আধিচেতনা

গৌতম বিশ্বাস,নিউজ ইউএপি ডিজিটাল ডেস্কঃ স্বামীজী। ‘উদ্বোধনে’ (মাসিক পত্রিকা) সাধারণকে কেবল positive ideas (সকল বিষয় গড়িয়া তুলিবার আদর্শ) দিতে হবে। Negative thought (নেই নেই ভাব) মানুষকে weak (নির্জীব) করে দেয়। দেখছিস না, যে-সকল মা-বাপ ছেলেদের দিনরাত লেখাপড়ার জন্য তাড়া দেয়—বলে ‘এটার কিছু হবে না, ‘বোকা গাধা’—তাদের ছেলেগুলি অনেক স্থলে তাই হয়ে দাঁড়ায়। ছেলেদের ভাল বললে—উৎসাহ দিলে, সময়ে নিশ্চয় ভাল হয়।

ছেলেদের পক্ষে যা নিয়ম, children in the region of higher thoughts (ভাব রাজ্যের উচ্চ অধিকারের তুলনায় যারা ঐরূপ শিশুদের মতো, তাদের) সম্বন্ধেও তাই। Positive ideas (জীবনগড়ার ভাবগুলি) দিতে পারলে সাধারণে মানুষ হয়ে উঠবে ও নিজের পায়ে দাঁড়াতে শিখবে। ভাষা, সাহিত্য, দর্শন, কবিতা, শিল্প, সকল বিষয়ে যা চিন্তা ও চেষ্টা মানুষ করছে, তাতে ভুল না দেখিয়ে ঐসব বিষয় কেমন করে ক্রমে ক্রমে আরও ভাল রকমে করতে পারবে, তাই বলে দিতে হবে। ভ্রমপ্রমাদ দেখালে মানুষের feeling wounded (মনে আঘাত দেওয়া) হয়। ঠাকুরকে দেখেছি—যাদের আমরা হেয় মনে করতুম—তাদেরও তিনি উৎসাহ দিয়ে জীবনের মতিগতি ফিরিয়ে দিতেন। তাঁর শিক্ষা দেওয়ার রকমই একটা অদ্ভুত ব্যাপার !

“তোদের history, literature, mythology (ইতিহাস, সাহিত্য, পুরাণ) প্রভৃতি সকল শাস্ত্রগ্রন্থ মানুষকে কেবল ভয়ই দেখাচ্ছে! মানুষকে কেবল বলছে—তুই নরকে যাবি, তোর আর উপায় নেই। তাই এত অবসন্নতা ভারতের অস্থিমজ্জায় প্রবেশ করেছে। সেইজন্য বেদ-বেদান্তের উচ্চ উচ্চ ভাবগুলি সাদা কথায় মানুষকে বুঝিয়ে দিতে হবে। সদাচার, সদ্ব্যবহার ও বিদ্যাশিক্ষা দিয়ে ব্রাহ্মণ-চণ্ডালকে এক ভূমিতে দাঁড় করাতে হবে। ‘উদ্বোধন’ কাগজে এইসব লিখে আবালবৃদ্ধবনিতাকে তোল দেখি ? তবে জানব—তোর বেদ-বেদান্ত পড়া সার্থক হয়েছে। কি বলিস–পারবি ?”

স্বামীজী। আর একটা কথা—শরীরটাকে খুব মজবুত করতে তোকে শিখতে হবে ও সকলকে শেখাতে হবে। দেখছিসনে, এখনো রোজ আমি ডালে কবি! রোজ রোজ সকালে সন্ধ্যায় বেড়াবি। শারীরিক পরিশ্রম করবি। Body and mind must run parallel (দেহ ও মন সমানভাবে উন্নত হওয়া চাই)। সব বিষয়ে পরের ওপর নির্ভর করলে চলবে কেন? শরীরটা সবল করবার প্রয়োজনীয়তা বুঝতে পারলে নিজেরাই তখন ঐ বিষয়ে যত্ন করবে। সেই প্রয়োজনীয়তাবোধের জন্যই এখন education-এর (শিক্ষার) দরকার ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *