আধিচেতনা

পাশ্চাত্য পণ্ডিতদের মতে ঐ সকল গ্রন্থের মধ্যে হিন্দুদের বেদই প্রাচীনতম । অতএব বেদ সম্বন্ধে কিছু জানা আবশ্যক।বেদ-নামক শব্দরাশি কোন পুরুষের উক্তি নহে। উহার সন-তারিখ এখনও নির্ণীত হয় নাই, কখন হইতেও পারে না। আর আমাদের ( হিন্দুদের ) মতে বেদ অনাদি অনন্ত। একটি বিশেষ কথা তোমাদের স্মরণ রাখা উচিত, পৃথিবীর অন্যান্য ধর্ম

গৌতম বিশ্বাস,নিউজ ইউএপি ডিজিটাল ডেস্কঃ যে ‘হিন্দু’ নামে পরিচয় দেওয়া এখন আমাদের প্রথা হইয়া দাঁড়াইয়াছে, তাহার কিন্তু, আর কোন সার্থকতা নাই ; কারণ ঐ শব্দের অর্থ—’যাহারা সিদ্ধুনদের পারে বাস করিত’। প্রাচীন পারসীকদের বিকৃত উচ্চারণে ‘সিন্ধুশব্দই ‘হিন্দুরূপে পরিণত হয়; তাঁহারা সিদ্ধুনদের অপরতীর-বাসী সকলকেই ‘হিন্দু বলিতেন। এইরুপেই ‘হিন্দু শব্দ আমাদের নিকট আসিয়াছে; মসুলমান- শাসনকাল হইতে আমরা ঐ শব্দ নিজেদের উপর প্রয়োগ করিতে আরম্ভ করিরাছি। অবশ্য এই শব্দ-ব্যবহারে কোন ক্ষতি নাই, কিন্তু, আমি পূর্বেই বলিয়াছি, এখন ইহার সার্থকতা নাই ; কারণ তোমরা বিশেষভাবে লক্ষ্য করিও যে, বর্তমানকালে সিন্ধুনদের এই দিকে সকলে আর প্রাচীনকালের মতো এক ধর্ম মানেন না। সতরাং ঐ শব্দে শব্দে খাঁটি হিন্দু বুঝায় না; উহাতে মসুলমান, খ্রীষ্টান, জৈন এবং ভারতের অন্যান্য অধিবাসিগণকেও বুঝাইয়া থাকে। অতএব আমি ‘হিন্দু শব্দ ব্যবহার করিব না।

বাংলায় সবার আগে পড়ুন ব্রেকিং নিউজ। থাকছে প্রতিদিনের খবরের লাইভ আপডেট। সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য বাংলা খবর পড়ুন এই   NEWS UAP  পেজ এর ওয়েবসাইটে।

তবে কোন, শব্দ ব্যবহার করিব? আমরা ‘বৈদিক’শব্দটি ব্যবহার করিতে পারি, অথবা ‘বৈদান্তিক’শব্দ ব্যবহার করিলে আরও ভাল হয়। পৃথিবীর অধিকাংশ প্রধান প্রধান ধর্মই বিশেষ বিশেষ কতকগুলি গ্রন্থকে প্রামাণ্য বলিয়া স্বীকার করিয়া থাকে। লোকের বিশ্বাস—এই গ্রন্থগুলি ঈশ্বর অথবা কোন অতিপ্রাকৃত পুরষবিশেষের বাক্য ; সতেরাং ঐ গ্রন্থগুলিই তাহাদের ধর্মের ভিত্তি। আধুনিক পাশ্চাত্য পণ্ডিতদের মতে ঐ সকল গ্রন্থের মধ্যে হিন্দুদের বেদই প্রাচীনতম । অতএব বেদ সম্বন্ধে কিছু জানা আবশ্যক।
বেদ-নামক শব্দরাশি কোন পুরুষের উক্তি নহে। উহার সন-তারিখ এখনও নির্ণীত হয় নাই, কখন হইতেও পারে না। আর আমাদের ( হিন্দুদের ) মতে বেদ অনাদি অনন্ত। একটি বিশেষ কথা তোমাদের স্মরণ রাখা উচিত, পৃথিবীর অন্যান্য ধর্ম — ব্যক্তিভাবাপন্ন ঈশ্বর অথবা ভগবানের দূত বা প্রেরিত পুরুষের বাণী বলিয়া তাহাদের শাস্ত্রের প্রামাণ্য দেখায় । হিন্দুরা কিন্তু, বলেন, বেদের অন্য কোন প্রমাণ নাই, বেদ স্বতঃপ্রমাণ ; কারণ বেদ অনাদি অনন্ত, উহা ঈশ্বরের জ্ঞানরাশি।

বেদ কখনও লিখিত হয় নাই, উহা কখনও সৃষ্ট হয় নাই, অনন্তকাল ধরিয়া উহা রহিয়াছে। যেমন সৃষ্টি অনাদি অনন্ত, তেমনি ঈশ্বরের জ্ঞানও অনাদি অনন্ত। ‘বেদ’ অর্থে এই ঐশ্বরিক জ্ঞানরাশি ; বিদ-ধাতুর অর্থ—জানা। বেদান্ত-নামক জ্ঞানরাশি ঋষিগণ কর্তৃক আবিষ্কৃত। ঋষি-শব্দের অর্থ মন্ত্রদ্রষ্টা; পূর্বে হইতেই বিদ্যমান সত্যকে তিনি প্রত্যক্ষ করিয়াছেন মাত্র, ঐ জ্ঞান ও ভাবরাশি তাঁহার নিজের চিন্তাপ্রসূত নহে। যখনই তোমরা শুনিবে, বেদের অমুক অংশের ঋষি অমুক, তখন ভাবিও না যে, তিনি উহা লিখিয়াছেন বা নিজের মন হইতে উহা সৃষ্টি করিয়াছেন ; তিনি পূর্বে হইতে বিদ্যমান ভাবরাশির দ্রষ্টামাত্র । ঐ ভাবরাশি অনন্ত কাল হইতেই এই জগতে বিদ্যমান ছিল—ঋষি উহা আবিষ্কার করিলেন মাত্র। ঋষিগণ আধ্যাত্মিক আবিষ্কর্তা ।

বাংলায় সবার আগে পড়ুন ব্রেকিং নিউজ। থাকছে প্রতিদিনের খবরের লাইভ আপডেট। সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য বাংলা খবর পড়ুন এই   NEWS UAP  পেজ এর ওয়েবসাইটে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *