মঙ্গলবার কলেজের পরিস্থিতি ছিল থমথমে। ১০ শতাংশের মতো পড়ুয়া এদিন কলেজে এসেছিলেন বলে জানালেন কলেজের অধ্যক্ষ ডঃ দেবাশিস চট্টোপাধ্যায়। তবে আতঙ্কের কারণেই যে এদিন ছাত্রছাত্রীদের সংখ্যা কম ছিল তা অধ্যক্ষের কথাতেই স্পষ্ট। তিনি আরও বলেন, ‘সোমবারের ঘটনার বিষয়ে বুধবার পরিচালন সমিতির তরফে একটি বৈঠক ডাকা হয়েছে। তবে কলেজের প্রতিটি বিভাগের ক্লাস স্বাভাবিক রয়েছে।’
নিউজ ইউ এ পি ডিজিটাল ডেস্ক, তুফানগঞ্জ,১৯ নভেম্বর ২০২৫:- হাইকোর্টের রায়ে রাজ্যের কলেজগুলির ইউনিয়ন রুম বন্ধ। একই ছবি তুফানগঞ্জ কলেজেও। কিন্তু ইউনিয়ন রুমের দরজায় তালা ঝুললেও কলেজের কমন রুমই এখন হয়ে উঠেছে অলিখিত ইউনিয়ন রুম। দেখা যাচ্ছে, ছাত্র নেতারা সেখানে বসে দিব্যি আড্ডা দেন। নানারকম কাজকর্মও করেন। এমনকি অহরহ সেখানে ঢুকছে বহিরাগতরাও। সোমবার কলেজে ছাত্র নিগ্রহের ঘটনা সামনে আসতেই এবার কলেজের কমন রুমের ব্যবহার নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠছে। অন্যদিকে, ফের একবার কলেজে অশান্তির পরিবেশ ফিরে আসায় আতঙ্কে ভুগছেন পড়ুয়ারা। এমন পরিস্থিতিতে কলেজে শান্তির পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে এবিষয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ চাইছেন পড়ুয়া থেকে অভিভাবক সকলেই।
মঙ্গলবার কলেজের পরিস্থিতি ছিল থমথমে। ১০ শতাংশের মতো পড়ুয়া এদিন কলেজে এসেছিলেন বলে জানালেন কলেজের অধ্যক্ষ ডঃ দেবাশিস চট্টোপাধ্যায়। তবে আতঙ্কের কারণেই যে এদিন ছাত্রছাত্রীদের সংখ্যা কম ছিল তা অধ্যক্ষের কথাতেই স্পষ্ট। তিনি আরও বলেন, ‘সোমবারের ঘটনার বিষয়ে বুধবার পরিচালন সমিতির তরফে একটি বৈঠক ডাকা হয়েছে। তবে কলেজের প্রতিটি বিভাগের ক্লাস স্বাভাবিক রয়েছে।’
গত সোমবারই বহিরাগত ছাত্রের হাতে শারীরিক নিগ্রহের শিকার হন কলেজের ৩ পড়ুয়া। পরিস্থিতি এতটা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে ঘটনাস্থলে তুফানগঞ্জ থানার পুলিশ এসে পৌঁছোয়। পরবর্তীতে পুলিশ একজনকে আটক করে নিয়ে যায়। এই ঘটনার পরই আহত ছাত্রকে হাসপাতালে দেখতে গিয়েছিল জেলা এবিভিপি নেতৃত্ব।
এনিয়ে ছাত্র নেতা দীপ্ত দে বলেন, ‘ইউনিয়ন রুম বন্ধ হলে টিএমসিপি-র আয়ের উৎস বন্ধ হয়ে যাবে। তাই আইনকে একরকম বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বর্তমানে কমন রুমে বসেই নানা কর্মকাণ্ড চলছে।’ যদিও দীপ্ত-র অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন টিএমসিপি-র জেলা সভাপতি অনির্বাণ সরকার। তাঁর কথায়, ‘কমন রুমে অলিখিত ইউনিয়ন রুম থাকলে এতদিন কেউ তা অধ্যক্ষকে জানাল না কেন? এধরনের কোনও অভিযোগ আমাদের কাছে আসেনি।’
কলেজ সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবারের ঘটনা নতুন কিছু নয়। এর আগেও একই ঘটনার সাক্ষী থেকেছেন কলেজের পড়ুয়া থেকে অধ্যাপকরা। কখনও কলেজের কাজকর্ম বন্ধ রেখে লোডশেডিং করে রাখা হয়েছে। আবার কখনও প্রকাশ্য ক্যাম্পাসে হেনস্তার শিকার হয়েছেন পড়ুয়া। সোমবার ফের সেরকম ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন নিয়মিত কলেজে আসা পড়ুয়ারা। এব্যাপারে চতুর্থ সিমেস্টারের ছাত্রী সুমনা পালের কথায়, ‘চিলাখানা থেকে নিয়মিত কলেজে আসি। চোখের সামনে যে ধরনের ভয়ংকর মারপিট দেখি, তাতে আর কলেজে আসতে ইচ্ছে করে না। এদিকে, নম্বরের তাগিদে ক্লাসে না এলেও চলে না। এক বছর ধরে এরকম অবস্থাই দেখে আসছি।’ তাই কলেজে কবে শান্তি ফিরে আসবে? প্রশ্নটা সকলেরই।
প্রথম বর্ষের আরেক পড়ুয়ার অভিভাবক দীপঙ্কর দত্তের কথায়, ‘ছোটবেলায় আমরা কলেজটাকে যেভাবে দেখেছি, তার কিঞ্চিৎ অংশও বর্তমানে নেই। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যদি নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে তাহলে তার চাইতে আক্ষেপের আর কিছু থাকতে পারে না।’
