪ই মার্চ,২০২৬ :-নিউজ ইউএপি ডিজিটাল ডেস্ক,:-শিলিগুড়ি: বাংলায় ভোট ঘোষণা যে কোনওদিন হয়ে যেতে পারে। তড়িঘড়ি ঘর গোছাতে ইতিমধ্যে রাজ্যের প্রায় ১৪০ আসনে প্রার্থীদের নামে প্রাথমিক সিলমোহর দিয়েছে বিজেপির সর্বভারতীয় নেতৃত্ব। উত্তরবঙ্গ বরাবরই দলের তুরুপের তাস। ৫৪টি আসনের এই অঞ্চলকে দল নিজেদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে দেখে বলে প্রার্থীপদে ঢালাও বদল আসছে না।
উত্তরবঙ্গের অধিকাংশ বিধায়কদের আবার টিকিট দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। শিলিগুড়ির বিধায়ক শংকর ঘোষ সুরে বলছেন, ‘এত প্রলোভন সত্ত্বেও যারা দল ছাড়েনি, তারা তো পুরস্কার পাওয়ারই যোগ্য।’
তবে যেসব আসনে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব মাথাচাড়া দিয়েছে, সেখানে প্রার্থী বদলের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। যদিও নয়াদিল্লিতে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির গত দু’দিনের বৈঠকে পরিষ্কার করে দেওয়া হয়েছে, দাক্ষিণ্য নয়, জেতার ক্ষমতাই প্রার্থী বাছাইয়ের প্রধান মাপকাঠি।
বিধায়ক গোপাল সাহা ও শ্রীরূপা মিত্র চৌধুরীর বিরুদ্ধে সংগঠনের ভেতরে ক্ষোভ থাকায় মালদা এবং ইংরেজবাজারের মতো দুই গুরুত্বপূর্ণ আসনে নতুন মুখ দেখা গেলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। একইভাবে দক্ষিণ দিনাজপুরে সুকান্ত মজুমদারের খাসতালুক গঙ্গারামপুর এবং তপন আসনেও প্রার্থী বদলের প্রবল সম্ভাবনা। টিকিট নিয়ে অভিমানে ওই জেলার সভাপতি শুক্রবারই ইস্তফা দেওয়ায় জলঘোলা শুরু হয়েছে।
কার্সিয়াং আসনেও নতুন মুখ আনার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। কোচবিহারের রাজনীতিতে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক অন্যতম নাম। তাঁকে টিকিট দেওয়ার সিদ্ধান্ত এখনও ঝুলে আছে। বিজেপির অভ্যন্তরীণ সূত্রে খবর, নিশীথ নিজে মাথাভাঙ্গা বা নাটাবাড়িতে লড়তে আগ্রহী। বয়সজনিত কারণে যে বিধায়কদের মনোনয়ন নাও দেওয়া হতে পারে, তাঁদের অন্যতম নাটাবাড়ির মিহির গোস্বামী।
নাটাবাড়ি ছাড়াও ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি, কোচবিহার দক্ষিণ ইত্যাদি আসনে বয়সজনিত কারণে এখনকার বিধায়করা মনোনয়নে বাদ পড়তে পারেন। যদিও দলের এক সাংসদ জানালেন, কোনও বিধায়কের জনপ্রিয়তা বেশি থাকলে শেষমুহূর্তে টিকিটের দৌড়ে পাশ করেও যেতে পারেন। পারফরমেন্সের বিচারে দলে পিছিয়ে আছেন মাথাভাঙ্গা, ফাঁসিদেওয়া, গাজোল, কালিয়াগঞ্জ ইত্যাদি কেন্দ্রের বিধায়করা। সেই আসনগুলিতে নতুন মুখের চিন্তাভাবনা রয়েছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের।
বিজেপি সূত্রে খবর, মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি, তুফানগঞ্জ, ফালাকাটা, উত্তর দিনাজপুরের আসনে প্রার্থী বদলের সম্ভাবনা কম। মাটিগাড়া-নকশালবাড়ির বিধায়ক আনন্দময় বর্মন গত বিধানসভা নির্বাচনে অন্য বিজেপি বিধায়কদের তুলনায় সবচেয়ে বেশি ভোটে জিতেছিলেন। রাজবংশী সমাজে তিনি পরিচিত মুখ এবং সংঘ ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত।
রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক বাপি গোস্বামী বলেন, ‘কেন্দ্রীয় এবং রাজ্য নেতৃত্ব প্রার্থী ঠিক করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। কারা টিকিট পাবেন, তা আগাম বলা যাচ্ছে না। কিছুটা আভাস মিললেও বাইরে বলা যাবে না।’ গত বিধানসভায় উত্তরের ৫৪টির মধ্যে বিজেপি ৩০ আসনে জিতলেও এখন ২৪ জন রয়েছেন। বাকিদের কেউ দল বদল করেছেন, নয়তো উপনির্বাচনে হেরেছেন।
বিজেপির শীর্ষস্তরের নেতাদের বাছাইয়ের পর শেষমুহূর্তে দরকার হবে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের সবুজ সংকেত। দলের তরফে স্বচ্ছ ভাবমূর্তিকেই প্রধান প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। বিবেচনায় রয়েছে নির্বাচনি এলাকায় প্রার্থীর গ্রহণযোগ্যতা, মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ, কাজের খতিয়ান এবং আরও কয়েকটি দিক। দিল্লি স্পষ্ট করে দিয়েছে, লবি বা ব্যক্তিগত পছন্দ নয়, যে প্রার্থী তৃণমূলকে টেক্কা দিয়ে আসন ছিনিয়ে আনতে পারবেন, তাঁকেই দেওয়া হবে টিকিট।
দিল্লির বৈঠকের সিদ্ধান্তের আভাস উত্তরবঙ্গের বিধায়কদের একাংশ পেয়ে কলকাতা ছোটাছুটি শুরু করেছে। এক বিধায়ক তড়িঘড়ি কলকাতায় গিয়ে এক দাপুটে শীর্ষ নেতার দ্বারস্থ হয়েছেন। নাম না প্রকাশের শর্তে রাজ্যের এক নেতা বলেন, ‘বেশ কয়েকজন বিধায়ক টিকিট নাও পেতে পারেন। তবে কিছু বিধায়ককে শেষপর্যন্ত পাশ মার্কস দিয়ে টিকিট দেওয়া হতে পারে।’
