জেনারেটর নেই, আরোগ্যের আশায় ঘামতে হয় রোগীদের

চিকিৎসার ক্ষেত্রে ওই এলাকার মানুষের একমাত্র ভরসা ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রই। বামনহাট ছাড়াও পার্শ্ববর্তী বড়াইশাল, দিঘলটারি, কুচলিবাড়ির মতো গ্রাম থেকেও প্রচুর মানুষ চিকিৎসার প্রয়োজনে ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আসেন। তবে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশাসনিক অবহেলায় সেটি নানা সমস্যায় জর্জরিত। স্থানীয় বাসিন্দা থেকে রোগী ও তাঁদের পরিজনদের অভিযোগ, সেখানকার চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা যথাযথ পরিষেবা দেওয়ার চেষ্টা করলেও, সেখানকার পরিকাঠামো এখনও অনেকটাই পুরোনো।

নিউজ ইউ এ পি ডিজিটাল ডেস্ক,  ২৮শে অক্টোবর ২০২৫: দিনহাটা: চিকিৎসাকেন্দ্রে রোগীদের থাকার ব্যবস্থা বলতে আছে একটিমাত্র দোচালার ঘর। গরমকালে তাপপ্রবাহের জেরে যখন সেই ঘরে দাঁড়িয়ে থাকাই অসম্ভব হয়ে পড়ে, তখন রোগীদের অবস্থা যে কী হয় তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। পাশাপাশি ৩০টি শয্যার ওই ঘরেই রোগীদের গ্রীষ্মের উত্তাপ ও শীতের হাড়কাঁপানো ঠান্ডা সহ্য করে আরোগ্যের আশায় শুয়ে থাকতে হয়। তার ওপর গরমের দিনে লোডশেডিং হলে, তাঁদের বেগ পেতে হয় আরও। নেই জেনারেটরের ব্যবস্থাও। এমনই অবস্থার মধ্যে দিয়ে রোগী পরিষেবা চলছে দিনহাটা-২ নম্বর ব্লকের অন্তর্গত বামনহাট ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে।

চিকিৎসার ক্ষেত্রে ওই এলাকার মানুষের একমাত্র ভরসা ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রই। বামনহাট ছাড়াও পার্শ্ববর্তী বড়াইশাল, দিঘলটারি, কুচলিবাড়ির মতো গ্রাম থেকেও প্রচুর মানুষ চিকিৎসার প্রয়োজনে ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আসেন। তবে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশাসনিক অবহেলায় সেটি নানা সমস্যায় জর্জরিত। স্থানীয় বাসিন্দা থেকে রোগী ও তাঁদের পরিজনদের অভিযোগ, সেখানকার চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা যথাযথ পরিষেবা দেওয়ার চেষ্টা করলেও, সেখানকার পরিকাঠামো এখনও অনেকটাই পুরোনো। আর বিশেষত গরমের দিনে বিদ্যুতের সমস্যায় কাহিল হতে হয় মুমূর্ষুদের।

স্থানীয়রা জানান, গত ১৫ বছর ধরে ওই প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কোনও জেনারেটরের ব্যবস্থা নেই। লোডশেডিংয়ের সমস্যা থাকায় প্রায়শই চিকিৎসার কাজ ব্যাহত হয়। আর রাতে লোডশেডিং হলে পুরো স্বাস্থ্যকেন্দ্র অন্ধকারে ঢেকে যায়। ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীদেরও কাজ করা কঠিন হয়ে পড়ে। বামনহাটের বাসিন্দা রিনা বর্মন বলেন, ‘আমার স্বামীকে কিছুদিন আগে ওখানে ভর্তি করেছিলাম। প্রায়ই লোডশেডিং হয়ে যায়। বিকল্প কোনও ব্যবস্থা নেই। দিনরাত যখনই হোক, রোগ নিয়ে শুয়ে থাকা মানুষের পক্ষে গরমে ঘামা যে কী দুর্বিষহ তা সকলেই বুঝবেন।’ আরেক রোগীর পরিজন প্রমোদ সাহা বলেন, ‘এভাবে গরমের মধ্যে রোগীদের কষ্ট পেতে দেখলে সত্যিই খারাপ লাগে। প্রশাসন এতদিনেও একটা জেনারেটর কেন বসাতে পারল না, ভেবে অবাক হচ্ছি।’ এই পরিস্থিতিতে, কবে সমস্যা থেকে মুক্তি মিলবে সেই আশাতেই দিন গুনছেন স্থানীয়রা।

এই প্রসঙ্গে বামনহাট ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বিএমওএইচ শান্তনীল দত্ত বলেন, ‘এবিষয়টি নিয়ে একাধিক অভিযোগ পেয়েছি। খুব শীঘ্রই সেখানে জেনারেটর বসানোর ব্যবস্থা করা হবে। আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করছি যাতে রোগীদের আর কোনও অসুবিধা না হয়।’