২১ জুলাইয়ের সভায় যোগ দিতে কলকাতায় আসছেন সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব। বিকেলে সভাস্থল পরিদর্শনে এসে মমতা বলেন, ‘‘আমি অখিলেশকে আমন্ত্রণ করেছি। আবহাওয়া ভাল থাকলে অখিলেশ আসবেন।’’ উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ শেষ পর্যন্ত ধর্মতলার মঞ্চে এলে তৃণমূলের এ বারের কর্মসূচি জাতীয় স্তরেও ‘রাজনৈতিক বার্তা’ দেবে বলে মনে করছেন অনেকে। তা ছাড়া, কংগ্রেসকে কিছুটা ‘এড়িয়ে’ আঞ্চলিক দলগুলির সঙ্গে সমন্বয় রাখার ব্যাপারে তৃণমূল যে ধারাবাহিকতা দেখাচ্ছে, সে দিক থেকেও অখিলেশের উপস্থিতি ‘তাৎপর্যপূর্ণ’ হবে।
সৌমজিত দে , নিউজ ইউ এ পি ডিজিটাল ডেস্ক :–লোকসভা ভোটে তৃণমূল ২৯টি আসন পেলেও দেখা গিয়েছে শহরাঞ্চলে শাসকদল ‘ধাক্কা’ খেয়েছে। রাজ্যের ১২১টি পুরসভার মধ্যে ৬৯টিতে এগিয়ে রয়েছে বিজেপি। কলকাতা, আসানসোল, শিলিগুড়ির মতো ‘কর্পোরেশন’ এলাকাতেও তৃণমূল অনেক ওয়ার্ডে পিছিয়ে। শহরাঞ্চলের ক্ষতে প্রলেপ দিতে ইতিমধ্যেই প্রশাসনিক স্তরে নানা ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করেছেন ‘প্রশাসক’ মমতা। অনেকের মতে, প্রশাসনের পাশাপাশি সংগঠনের বিষয়েও রবিবারের সভা থেকে বার্তা দিতে পারেন তিনি।তৃণমূলের সেনাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতি বা অনুপস্থিতিও নজরে থাকবে রবিবারের সভায়। লোকসভা ভোটের পর চিকিৎসার জন্য ‘ছোট বিরতি’ নিয়েছিলেন অভিষেক। চিকিৎসা করিয়ে শুক্রবারেই আমেরিকা থেকে কলকাতায় ফিরেছেন তৃণমূলের সেনাপতি।
যদিও তার পর শনিবার রাত পর্যন্ত অভিষেককে ২১ জুলাইয়ের প্রস্তুতিপর্বে কোনও ভূমিকাতেই দেখা যায়নি। রবিবার তিনি কী করবেন, তা নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে তৃণমূলের মধ্যে। রবিবার সভায় অভিষেককে কী ভূমিকায় দেখা যায়, বক্তৃতা করলে তার অভিমুখ কী হয় সে সব দিকেও নজর থাকবে।শনিবার দুপুরেই জানা গিয়েছিল, মমতার আমন্ত্রণে ২১ জুলাইয়ের সভায় যোগ দিতে কলকাতায় আসছেন সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব। বিকেলে সভাস্থল পরিদর্শনে এসে মমতা বলেন, ‘‘আমি অখিলেশকে আমন্ত্রণ করেছি। আবহাওয়া ভাল থাকলে অখিলেশ আসবেন।’’ উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ শেষ পর্যন্ত ধর্মতলার মঞ্চে এলে তৃণমূলের এ বারের কর্মসূচি জাতীয় স্তরেও ‘রাজনৈতিক বার্তা’ দেবে বলে মনে করছেন অনেকে। তা ছাড়া, কংগ্রেসকে কিছুটা ‘এড়িয়ে’ আঞ্চলিক দলগুলির সঙ্গে সমন্বয় রাখার ব্যাপারে তৃণমূল যে ধারাবাহিকতা দেখাচ্ছে, সে দিক থেকেও অখিলেশের উপস্থিতি ‘তাৎপর্যপূর্ণ’ হবে।
মুম্বইয়ে মুকেশ অম্বানীর পুত্র অনন্ত অম্বানীর বিবাহ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়ে উদ্ধব ঠাকরে এবং শরদ পওয়ারের সঙ্গে দেখা করেছিলেন মমতা। মুম্বইয়ে অখিলেশের সঙ্গেও দেখা হয়েছিল মমতার। তবে তাঁদের পৃথক কোনও বৈঠক হয়নি। সেখানেই অখিলেশকে ২১ জুলাইয়ের সভায় আসার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন তৃণমূলের সর্বোচ্চ নেত্রী।বহুবার ২১ জুলাইয়ের মঞ্চে অন্যান্য দলের নেতা থেকে চিত্রতারকা বা সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রের কৃতীদের তৃণমূলে যোগ দিতে দেখা গিয়েছে। লোকসভা ভোটের পরবর্তী পর্যায়ে এ বারের ২১ জুলাইয়ে যোগদান নিয়ে তৃণমূলের ভিতরে-বাইরে অনেক রকমের জল্পনা রয়েছে। ‘উল্লেখযোগ্য’ কেউ তৃণমূলে শামিল হন কি না, রবিবার তা-ও দেখার।একুশের মঞ্চ থেকে দলের নেতাকর্মীদের জন্য জরুরি বার্তা দেবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বুঝিয়ে দেবেন, দলে আত্মতুষ্টির কোনও জায়গা নেই। লোকসভা ভোটে জয়ের পরে ঢিলেঢালা মনোভাব কাম্য নয়।
সময় এখন সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করে তোলার। জয় অবশ্যই উপভোগ করার। কিন্তু একটা ভোটে জিতে সব পেয়ে গেছি মনোভাব নিয়ে বসে থাকলে ভুল হবে। দলের শীর্ষ নেতৃত্বর বার্তা থাকতে চলেছে ২১ জুলাইয়ের মঞ্চে। ২৪ এর ২১ জুলাই থেকে ২৬ লড়ার প্রস্তুতি শুরু হবে।অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস ঝেড়ে ফেলে সাংগঠনিক কাঠামো আরও শক্তিশালী করার বার্তা দেবেন তৃণমূল নেতৃত্ব। দলকে আরও বেশি করে জনমুখী করার বার্তা। পারফরম্যান্স দেখেই পদ। পুরানো-নতুন ভারসাম্য রেখেই চলতে হবে।
জাতীয় রাজনীতিতে আরও বেশি করে তৃণমূল কংগ্রেসকে প্রাসঙ্গিক করার বার্তাও দেওয়া হবে।দলীয় শৃঙ্খলাই শেষ কথা। দলের সিদ্ধান্ত না মানলে কড়া ব্যবস্থা গ্রহণের ইঙ্গিত। সাম্প্রতিক সময়ে জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, বাঁকুড়ার ঘটনা তার প্রমাণ। লোকসভায় একাধিক আসন পেয়ে ঘরে বসে থাকলাম তা চলবে না। দল একাধিক কর্মসূচী নিচ্ছে। তার পাশাপাশি স্থানীয় ভাবে জনসংযোগ করায় কোনও ফাঁকি দেওয়া যাবে না। পারফরম্যান্স শেষ কথা। পদ আঁকড়ে বসে থাকলাম, আর ফল দিতে পারলাম না, এটা চলবে না। পঞ্চায়েত, পুরসভা থেকে সাংগঠনিক নেতা। প্রত্যেকে কে কী কাজ করছেন? তার মূল্যায়ন করবে দল।নেতা ধরে পদোন্নতি নয়৷ কাজ হবে দলীয় পদোন্নতি ও ভোটে লড়ার মাপকাঠি। বেশি করে সাংগঠনিক কাজে ব্যস্ত থাকতে হবে। দলের কথা দলের অন্দরেই বলতে হবে। সাংসদ হয়ে গেলাম মানে দিল্লি অভিমুখে চলে গেলাম, তা নয়৷ নিজের সংসদীয় এলাকায় নিয়মিত সময় দিতে হবে। জাতীয় রাজনীতির প্রেক্ষাপটে বিজেপির বিরুদ্ধে সুর আরও চড়াবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জোটে থাকার দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে তৃণমূল। কিন্তু কোনও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের দাদাগিরি না-পসন্দ। বিভাজনের রাজনীতি নয়, উন্নয়নের অস্ত্রেই বাজিমাত করা হবে।
