অধিচেতনা

 পপলি মিত্র, নিউজ ইউএপি,অন লাইনঃ শত শত শতাব্দী যাবৎ মানষকে তাহার হীনত্বজ্ঞাপক মতবাদসমূহ শেখানো হইতেছে ; তাহাদিগকে শেখানো হইয়াছে—তাহারা কিছুই নয়। সর্বত্র জনসাধারণকে চিরকাল বলা হইয়াছে— তোমরা মানষ নও । শত শত শতাব্দী যাবৎ তাহাদিগকে এইরূপে ভয় দেখানো হইয়াছে—ক্রমশঃ তাহারা সত্যসত্যই পশ, স্তরে নামিয়া গিয়াছে। তাহাদিগকে কখনও আত্মতত্ত্ব শনিতে দেওয়া হয় নাই। তাহারা এখন আত্মতত্ত্ব শ্রবণ – করুক ; তাহারা জানক যে, তাহাদের মধ্যে – নিম্নতম ব্যক্তির হৃদয়েও আত্মা রহিয়াছেন….অতএব আত্মবিশ্বাসী হও। ইংরেজজাতির সঙ্গে তোমাদের এত প্রভেদ কিসে? তাহারা তাহাদের ধর্মের শ্রেষ্ঠত্ব, প্রবল কর্তব্যজ্ঞান ইত্যাদির কথা যাহাই বলুক না কেন, আমি জানিয়াছি, উভয় জাতির মধ্যে প্রভেদ কোথায়। প্রভেদ এই—ইংরেজ নিজের উপর বিশ্বাসী, তোমরা বিশ্বাসী নও। ইংরেজ বিশ্বাস করে— সে যখন ইংরেজ, তখন সে যাহা ইচ্ছা করে তাহাই করিতে পারে। এই বিশ্বাসবলে তাহার অন্তর্নিহিত বদ্ধ জাগিয়া উঠেন, সে তখন যাহা ইচ্ছা তাহাই করিতে পারে। তোমাদিগকে লোকে বলিয়া আসিতেছে ও শিক্ষা দিতেছে যে, তোমাদের কোন কিছু, করিবার ক্ষমতা নাই—কাজেই তোমরা অকর্মণ্য হইয়া পড়িয়াছ। অতএব আত্মবিশ্বাসী হও।

আমাদের এখন প্রয়োজন—শক্তিসঞ্চার। আমরা দুর্বল হইয়া পড়িয়াছি। সেইজন্যই আমাদের মধ্যে এই-সকল গ,প্তবিদ্যা, রহস্যবিদ্যা, ভূতুড়েকাণ্ড—সব আসিয়াছে। ঐগুলির মধ্যে কিছু, মহৎ তত্ত্ব থাকিতে পারে, কিন্তু, ঐগুলি আমাদিগকে প্রায় নষ্ট করিয়া ফেলিয়াছে। তোমাদের স্নায়, সতেজ কর। আমাদের আবশ্যক-লৌহের মতো পেশী ও বজ্রদঢ় স্নায়। আমরা অনেক দিন ধরিয়া কাঁদিয়াছি; এখন আর কাঁদিবার প্রয়োজন নাই, এখন নিজের পায়ে ভর দিয়া দাঁড়াইয়া মানুষ হও। আমাদের এখন এমন ধর্ম চাই, যাহা আমাদিগকে মানষ করিতে পারে। আমাদের এমন সব মতবাদ আবশ্যক, যেগুলি আমাদিগকে মানুষ করিয়া গড়িয়া তোলে। যাহাতে মানুষে গঠিত হয়, এমন সর্বাঙ্গ সম্পূর্ণ শিক্ষার প্রয়োজন।

কোন বিষয় সত্য কি অসত্য- জানিতে হইলে তাহার অব্যর্থ পরীক্ষা এই : উহা তোমাকে শারীরিক মানসিক বা আধ্যাত্মিকভাবে দুর্বল করে কিনা; যদি করে তবে তাহা বিষবৎ পরিহার কর—উহাতে প্রাণ নাই, উহা কখন সত্য হইতে পারে না।…তোমরা তো এখনই যথেষ্ট দুর্বল হইয়া পড়িয়াছ, তোমাদিগকে আর দুর্বলতর হীনতর হইতে দেখিতে পারি না। অতএব – তোমাদের কল্যাণের জন্য এবং সত্যের জন্য, আমার স্বজাতির যাহাতে আর অবনতি না হয় সেজন্য উচ্চঃস্বরে চীৎকার করিয়া বলিতে বাধ্য হইতেছি : আর না, অবনতির পথে আর অগ্রসর হইও না – যতদূরে গিয়াছ, যথেষ্ট হইয়াছে ।…..তোমরা হৃদয়বান হও, প্রেমিক হও। তোমরা কি প্রাণে প্রাণে বুঝিতেছ যে, কোটি কোটি দেব ও ঋষির বংশধর পশ,প্রায় হইয়া দাঁড়াইয়াছে ? তোমরা কি প্রাণে প্রাণে অননুভব করিতেছ—কোটি কোটি লোক অনাহারে মরিতেছে, কোটি কোটি লোক শত শতাব্দী ধরিয়া অর্থাশনে কাটাইতেছে ? তোমরা কি প্রাণে প্রাণে ঝুঝিতেছ – অজ্ঞানের কৃষ্ণমেঘ সমগ্র ভারতগান আচ্ছন্ন করিয়াছে?

তোমরা কি এই-সকল ভাবিয়া অস্থির হইয়াছ? এই ভাবনায় নিদ্রা কি তোমাদিগকে পরিত্যাগ করিয়াছে ? এই ভাবনা কি তোমাদের রক্তের সহিত মিশিয়া তোমাদের শিরায় শিরায় প্রবাহিত হইয়াছে—তোমাদের হৃদয়ের প্রতি স্পন্দনের সহিত কি এই ভাবনা মিশিয়া গিয়াছে ? এই ভাবনা কি তোমাদিগকে পাগল করিয়া তুলিয়াছে ? দেশের দুর্দশার চিন্তা কি তোমাদের একমাত্র ধ্যানের বিষয় হইয়াছে এবং ঐ চিন্তায় বিভোর হইয়া তোমরা কি তোমাদের নামযশ, স্ত্রীপুত্র, বিষয়সম্পত্তি, এমন কি শরীর পর্যন্ত ভলিয়াছ? তোমাদের এরূপ হইয়াছে কি? যদি হইয়া থাকে, তবে বুঝিও তোমরা প্রথম সোপানে – স্বদেশহিতৈষী হইবার প্রথম সোপানে মাত্র পদার্পণ – করিয়াছ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *