আজ রূপ চতুর্দশী বা ভূত চতুর্দশী: আলোয় অন্ধকার দূর করার দিন
হিন্দু বিশ্বাস অনুযায়ী, এই দিনে চৌদ্দ জন পূর্বপুরুষ আত্মা পৃথিবীতে ফিরে আসেন তাঁদের বংশধরদের আশীর্বাদ দিতে। তাই সন্ধ্যার পর বাড়িতে চৌদ্দটি প্রদীপ জ্বালানো হয় — দরজার সামনে, তুলসী গাছের পাশে, রান্নাঘরে ও বাড়ির চার কোণায়।
এই প্রদীপ জ্বালানোর মাধ্যমে আত্মার শান্তি ও পারিবারিক মঙ্গল কামনা করা হয়।
নিউজ ইউ এ পি ডিজিটাল ডেস্ক, :-শিলিগুড়ি, ১৯ অক্টোবর:আজ পালিত হচ্ছে রূপ চতুর্দশী, যাকে অনেক জায়গায় ভূত চতুর্দশী নামেও ডাকা হয়। কার্তিক মাসের কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশী তিথিতে এই বিশেষ দিনটি পালিত হয়। দীপাবলি বা কালীপূজার আগের দিন হিসেবে রূপ চতুর্দশী আমাদের সংস্কৃতিতে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।
ধর্মীয় গুরুত্ব
হিন্দু বিশ্বাস অনুযায়ী, এই দিনে চৌদ্দ জন পূর্বপুরুষ আত্মা পৃথিবীতে ফিরে আসেন তাঁদের বংশধরদের আশীর্বাদ দিতে। তাই সন্ধ্যার পর বাড়িতে চৌদ্দটি প্রদীপ জ্বালানো হয় — দরজার সামনে, তুলসী গাছের পাশে, রান্নাঘরে ও বাড়ির চার কোণায়।
এই প্রদীপ জ্বালানোর মাধ্যমে আত্মার শান্তি ও পারিবারিক মঙ্গল কামনা করা হয়।
রূপ ও শুদ্ধতার প্রতীক
“রূপ চতুর্দশী” শব্দের অর্থই হলো — রূপ ও সৌন্দর্য রক্ষা।
এই দিনে সকালে অনেকে তেল মেখে স্নান করেন, শরীর ও মনকে শুদ্ধ করেন, যেন পরদিন দীপাবলি বা কালীপূজায় দেবীর আশীর্বাদ প্রাপ্তি হয়।
চৌদ্দ শাক খাওয়ার প্রথা
এই দিনে চৌদ্দ রকম শাক খাওয়ার প্রথা আছে।
এটি শরীরকে বিশুদ্ধ রাখে ও শীতের আগে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
চৌদ্দ শাকের মধ্যে সাধারণত পলতা, হিঞ্চে, বেতো, কাঁটুশাক, নটেশাক, কলমিশাক, জয়ন্তী, কুচোশাক প্রভৃতি ব্যবহার করা হয়।
আলোয় অন্ধকার দূর করা
রূপ চতুর্দশী আমাদের মনে করিয়ে দেয় —
আলো মানেই আশা, আর প্রতিটি প্রদীপ হলো অন্ধকার দূর করার প্রতীক।
এই দিনটি আমাদের আত্মার শুদ্ধতা, পূর্বপুরুষদের প্রতি শ্রদ্ধা ও শুভ শক্তির আহ্বান শেখায়।
আজকের বার্তা:
অন্ধকার যত গভীরই হোক, একটিমাত্র প্রদীপও আলো ছড়াতে পারে।
এই রূপ চতুর্দশীতে নিজের ভেতরের আলো জ্বালিয়ে দিন। প্রত্যেকে ভালো থাকুন।
