গভীর সমুদ্রে শায়িত থাকা সেই টাইটানিকের ধ্বংসাবশেষ পরিদর্শনে গিয়ে সম্প্রতি টুকরো টুকরো হয়ে যায় ডুবোযান টাইটান। মৃত্যু হয় ডুবোযানের চালক-সহ পাঁচ যাত্রীর। তার পর থেকেই আবার চর্চায় এসেছে টাইটানিক। এই টাইটানিকের ধ্বংসাবশেষ দেখতে গিয়ে সাবমার্শিবল টাইটান পাঁচ জন যাত্রীকে নিয়ে ধ্বংস হয়ে গেল।
নিউজ ইউএপি ডিজিটাল ডেস্কঃ সমুদ্রের ১০ হাজার ফুট নীচে রয়েছে এক অচেনা পৃথিবী। যেখানে দিনরাত্রি, ঋতু পরিবর্তন, আবহাওয়ার পরিবর্তনের প্রায় কোনও প্রভাব নেই।সমুদ্রের তলায় টাইটানিকে বসত করে ‘ভয়ঙ্কর’ সব প্রাণী, ভাঙা জাহাজের লোহা খেয়েই বেঁচে থাকে কেউ! ১৯১২ সালের ১৪ এপ্রিল আটলান্টিকে ডুবে গিয়েছিল টাইটানিক। বিলাসবহুল এই জাহাজ নিয়ে অনেক কাহিনি শোনা যায়। প্রথম যাত্রাতেই ডুবে গিয়েছিল আরএমএস টাইটানিক। জাহাজটি সাউদাম্পটন থেকে নিউ ইয়র্কের পথে পাড়ি দিয়েছিল। জাহাজের নির্মাতা সংস্থার তরফে ঘোষণা করা হয়েছিল, এই জাহাজের ডুবে যাওয়া ‘অসম্ভব’। কিন্তু তার পরেও হিমশৈলে ধাক্কা মেরে ডুবে যায় জাহাজটি। গভীর সমুদ্রে শায়িত থাকা সেই টাইটানিকের ধ্বংসাবশেষ পরিদর্শনে গিয়ে সম্প্রতি টুকরো টুকরো হয়ে যায় ডুবোযান টাইটান। মৃত্যু হয় ডুবোযানের চালক-সহ পাঁচ যাত্রীর। তার পর থেকেই আবার চর্চায় এসেছে টাইটানিক। এই টাইটানিকের ধ্বংসাবশেষ দেখতে গিয়ে সাবমার্শিবল টাইটান পাঁচ জন যাত্রীকে নিয়ে ধ্বংস হয়ে গেল। টাইটানিক মানেই রহস্য। টাইটানিক মানেই যেন অমোঘ টান।১৫১৭ জন প্রাণ হারান সেদিন। উদ্ধার করা গিয়েছিল ৭০০ জন যাত্রীকে। ১০০ বছরের বেশি সময় ধরে সমুদ্রের তলায় রয়েছে টাইটানিক। এককালে যে বিলাসবহুল জাহাজ যাত্রীদের কোলাহল, আলোর রোশনাই , দেশি-বিদেশি খাবার এবং সুরায় মজেছিল, তা এখন শুধুই ধ্বংসাবশেষ। দীর্ঘ ৭৩ বছর পর ১৯৮৫ সালে যন্ত্রচালিত অনুসন্ধানের পর টাইটানিকের ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পান একদল বিজ্ঞানী। রবার্ট বালার্ড নামক ফরাসি বিজ্ঞানী টাইটানিককে খুঁজে বের করেন। ধারণা পাওয়া যায় সমুদ্রের নিচে এটির অবস্থান সম্পর্কে।সাউদাম্পটন থেকে নিউইয়র্কের পথে যাচ্ছিল টাইটানিক। হিমশৈলে ধাক্কা মেরে ডুবে যায় বিরাট সেই জাহাজ।টাইটানিকের ধ্বংসাবশেষ নিয়েও রহস্যের শেষ নেই। এখন সেখানে বিভিন্ন সামুদ্রিক প্রাণীদের বাসস্থান।‘হ্যালোমোনাস টাইটানিকা’ নামের এক ব্যাকটেরিয়া বাসা বেঁধেছে টাইটানিকের গায়ে। এই ব্যাকটেরিয়া নাকি টাইটানিকের মরচে পড়া লোহা খেয়েই বেঁচে থাকে। অতলান্তিক মহাসাগরের প্রায় সাড়ে ১২ হাজার ফুট নীচে থাকা টাইটানিকের ধ্বংসাবশেষ এখন অজানা এবং ‘ভয়ঙ্কর’ প্রাণীদের বাসস্থান।সেখানেই নাকি বাস অদ্ভুত অদ্ভুত রহস্যজনক প্রাণী এবং উদ্ভিদদের। কাদা এবং পলির মধ্যে বিভিন্ন প্রজাতির সামুদ্রিক কীটও দেখতে পাওয়া যায়। অ্যাবিসোব্রোটুলা গ্যালাথি’ নামের এক ভয়ঙ্কর মাছের খোঁজ পাওয়া গিয়েছে টাইটানিকের সামনে। এই মাছ সমুদ্রের অতল গভীরে থাকে। কীট, কৃমি খেয়েই এরা বেঁচে থাকে।দানবাকৃতির এক মাকড়শা দেখা যায় সমুদ্রের ১০ হাজার ফিট গভীরে। এরা সমুদ্রের তলদেশে থাকে।সমুদ্রের অতলে শিকারের জন্য তাদের মাথায় বেশ কয়েকটি সংবেদনশীল ছিদ্র দেখতে পাওয়া যায়।সমুদ্রের তলদেশে হামাগুড়ি দিয়ে বা সাঁতার কেটে ঘুরে বেড়ায় এই মাকড়সাগুলি। এগুলির এক একটির দৈর্ঘ্য আধা মিটার পর্যন্ত হতে পারে টাইটানিকের জং ধরা লোহা খেয়ে নিচ্ছে ‘হ্যালোমোনাস টাইটানিকা’। তাই এর নামও দেওয়া হয়েছে টাইটানিকের নামেই।
