কারণ কয়েক সহস্র বৎসর পর্বে জনৈক য়াহদী-বংশসম্ভূত ব্যক্তি পুতুলপূজোর নিন্দা করিয়াছিলেন অর্থাৎ তিনি নিজের পুতুল ছাড়া আর সকলের পুতুলকে নিন্দা করিয়াছিলেন। সেই য়াহদী বলিয়াছিলেন, যদি কোন বিশেষ ভাব প্রকাশক বা পরমসুন্দর মূর্তি দ্বারা ঈশ্বরের ভাব প্রকাশ করা হয়, তবে তাহা ভয়ানক দোষ, মহা পাপ;
গৌতম বিশ্বাস,নিউজ ইউএপি ডিজিটাল ডেস্কঃ আজকাল একটি কথা চালু হইয়া গিয়াছে, এবং সকলেই বিনা আপত্তিতে এটি স্বীকার করিয়া থাকেন যে, পৌত্তলিকতা অন্যায়। আমিও এক সময়ে ঐরূপ ভাবিতাম, এবং ইহার শাস্তিস্বরূপ আমাকে এমন একজনের পদতলে বসিয়া শিক্ষালাভ করিতে হইয়াছিল, যিনি পতুলপূজা হইতে সব পাইয়াছিলেন। আমি রামকৃষ্ণ পরমহংসের কথা বলিতেছি। হিন্দুগণ, যদি পুতুলপূজো করিয়া এইরূপে রামকৃষ্ণ পরমহংসের আবির্ভাব হয়, তবে তোমরা কি চাও ?—সংস্কারকগণের ধর্ম চাও, না পুতুলপূজো চাও ? আমি ইহার একটা উত্তর চাই। যদি পুতুলপূজো দ্বারা এইরূপে রামকৃষ্ণ পরমহংস সৃষ্টি করিতে পারো, তবে আরও হাজার পুতুলপূজো কর। ঈশ্বরেচ্ছায় তোমরা সাফল্য লাভ কর। যে-কোন উপায়ে হউক, এইরূপ মহান চরিত্র সৃষ্টি কর।
আর পুতুলপূজো কে লোকে গালি দেয় ! কেন ?—তাহা কেহই জানে না। কারণ কয়েক সহস্র বৎসর পর্বে জনৈক য়াহদী-বংশসম্ভূত ব্যক্তি পুতুলপূজোর নিন্দা করিয়াছিলেন অর্থাৎ তিনি নিজের পুতুল ছাড়া আর সকলের পুতুলকে নিন্দা করিয়াছিলেন। সেই য়াহদী বলিয়াছিলেন, যদি কোন বিশেষ ভাব প্রকাশক বা পরমসুন্দর মূর্তি দ্বারা ঈশ্বরের ভাব প্রকাশ করা হয়, তবে তাহা ভয়ানক দোষ, মহা পাপ; কিন্তু, যদি একটি সিন্দুকের দুইধারে দুইজন দেবদূত, তাহার উপরে মেঘ—এইরূপে ঈশ্বরের ভাব প্রকাশ করা হয়, তবে তাহা মহা পবিত্র। ঈশ্বর যদি ঘুঘুর রূপ ধারণ করিয়া আসেন, তবে তাহা মহা পবিত্র ; কিন্ত, যদি তিনি গাভীর রূপ ধারণ করিয়া আসেন, তবে তাহা হিদেনদের কুসংস্কার। অতএব উহার নিন্দা কর।
দুনিয়া এইভাবেই চলিয়াছে। তাই কবি বলিয়াছেন, ‘আমরা মর্ত্যমানব কি নির্বোধ। পরের চক্ষে দেখা ও বিচার করা কি কঠিন ব্যাপার। আর ইহাই মনুষ্যসমাজের উন্নতির অন্তরায়স্বরপ। ইহাই ঈর্ষা ঘৃণা বিবাদ ও দ্বন্দের মূল। বালকগণ, অর্বাচীন শিশুগণ, তোমরা মাদ্রাজের বাহিরে কখনও যাও নাই ; তোমরা সহস্র সহস্র প্রাচীনসংস্কার- নিয়ন্ত্রিত ত্রিশকোটি লোকের উপর আইন চালাইতে চাও—তোমাদের লজ্জা করে না ? এরূপ বিষম দোষ হইতে বিরত হও এবং আগে নিজেরা শিক্ষা লাভ কর। শ্রদ্ধাহীন বালকগণ, তোমরা কেবল কাগজে গোটাকতক লাইন আঁচড় কাটিতে পারো, আর কোন আহাম্মককে ধরিয়া উহা ছাপাইয়া দিতে পারো বলিয়া নিজদিগকে জগতের শিক্ষক- ভারতের মুখপাত্র বলিয়া মনে করিতেছ! তাই নয় কি ?
এই কারণে আমি মাদ্রাজের সংস্কারকগণকে এইটুকু বলিতে চাই, তাঁহাদের প্রতি আমার শ্রদ্ধা ও ভালবাসা আছে ; তাঁহাদের বিশাল হৃদয়, তাঁহাদের স্বদেশপ্রীতি, দরিদ্র ও অত্যাচারিত জনগণের প্রতি তাঁহাদের ভালবাসার জন্য আমি তাঁহাদিগকে ভালবাসি । কিন্তু, ভাই যেমন ভাইকে ভালবাসে অথচ তাহার দোষ দেখাইয়া দেয়, সেইভাবে আমি তাঁহাদিগকে বলিতেছি— তাঁহাদের কার্যপ্রণালী ঠিক নহে। শত বৎসর যাবৎ এই প্রণালীতে কার্য করিবার চেষ্টা করা হইয়াছে, কিন্তু, তাহাতে কোন ফল হয় নাই। এখন আমাদিগকে অন্য কোন নতুন উপায়ে কাজ করিবার চেষ্টা করিতে হইবে । এইটুকুই আমার বক্তব্য ।
বাংলায় সবার আগে পড়ুন ব্রেকিং নিউজ। থাকছে প্রতিদিনের খবরের লাইভ আপডেট। সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য বাংলা খবর পড়ুন এই NEWS UAP পেজ এর ওয়েবসাইটে।
