রাম মন্দির উদ্বোধন করা হবে। সেই রাম মন্দির উদ্বোধন যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। উপস্থিত থাকবেন উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ সহ আরও অনেকে। কিন্তু আমন্ত্রণ পেলেও সেখানে যাচ্ছেন সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি৷দলের পক্ষ থেকে প্রকাশ করা এক ভিডিও বার্তায় তিনি জানিয়েছেন, “সিপিএম মনে করে ধর্ম প্রতিটি মানুষের ব্যক্তিগত বিষয়।
নিউজ ইউএপি ডিজিটাল ডেস্কঃ আগামী ২২ জানুয়ারি অযোধ্যায় রামমন্দিরের প্রাণপ্রতিষ্ঠা অনুষ্ঠানে সনিয়া গান্ধীর যোগ দেওয়া নিয়ে জল্পনার মধ্যে আজ কংগ্রেস সরকারি ভাবে জানিয়েছে, এ নিয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। যথা সময়ে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে জানিয়ে দেওয়া হবে।লোকসভার আগে এই মন্দির উদ্বোধন ভোটে কতটা প্রভাব ফেলবে তা নিয়ে অঙ্ক কষতে বসে গিয়েছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ মহলের একাংশ।তবে রাম মন্দিরের উদ্বোধনে থাকবেন? সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিলেন সীতারাম ইয়েচুরি।
আাগামী ২২ জানুয়ারি রাম মন্দির উদ্বোধন করা হবে। সেই অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। উপস্থিত থাকবেন উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ সহ আরও অনেকে। কিন্তু আমন্ত্রণ পেলেও সেখানে যাচ্ছেন সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি৷দলের পক্ষ থেকে প্রকাশ করা এক ভিডিও বার্তায় তিনি জানিয়েছেন, “সিপিএম মনে করে ধর্ম প্রতিটি মানুষের ব্যক্তিগত বিষয়। প্রতিটি মানুষের ধর্ম পালন করার অধিকার রয়েছে। আমরা সেই বিষয়টাকে রক্ষা করার চেষ্টা করি সব সময়। কিন্তু অযোধ্যায় যে অনুষ্ঠান হতে চলেছে তা পুরোটাই রাষ্ট্রের মদতে হচ্ছে। মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে পুরোপুরি রাজনীতি করা হচ্ছে। যা দেশের সংবিধানের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। সেই কারণেই ওই অনুষ্ঠানে আমি থাকতে পারব না।একই সঙ্গে তাঁর যুক্তি, সুপ্রিম কোর্টের একাধিক নির্দেশেও বলা হয়েছে, রাষ্ট্র কোনও ধর্ম প্রচারের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারবে না। কিন্তু সেই নির্দেশও মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ তাঁর।
ইতিমধ্যেই মন্দির ঘিরে সাজো সাজে রব। মন্দিরের বেশ কিছু ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, বিশাল মন্দিরের অধিকাংশ কাজই প্রায় শেষ। এখন শেষ তুলির টান দিচ্ছেন নির্মাণকর্মীরা। মন্দিরের গর্ভগৃহটি প্রায় তৈরি হয়ে গিয়েছে। মন্দিরটির দেওয়াল জুড়ে দেখা গিয়েছে অপূর্ব খোদাই করা ভাষ্কর্য। দিনরাত এক করে মন্দির তৈরির শেষ পর্বের কাজ করে চলেছেন শ্রমিকরা। কোথাও চলছে মেঝে মসৃণ করার কাজ, কোথাও আবার ছেনি-হাতুড়ি নিয়ে দেওয়ালে সূক্ষ্ম খোদাইয়ের কাজ করছেন কোনও কর্মী।অন্যদিকে লোকসভার আগে এই মন্দির উদ্বোধন ভোটে কতটা প্রভাব ফেলবে তা নিয়ে অঙ্ক কষতে বসে গিয়েছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ মহলের একাংশ। মন্দির উদ্বোধনের জন্য সারা দেশব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে গেরুয়া শিবিরের পক্ষ থেকে। এটাকে সাফল্য হিসেবেও প্রচার করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে লোকসভা নির্বাচনের আগে এটাকে হিন্দুত্বের তাস বলেই ব্যাখ্যা করছেন বিরোধী শিবিরের নেতারা। আর তাই মন্দির উদ্বোধনে যাওয়া বা না যাওয়াটাকেও রাজনৈতিক পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে৷তবেপ্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যে রামমন্দিরের উদ্বোধনকে কাজে লাগিয়ে লোকসভা নির্বাচনের আগে গোটা দেশে হিন্দু ভাবাবেগ তৈরি করতে চাইছেন এবং নিজের দিকে নজর টেনে আনতে চাইছে— তা কংগ্রেস বুঝতে পারছে। সেখানে যোগ দিলে কংগ্রেস কার্যত মোদীর রাজনৈতিক কৌশলের কাছে বশ্যতা স্বীকার করবে। মোদী মঞ্চে বসে প্রচারের আলো উপভোগ করবেন। কংগ্রেস নেতানেত্রীদের অতিথির আসনে বসে হাততালি দিতে হবে। আবার অনুষ্ঠানে যোগ না দিলে কংগ্রেস শীর্ষ নেতৃত্বকে রামমন্দির-বিরোধী বলে প্রচার করবে বিজেপি।
এখনও পর্যন্ত সনিয়া, খড়্গে ও অধীর চৌধুরীর কাছে অযোধ্যার অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণ এসেছে। এর আগে কংগ্রেস নেতা দিগ্বিজয় সিংহ বলেছিলেন, সনিয়া গান্ধী নিজে না গেলেও তাঁর প্রতিনিধি যাবেন। কিন্তু কংগ্রেস শীর্ষ সূত্রের বক্তব্য, সনিয়া, খড়্গেদের নামে যে আমন্ত্রণপত্র এসেছে, তা নিয়ে অন্য কেউ যেতে পারবেন না। ফলে সেই কৌশল নেওয়ার রাস্তাও বন্ধ।সমাজবাদী পার্টি থেকে সিপিএমের মতো ইন্ডিয়া-র শরিক দল ইতিমধ্যেই অযোধ্যার অনুষ্ঠানে যাবে না বলেছে। কিন্তু কংগ্রেসের পক্ষে এই অবস্থান নেওয়া সহজ নয়। তাছাড়া কংগ্রেসের মধ্যেও ভিন্ন মত রয়েছে। একাংশ কংগ্রেস নেতা বলছেন, রাজীব গান্ধীর আমলেই রামলালার পুজোর জন্য বাবরি মসজিদের তালা খোলা হয়েছিল।
বাংলায় সবার আগে পড়ুন ব্রেকিং নিউজ। থাকছে প্রতিদিনের খবরের লাইভ আপডেট। সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য বাংলা খবর পড়ুন এই NEWS UAP পেজ এর ওয়েবসাইটে।
