গৌতম বিশ্বাস,নিউজ ইউএপি ডিজিটাল ডেস্কঃ শিষ্য। আমাদের পক্ষে এখন কিরূপ আদর্শ গ্রহণ করা উচিত ? স্বামীজী। মহাবীরের চরিত্রকেই তোদের এখন আদর্শ করতে হবে। দেখ না রামের
আজ্ঞায় সাগর ডিঙিয়ে চলে গেল! জীবন-মরণে দৃপাত নেই—মহাজিতেন্দ্রিয়, মহাবুদ্ধিমান! দাস্যভাবের ঐ মহা আদর্শে তোদের জীবন গঠিত করতে হবে। ঐরূপ হলেই অন্যান্য ভাবের স্ফুরণ কালে আপনা আপনি হয়ে যাবে। দ্বিধাশূন্য হয়ে গুরুর আজ্ঞাপালন আর ব্রহ্মচর্যরক্ষা—এই হচ্ছে secret of success (কৃতী হবার একমাত্র গূঢ়োপায়); “নান্যঃ পন্থা বিদ্যতেহয়নায়” (এ ছাড়া আর দ্বিতীয় পথ নেই)। হনুমানের একদিকে যেমন সেবাভাব, অন্যদিকে তেমনি ত্রিলোকসন্ত্রাসী সিংহবিক্রম। রামের হিতার্থে জীবনপাত করতে কিছুমাত্র দ্বিধা রাখে না! রামসেবা ভিন্ন অন্য সকল বিষয়ে উপেক্ষা—ব্রহ্মত্ব- শিবত্ব-লাভে পর্যন্ত উপেক্ষা! শুধু রঘুনাথের আদেশ পালনই জীবনের একমাত্র ব্রত। এরূপ একাগ্রনিষ্ঠ হওয়া চাই। খোলকরতাল বাজিয়ে লম্ফ-ঝম্ফ করে দেশটা উৎসন্ন গেল। একে তো এই dyspeptic (পেটরোগা) রোগীর দল—তাতে আবার লাফালে-ঝাঁপালে সইবে কেন? কামগন্ধহীন উচ্চ সাধনার অনুকরণ করতে গিয়ে দেশটা ঘোর তমসাচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে। দেশে দেশে, গায়ে গাঁয়ে—যেখানে যাবি, দেখবি খোলকরতালই বাজছে! ঢাকঢোল কি দেশে তৈরি হয় না? তূরীভেরী কি ভারতে মেলে না ? ঐ সব গুরুগম্ভীর আওয়াজ ছেলেদের শোনা। ছেলেবেলা থেকে মেয়েমাষি বাজনা শুনে শুনে,কীর্তন শুনে শুনে,দেশটা যে মেয়েদের দেশ হয়ে গেল
এর চেয়ে আর কি অধঃপাতে যাবে ? কবিকল্পনাও এ ছবি আঁকতে হার মেনে যায় ! ডমরু শিঙা বাজাতে হবে, ঢাকে ব্রহ্মরুদ্রতালের দুন্দুভিনাদ তুলতে হবে, ‘মহাবীর, মহাবীর ধ্বনিতে এবং ‘হর হর ব্যোম ব্যোম’ শব্দে দিদেশ কম্পিত করতে হবে। যে-সব music-এ (গীতবাদ্যে) মানুষের soft feelings (হৃদয়ের কোমল ভাবসমূহ) উদ্দীপিত করে, সে সকল কিছুদিনের জন্য এখন বন্ধ রাখতে হবে। খেয়াল টপ্পা বন্ধ করে ধ্রুপদ গান শুনতে লোককে অভ্যাস করাতে হবে। বৈদিক ছন্দের মেঘমন্ত্রে দেশটার প্রাণসঞ্চার করতে হবে। সকল বিষয়ে বীরত্বের কঠোর মহাপ্রাণতা আনতে হবে। এইরূপ ideal follow (আদর্শের অনুসরণ) করলে তবে এখন জীবের কল্যাণ, দেশের কল্যাণ। তুই যদি একা এভাবে চরিত্র গঠন করতে পারিস, তাহলে তোর দেখাদেখি হাজার লোক ঐরূপ করতে শিখবে। কিন্তু দেখিস, ideal (ঐ আদর্শ) থেকে কখনো যেন এক পা-ও হটিসনি। কখনো হীনসাহস হবিনি। খেতে-শুতে-পরতে, গাইতে-বাজাতে, ভোগে-রোগে, কেবলই সৎসাহসের পরিচয় দিবি। তবে তো মহাশক্তির কৃপা হবে। শিষ্য। মহাশয়, এক এক সময়ে কেমন হীনসাহস হইয়া পড়ি।
স্বামীজী। তখন এরূপ ভাববি—‘আমি কার সন্তান?—তাঁর কাছে গিয়ে আমার এমন হীন বুদ্ধি, হীন সাহস!’ হীন বুদ্ধি, হীন সাহসের মাথায় লাথি মেরে, “আমি বীর্যবান, আমি মেধাবান, আমি ব্রহ্মবিৎ, আমি প্রজ্ঞাবান”, বলতে বলতে দাঁড়িয়ে উঠবি। ‘আমি অমুকের চেলা কামকাঞ্চনজিৎ ঠাকুরের সঙ্গীর সঙ্গী —এইরূপ অভিমান খুব রাখবি। এতে কল্যাণ হবে। ঐ অভিমান যার নেই তার ভেতর ব্রহ্ম জাগেন না। রামপ্রসাদের গান শুনিসনি ? তিনি বলতেন, “এ সংসারে ডরি কারে, রাজা যার মা মহেশ্বরী।” এইরূপ অভিমান সর্বদা মনে জাগিয়ে রাখতে হবে। তাহলে আর হীন বুদ্ধি, হীন সাহস নিকটে আসবে না । কখনো মনে দুর্বলতা আসতে দিবিনি। মহাবীরকে স্মরণ করবি—মহামায়াকে স্মরণ করবি। দেখবি সব দুর্বলতা, সব কাপুরুষতা তখনি চলে যাবে।
