অধিচেতনা

গৌতম বিশ্বাস,নিউজ ইউএপি ডিজিটাল ডেস্কঃ তোমরা প্রত্যেকে বরং ঘোর নাস্তিক হও, কিন্তু, আমি তোমাদের কুসংস্কারগ্রস্ত নির্বোধ দেখিতে ইচ্ছা করি না; কারণ নাস্তিকের বরং জীবন আছে, তাহার বরং কিছু হইবার আশা আছে, সে মৃত নহে ৷ কিন্তু, যদি কুসংস্কার ঢোকে, তবে বুদ্ধিনাশ হয়, মস্তিষ্ক দূর্বল হইয়া পড়ে; পতনের ভাব তাহাকে আচ্ছন্ন করিয়াছে।

এই দুইটিই পরিত্যাগ করিতে হইবে ।
আমরা চাই নির্ভীক সাহসী লোক, আমরা চাই—রক্ত তাজা হউক, স্মায়ু সতেজ হউক, পেশী লৌহদৃঢ় হউক। মস্তিষ্ককে দুর্বল করে, এমন-সব ”ভাবের প্রয়োজন নাই ; সেগুলি পরিত্যাগ কর । সর্বপ্রকার রহস্যের দিকে ঝোঁক ত্যাগ কর । ধর্মে কোন গুপ্তভাব নাই । বেদান্ত বা বেদে, সংহিতা বা পুরাণে কি কোন গুপ্তভাব আছে ? প্রাচীন ঋষিগণ তাঁহাদের ধর্ম প্রচারের জন্য কোথাও কি গুপ্তসমিতি স্থাপন করিয়াছিলেন? তাঁহাদের আবিষ্কৃত মহান সত্যসমূহ সমগ্র পৃথিবীকে দিবার জন্য তাঁহারা কি কোন চালাকি বা কৌশল অবলম্বন করিয়াছিলেন—ইহা কোথাও লিপি বদ্ধ দেখিয়াছ কি ? গুপ্তভাব লইয়া নাড়াচাড়া করা ও কুসংস্কার সর্বদাই দূর্বলতার চিহ্ন, উহা সর্বদাই অবনতি ও মৃত্যুর লক্ষণ। অতএব ঐগুলি হইতে সাবধান হও, ভেজম্বী হও, নিজের পায়ের উপর দাঁড়াও।….আমাদিগকে সাবধান হইতে হইবে, আমাদের মস্তিষ্ক যেন উচ্চ ও মহৎ চিন্তা করিতে অক্ষম হইয়া না পড়ে, উহা যেন মৌলিকতা না হারায়, উহা যেন নিস্তেজ হইয়া না যায়, উহা যেন ধর্মের নামে সর্বপ্রকার ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কুসংস্কারে নিজেকে বিষাক্ত করিয়া না ফেলে ।
ধর্ম অনুভব করিলে তবেই কাজ হইবে। বাহিরের রঙ ও আড়ম্বরাদি যতক্ষণ পর্যন্ত আমাদের ধর্মজীবনে সাহায্য করে, ততক্ষণ পর্যন্ত সেগুলির উপযোগিতা আছে, ততক্ষণ পর্যন্ত সেগুলি থাকুক, ক্ষতি নাই ; কিন্তু, সেগুলি আবার অনেক সময় শখে, অনুষ্ঠানমাত্রে পর্যবসিত হইয়া যায় ; তখন তাহারা ধর্মজীবনে সাহায্য না করিয়া বরং বিধান সৃষ্টি করে; লোকে এই বাহ্য অনুষ্ঠানগুলির সহিত ধর্মকে এক করিয়া বসে। তখন মন্দিরে যাওয়া ও পুরুহিতকে কিছু, দেওয়াই ধর্ম জীবন হইয়া দাঁড়ায়, এগুলি অনিষ্ঠকর ; ইহা যাহাতে বন্ধ হয়, তাহা করা উচিত। আমাদের শাস্ত্র বার বার বলিতেছেন, ইন্দ্রিয়জ জ্ঞানের দ্বারা কখনও ধর্মানুভুতি লাভ করা যায় না। যাহা আমাদিগকে সেই অক্ষত পুরুষের সাক্ষ্যাত করায় তাহাই ধর্ম ; আর এই ধর্ম সকলেরই জন্য। যিনি সেই অতীন্দ্রিয় সত্য সাক্ষাৎ করিয়াছেন, যিনি আত্মার স্বরূপ উপলব্ধি করিয়াছেন, যিনি ভগবানকে অনুভব করিয়াছেন, তাঁহাকে সর্বভূতে  প্রত্যক্ষ করিয়াছেন, তিনি ঋষি হইয়াছেন।সহস্র বৎসর পুর্বে যিনি এইরূপ উপলব্ধি করিয়াছেন—তিনিও যেমন ঋষি, সহস্র বৎসর পরেও যিনি উপলব্ধি করিবেন, তিনিও তেমনি ঋষি। আর যতদিন না তোমরা ঋষি হইতেছ, ততদিন তোমাদের ধর্মজীবন শুরু, হইবে না;— ব্যক্তই হউক আর অব্যক্তই হউক, যে-কোন আকারে হউক, ঐ শক্তি ভিতরেই রহিয়াছে আর যত শীঘ্র ইহা বিশ্বাস কর, ততই তোমাদের কল্যাণ । সব শক্তি তোমাদের ভিতরে রহিয়াছে। তোমরা সব করিতে পারো। ইহা বিশ্বাস কর। মনে করিও না-তোমরা দুর্বল। আজকাল অনেকে যেমন নিজেদের অর্ধোন্মাদ বলিয়া মনে করে, সেরূপ মনে করিও না। অপরের সাহায্য ব্যতীতই তোমরা সব করিতে পারো। সব শক্তি তোমাদের ভিতর রহিয়াছে ; উঠিয়া দাঁড়াও এবং তোমাদের ভিতর যে দেবত্ব  লুক্কায়িত রহিয়াছে, তাহা প্রকাশ কর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *