না ঘুমিয়েই কাটিয়ে দিয়েছেন ৬০ বছরের এই বৃদ্ধ

নিউজ ইউ এ পি ডেস্ক ঃ- এই রহস্যের কিনারা বিজ্ঞানীরাও করতে পারেননি ৬০ বছর না ঘুমিয়েই কাটিয়েছেন এই বৃদ্ধ!

 নির্ঘুম  রাত কাটান বহু মানুষ দুশ্চিন্তার বশে কিংবা শারীরিক সমস্যার কারণে।কিন্তু কখনও কি শুনেছেন কোনও দুশ্চিন্তা নেই, শারীরিক সমস্যাও নেই অথচ দিনের পর দিন বছরের পর বছর কেউ না ঘুমিয়ে আছেন? ভিয়েতনাম  -এর এক বৃদ্ধর সঙ্গে এমনই অদ্ভুত ঘটনা ঘটছে গত ৬০ বছর ধরে।

দিনে বা রাতে কখনও তাই নিয়পের চোখে ঘুম নেমে আসে না। আরও আশ্চর্যের বিষয় হল এত বছর ধরে না ঘুমিয়েও কিন্তু দিব্যি রয়েছেন তাই নিয়প। এখন তার বয়স আশি পেরিয়ে গিয়েছে। বছরের পর বছর না ঘুমিয়েও নিজের সমবয়সীদের তুলনায় বেশ ফিট রয়েছেন এই বৃদ্ধ। 

শরীরের ধরন অনুসারে বয়স ভেদে প্রত্যেক মানুষের নির্দিষ্ট কিছু সময়ের প্রয়োজন ঘুমের জন্য। তা না হলে শরীরে বাসা বাঁধতে পারে কঠিন রোগ। কিন্তু তাই নিয়পের ক্ষেত্রে এই নিয়ম খাটে না। এত বছর ধরে না ঘুমিয়েও তিনি দিব্যি সুস্থ রয়েছেন শুধু নয়, পাড়া-প্রতিবেশীদের দাবি তিনি নাকি তার থেকে কম বয়সীদের তুলনাতেও কাজে কর্মে অনেক বেশি সক্ষম এই বৃদ্ধ।

রাতে যেহেতু ঘুম আসে না তাই সারারাত জেগে তিনি ক্ষেতের কাজ করেন। বাগান পরিচর্যা করেন। আসলে এই ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় থেকে। ওই সময়ের পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতিতে তার অনিদ্রার সমস্যা দেখা দেয়। প্রথম প্রথম এতে তেমন গুরুত্ব দেননি কেউই। ১৯৭৩ সালে তিনি একবার জ্বরের ঘোরে অচেতন হয়ে যান। সেই থেকে তিনি আজ পর্যন্ত দুচোখের পাতা এক করতে পারেননি বলে জানান তিনি।

তার কথায় তিনি জ্বর থেকে সেরে উঠে ঘুমানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু কিছুতেই তার ঘুম আসতো না। প্রথম প্রথম ঘুমোতে না পেয়ে খুব অস্বস্তি হত শরীরে। কিন্তু ধীরে ধীরে সবকিছু সয়ে যেতে শুরু করে। খাওয়া-দাওয়াতেও তার কোনও অসুবিধা নেই। শরীরও বেশ সুস্থ-সবল। অভাব কেবল ঘুমের। তবে সেসব নিয়ে তিনি এখন আর ভাবেন না । ‘নিদ্রাহীন বৃদ্ধ’ এর উপর পরীক্ষা নিরীক্ষা করার জন্য বিজ্ঞানীরাও হাজির হয়েছিলেন। কেউ কেউ সন্দেহ করতেন নিয়প হয়ত সকলের অলক্ষে অন্য কোথাও গিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। কিন্তু এই ধারণাও মিথ্যে প্রমাণ হয়। এই বৃদ্ধ দিনের পর দিন রাতের পর রাত না ঘুমিয়ে থেকেছেন। কেউ কেউ মনে করেন তার উপর ‘আত্মা’ ভর করেছে! তবে চিকিৎসকদের সার্টিফিকেট অনুসারে তাই নিয়প একেবারেই সুস্থ ও স্বাভাবিক একজন মানুষ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *