আধিচেতনা

গৌতম বিশ্বাস,নিউজ ইউএপি ডিজিটাল ডেস্কঃ অনুভূতি। তাই জানবি goal (উদ্দেশ্য বা লক্ষ্য); মত—পথ, রাস্তা মাত্র। কার কতটা ত্যাগ হয়েছে, এইটি জানবি উন্নতির test (পরীক্ষক)-কষ্টিপাথর। কাম-কাঞ্চনের আসক্তি যেখানে দেখবি কমতি—সে যে-মতের, যে-পথের লোক হোক না কেন, তার জানবি শক্তি জাগ্রত হচ্ছে। তার জানবি, আত্মানুভূতির দোর খুলে গেছে। আর হাজার আচার মেনে চল, হাজার শ্লোক আওড়া, তবু যদি ত্যাগের ভাব না এসে থাকে তো জানবি জীবন বৃথা। এই অনুভূতিলাভে তৎপর হ লেগে যা। শাস্ত্ৰ-টাস্ত্র তো ঢের পড়লি। বল দিকি, তাতে হলো কি ? কেউ টাকার চিন্তা করে ধনকুবের হয়েছে, তুই না হয় শাস্ত্রচিন্তা করে পণ্ডিত হয়েছিস। উভয়ই বন্ধন! পরাবিদ্যালাভে বিদ্যা-অবিদ্যার পারে চলে যা

স্বামীজী। ….কর্মফর্ম ফেলে দে। তুই-ই পূর্বজন্মে কর্ম করে এই দেহ পেয়েছিস, একথা যদি সত্য হয়, তবে কর্মদ্বারা কর্ম কেটে তুই আবার কেন না এ দেহেই জীবন্মুক্ত হবি ? জানবি, মুক্তি বা আত্মজ্ঞান তোর নিজের হাতে রয়েছে। জ্ঞানে কর্মের লেশমাত্র নেই। তবে যারা জীবন্মুক্ত হয়েও কাজ করে, তারা জানবি ‘পরহিতায়’ কর্ম করে। তারা ভালমন্দ ফলের দিকে চায় না ; কোন বাসনা-বীজ তাদের মনে স্থান পায় না। সংসারাশ্রম থেকে ঐরূপ যথার্থ ‘পরহিতায়’ কর্ম করা এক প্রকার অসম্ভব জানবি। সমগ্র হিন্দুশাস্ত্রে ঐ বিষয়ে এক জনক রাজার নামই আছে। তোরা কিন্তু এখন বছর বছর ছেলে জন্ম দিয়ে ঘরে ঘরে বিদেহ ‘জনক’ হতে চাস।
স্বামীজী। ভয় কি? মনের ঐকান্তিকতা থাকলে, আমি নিশ্চয় বলছি, এ জন্মেই হবে।

তবে পুরুষকার চাই। পুরুষকার কি জানিস? আত্মজ্ঞান লাভ করবই করব, এতে যে বাধাবিপদ সামনে পড়ে তা কাটাবই কাটাব—এইরূপ দৃঢ় সঙ্কল্প ! মা, বাপ, ভাই, বন্ধু, স্ত্রী, পুত্র মরে মরুক, এ দেহ থাকে থাক, যায় যাক, আমি কিছুতেই ফিরে চাইব না যতক্ষণ না আমার আত্মদর্শন ঘটে—এইরূপে সকল বিষয় উপেক্ষা করে এক মনে আপনার goal-এর (উদ্দেশ্যের) দিকে অগ্রসর হবার চেষ্টার নামই পুরুষকার। নতুবা অন্য পুরুষকার তো পশু-পক্ষীরাও করছে। মানুষ এ দেহ পেয়েছে কেবলমাত্র সেই আত্মজ্ঞান লাভের জন্য।

সংসারে সকলে যে পথে যাচ্ছে, তুইও কি সেই স্রোতে গা ঢেলে চলে যাবি ? তবে আর তোর পুরুষকার কি ? সকলে তো মরতে বসেছে। তুই যে মৃত্যু জয় করতে এসেছিস। মহাবীরের ন্যায় অগ্রসর হ। কিছুতেই ভ্রুক্ষেপ করবিনি। কয়দিনের জন্যই বা শরীর ? কয়দিনের জন্যই বা সুখ-দুঃখ? যদি মানবদেহ পেয়েছিস, তবে ভেতরের আত্মাকে জাগা আর বল—আমি অভয় পদ পেয়েছি। বল—আমি সেই আত্মা, যাতে আমার কাঁচা আমিত্ব ডুবে গেছে। এইভাবে সিদ্ধ হয়ে যা; তারপর যতদিন দেহ থাকে ততদিন অপরকে এই মহাবীর্যপ্রদ নির্ভয়বাণী শোনা—‘তত্ত্বমসি’, “উত্তিষ্ঠত জাগ্ৰত প্রাপ্য বরান্ নিবোধত।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *