ডেথ সার্টিফিকেট নেই, প্রতিশ্রুতি মতো মেলেনি চাকরিও!
ঘটনার সময় জাতীয় সড়ক অবরোধ তুলতে মন্ত্রী বুলু চিক বড়াইকের পুত্র তথা পঞ্চায়েত প্রধান অশোক চিক বড়াইক সৎকার এবং হাসপাতালের অস্থায়ী চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বলে দাবি পরিবারের। সুজন ওরাওঁ জানান, “বাবার মৃত্যুর পর চরম অনটনে কেরালায় কাজ করতে চলে গিয়েছি। সেখান থেকে অশোকবাবুকে ফোন করলে তিনি আর ফোন তোলেননি।”
৭ই মার্চ,২০২৬ :- নিউজ ইউ এ পি ডিজিটাল ডেস্ক:বিশেষ প্রতিবেদন ,মালবাজার: প্রতিশ্রুতি ছিল আকাশচুম্বী, কিন্তু প্রাপ্তির ঝুলি আজও শূন্য। গত বছরের ১৪ জুন হাসপাতাল থেকে নিখোঁজ হওয়ার দুদিন পর উদ্ধার হয়েছিল বেতগুড়ি চা বাগানের শ্রমিক বুধুয়া ওরাওঁয়ের নিথর দেহ। সেই সময় পরিস্থিতি সামাল দিতে শাসকদলের নেতারা একগুচ্ছ আশ্বাস দিলেও, সাড়ে আট মাস পর দেখা যাচ্ছে সেই শ্রমিক পরিবার আজও একটি ডেথ সার্টিফিকেটের জন্য দরজায় দরজায় ঘুরছে।
বুধুয়া ওরাওঁয়ের স্ত্রী গুইন্দী ওরাওঁয়ের অভিযোগ, মৃত্যুর শংসাপত্র না থাকায় তিনি স্বামীর প্রভিডেন্ট ফান্ডের (PF) টাকা তুলতে পারছেন না। এমনকি মৃত শ্রমিকের বদলে পরিবারের কারও বাগানে কাজ পাওয়ার পথও এর ফলে রুদ্ধ। মালবাজার সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল ও পঞ্চায়েতে চক্কর কাটলেও সুরাহা মেলেনি। হাসপাতালের সুপার অবশ্য জানিয়েছেন, কেন শংসাপত্র পেতে দেরি হচ্ছে তা খতিয়ে দেখবেন তিনি।
ঘটনার সময় জাতীয় সড়ক অবরোধ তুলতে মন্ত্রী বুলু চিক বড়াইকের পুত্র তথা পঞ্চায়েত প্রধান অশোক চিক বড়াইক সৎকার এবং হাসপাতালের অস্থায়ী চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বলে দাবি পরিবারের। সুজন ওরাওঁ জানান, “বাবার মৃত্যুর পর চরম অনটনে কেরালায় কাজ করতে চলে গিয়েছি। সেখান থেকে অশোকবাবুকে ফোন করলে তিনি আর ফোন তোলেননি।”
এই ইস্যু নিয়ে সরব হয়েছে বিজেপি। জেলা সম্পাদক রাকেশ নন্দীর দাবি, জাতীয় সড়ক অবরোধ তুলতেই সেই রাতে মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। অস্বস্তি বাড়ছে তৃণমূলের অন্দরেও। প্রাক্তন পঞ্চায়েত সদস্য ফুলচন্দ টোপ্পো খোদ মন্ত্রীপুত্রের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। যদিও অশোক চিক বড়াইক কোনো প্রতিক্রিয়া দিতে চাননি, তবে পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি সুশীল কুমার প্রসাদ দাবি করেছেন, সুজন নিজেই কম বেতনের কাজ করতে চাননি।
সব মিলিয়ে এক শ্রমিকের রহস্যজনক মৃত্যু আর পরবর্তী প্রশাসনিক টালবাহানায় এখন অন্ধকারে বেতগুড়ি চা বাগানের ওরাওঁ পরিবার।
