নিউজ ইউএপি ডিজিটাল ডেস্কঃ চব্বিশের লোকসভা ভোটের আগে বিরোধীদের একজোট করার চেষ্টা যাঁরা শুরু করেছিলেন তাঁদের মধ্যে অন্যতম নাম ছিল মমতা। বিজেপি বিরোধী দলের নেতানেত্রীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে দেখা গেছে তৃণমূল সুপ্রিমোকে। এই ‘মহাজোট’-এ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবস্থান খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করে রাজনৈতিক মহল।পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে প্রচার সেরে ফেরার পথে কোমরে ও বাঁ হাঁটুতে চোট পেয়েছিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । দিন কয়েক আগে অস্ত্রোপচারও হয়েছিল তাঁর। এমন অবস্থায়, বেঙ্গালুরুতে বিরোধী শিবিরের বৈঠকে যোগ দিতে গিয়েছেন মমতা। যদিও চিকিৎসকেরা মমতাকে পরামর্শ দিয়েছিলেন যেন তিনি ভিড় এড়িয়ে চলেন, নৈশ ভোজে না যান।
কিন্তু সোমবার রাতে বিরোধী শিবিরের নৈশভোজে দেখা গেল এক ‘শক্তিশালী’ ছবি। চিকিৎসকদের আপত্তি উড়িয়ে মমতা এলেন নৈশভোজে। শুধু তাই নয়, কংগ্রেস নেত্রী সনিয়া গান্ধীর ঠিক পাশের চেয়ারটিই ছিল তৃণমূল সুপ্রিমোর জন্য বরাদ্দ। বেঙ্গালুরু বৈঠকের আগের দিনই মমতা-সনিয়া সৌজন্য সাক্ষাৎ৷ বিজেপি বিরোধী দলগুলির বৈঠকের আগে নৈশভোজে যোগ দিতে ব্যাঙ্গালুরু গিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ সোমবার বিকেলে সেই আগমনের সূত্র ধরেই মমতার সঙ্গে সাক্ষাৎ হল সনিয়া গান্ধির৷ ২০২১ সালের জুলাই মাসের পর ২০২৩ সালের জুলাই মাসে ফের মুখোমুখি হলেন সনিয়া-মমতা৷
এদিন মমতাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান সনিয়া গান্ধি৷ এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভিতরে নিয়ে যান কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া ও সঙ্গে ছিলেন ডি কে শিবকুমার৷ উল্লেখ্য, যে কর্মসূচি রয়েছে, তাতে সোমবার বেঙ্গালুরুতে এই সৌজন্যমূলক সাক্ষাৎকারে যোগ দিলেও নৈশভোজে নাও থাকতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী৷ এখানে বিরোধী দলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে তিনি ফিরে যাবেন৷ তৃণমূলের হয়ে নৈশভোজে থাকবেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও ডেরেক’ও ব্রায়েন৷
২৩ জুন পাটনায় বিরোধী বৈঠকেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন। তবে সেই বৈঠকে ছিলেন না সনিয়া। এসেছিলেন রাহুল গান্ধী। ওই বৈঠকের যত ছবি সামনে এসেছে, প্রায় সব ছবিতেই দেখা গেছে রাহুলের সঙ্গে কিছুটা দূরত্বই রেখেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বেঙ্গালুরুর বৈঠকে প্রথম দিনেই সেই দূরত্ব উধাও। কংগ্রেসের টুইটার হ্যান্ডেলে শেয়ার করা ছবিতে দেখা গেছে, সনিয়া-মমতা পাশাপাশি।
সনিয়ার সঙ্গে মমতার সম্পর্ক খুবই ভাল। রাজনৈতিক মত পার্থক্য থাকলেও কেউ কেউ কাউকেই কখনও ব্যক্তিগত আক্রমণ করেননি। ২০১১ সালে যখন ভোটে জিতে বাংলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার গঠন করলেন, তখনও কংগ্রেস ছিল তাঁর সঙ্গেই। যদিও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই ছবি পাল্টেছে। বাংলায় কংগ্রেসের সঙ্গে এখন আর ‘সুসম্পর্ক’ নেই তৃণমূলের। তাতে কি, সনিয়ার সঙ্গে মমতার সখ্যতা যে এখনও অটুট তা এই ছবি দেখলেই বোঝা যায মঙ্গলবার বিরোধীদের মূল বৈঠক রয়েছে। পাটনার থেকেও এই বৈঠক আরও বড় হতে চলেছে। এখানে ২৬টি বিজেপি বিরোধী রাজনৈতিক দল যোগ দিয়েছে।
সেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতি, সনিয়া-মমতা পাশাপাশি আসা যে জোরালো বার্তা দেবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।সম্প্রতি পঞ্চায়েত নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলায় তুমুল অশান্তির ঘটনা ঘটেছে। সেই ঘটনায় দেখা গেছে, বাম-কংগ্রেস এক জোটে শাসক দল তৃণমূলকে আক্রমণ করছে। পাল্টা তৃণমূলও ছেড়ে কথা বলেনি। কিন্তু বৃহত্তর রাজনৈতিক স্বার্থে বিজেপি বিরোধী বৈঠকে কংগ্রেস-তৃণমূল-সিপিএম পাশাপাশি। ২০২১-এর জুলাই মাসে শেষ বার দিল্লিতে এসে মমতা দশ জনপথে গিয়ে সনিয়ার সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। রাহুল গান্ধিও ছিলেন সেই বৈঠকে। যদিও তৃণমূলের তরফে জানানো হয়েছিল, সব বিরোধীদের বৈঠকে যে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। সেই সিদ্ধান্ত পালন করার ক্ষেত্রে কংগ্রেসের আগ্রহ দেখা যায়নি। এর পরে গোয়া বা মেঘালয়ের বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের প্রার্থী দেওয়া নিয়ে দুই দলের মধ্যে দূরত্ব বাড়ে। তবে এই কর্ণাটক রাজ্যের ভোটেই, কার্যত কংগ্রেসকে সমর্থন জানানোর বক্তব্য উঠে এসেছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গলায়। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে বাংলায় কংগ্রেসের সঙ্গে দূরত্ব থাকলেও, জাতীয় স্তরে দুই রাজনৈতিক দল যে বিজেপি বিরোধিতায় সরব হবে তা বুঝিয়ে দিয়েছে উভয় পক্ষই।
