উত্তরায়ণ–দক্ষিণায়ণ, ঋতুচক্র ও জীবনযাপনের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দিলেন Dr Ratan Maurya
নিউজ ইউ এ পি ডিজিটাল ডেস্ক, শিলিগুড়ি | ১১ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ :- আধুনিক সভ্যতা মানুষকে দিয়েছে গতি, প্রযুক্তি ও তাৎক্ষণিক সমাধান। কিন্তু এরই মধ্যে বেড়েছে থাইরয়েড, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, হজমের সমস্যা, মানসিক চাপ ও দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতা। ব্যস্ত জীবন, অনিয়মিত ঘুম, প্রক্রিয়াজাত খাবার ও মানসিক অস্থিরতা শরীরের স্বাভাবিক ছন্দকে ব্যাহত করছে।
এই প্রেক্ষাপটে প্রাচীন ভারতীয় চিকিৎসা পদ্ধতি আয়ুর্বেদ আবারও নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে। সম্প্রতি এক বিস্তৃত আলোচনায় আয়ুর্বেদ চিকিৎসক Dr Ratan Maurya আধুনিক জীবনের সমস্যাগুলিকে আয়ুর্বেদের দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করেন এবং সুস্থ জীবনের একটি সমন্বিত রূপরেখা তুলে ধরেন।
🔍 “উপসর্গ নয়, মূল কারণ খুঁজুন”
Dr Maurya বলেন, বর্তমান চিকিৎসা ব্যবস্থায় অনেক সময় উপসর্গ কমানোতেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু আয়ুর্বেদ শরীরকে একটি সমগ্র ব্যবস্থা হিসেবে দেখে। তার ভাষায়,
“শরীরের ভেতরে কোথায় ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে, সেটি খুঁজে বের করা জরুরি। মূল কারণ ঠিক না করলে রোগ বারবার ফিরে আসবে।”
থাইরয়েড ও হরমোনজনিত সমস্যার ক্ষেত্রেও তিনি জীবনযাত্রার পরিবর্তনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।
🌿 দিনচর্যা: সুস্থতার প্রথম ধাপ
আয়ুর্বেদের অন্যতম মূল ধারণা হলো দিনচর্যা (Dinacharya)— অর্থাৎ নিয়মিত ও শৃঙ্খলাপূর্ণ দৈনন্দিন জীবনযাপন।
Dr Maurya’র মতে—
-
নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানো ও জাগা
-
সুষম ও সময়মতো আহার
-
নিয়মিত ব্যায়াম বা যোগাভ্যাস
-
মানসিক প্রশান্তি বজায় রাখা
এই অভ্যাসগুলো দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতার ভিত্তি গড়ে তোলে।
🍲 অ্যালুমিনিয়ামের বাসন নিয়ে সতর্কবার্তা
আলোচনায় তিনি রান্নার পাত্র সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন। দীর্ঘদিন অ্যালুমিনিয়ামের বাসনে রান্না করা শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলে মত দেন তিনি। অতিরিক্ত অ্যালুমিনিয়াম শরীরে জমলে তা হজম ও স্নায়ুতন্ত্রের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে উল্লেখ করেন।
এর পরিবর্তে তিনি লোহার কড়াই বা পাত্রে রান্না করার পরামর্শ দেন। তার মতে, লোহার পাত্রে রান্না করলে অল্প পরিমাণ প্রাকৃতিক আয়রন খাবারের সঙ্গে মিশে শরীরের উপকার করতে পারে, বিশেষ করে যাদের আয়রনের ঘাটতি রয়েছে।
☀ উত্তরায়ণ ও দক্ষিণায়ণ: শরীরের শক্তির পরিবর্তন
Dr Maurya ব্যাখ্যা করেন, আয়ুর্বেদে সূর্যের অবস্থান পরিবর্তন— উত্তরায়ণ ও দক্ষিণায়ণ— মানুষের শরীরের শক্তি ও হজমক্ষমতার উপর প্রভাব ফেলে।
🔸 উত্তরায়ণ (মকর সংক্রান্তি থেকে প্রায় ছয় মাস)
এই সময়ে শরীরের শক্তি ধীরে ধীরে কমতে থাকে। তাই হালকা, সহজপাচ্য ও কম তৈলাক্ত খাবার গ্রহণ করা উচিত।
🔸 দক্ষিণায়ণ (প্রায় বর্ষা থেকে শীতকাল)
এই সময়ে শরীর তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী হয়। পুষ্টিকর ও কিছুটা ভারী খাবার গ্রহণ করা যেতে পারে।
তার মতে, প্রকৃতির পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে খাদ্যাভ্যাস না বদলালে শরীরের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে।
🌧 ঋতুভেদে খাদ্য নিয়ম
Dr Maurya আরও বলেন, ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
-
বর্ষাকালে দুধ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন তিনি, কারণ এই সময়ে হজমশক্তি তুলনামূলক দুর্বল থাকে।
-
গ্রীষ্মকালে হালকা ও শীতল প্রকৃতির খাবার উপকারী।
-
শীতকালে শক্তিবর্ধক ও পুষ্টিকর খাবার শরীরের জন্য ভালো।
তিনি জানান, প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চলাই আয়ুর্বেদের মূল দর্শন।
⚖ আধুনিক চিকিৎসা ও আয়ুর্বেদের সমন্বয়
Dr Maurya মনে করেন, জরুরি চিকিৎসায় আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি অত্যন্ত কার্যকর। তবে দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতার জন্য জীবনযাত্রার শুদ্ধতা অপরিহার্য।
তার মতে, আধুনিক চিকিৎসা ও আয়ুর্বেদের সমন্বিত প্রয়োগ ভবিষ্যতের স্বাস্থ্যব্যবস্থায় একটি শক্তিশালী দিশা দেখাতে পারে।
🧘 সুস্থতার দর্শন: ধৈর্য ও সচেতনতা
দ্রুত ফলের আশায় তাৎক্ষণিক সমাধান খোঁজার প্রবণতার বিপরীতে Dr Maurya ধৈর্য ও নিয়মিততার উপর জোর দেন।
তার বার্তা স্পষ্ট—
“প্রকৃতির নিয়ম মেনে চলুন, শরীরকে বুঝুন, আর জীবনযাপনে শৃঙ্খলা আনুন— তাহলেই সুস্থতা সম্ভব।”
বর্তমান সময়ে যখন জীবনযাত্রাজনিত রোগ বাড়ছে, তখন তার এই বক্তব্য স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের মধ্যে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
📌 (এই প্রতিবেদনটি সাধারণ তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত। ব্যক্তিগত চিকিৎসার জন্য অবশ্যই যোগ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।)
— News UAP Digital Desk
