এসআইআর আতঙ্ক কাড়ল প্রাণ!

 চ্যাংরাবান্ধায় দুশ্চিন্তায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু প্রৌঢ়ের

গত কয়েকদিন ধরে খাওয়া-দাওয়া প্রায় বন্ধ করে দিয়েছিলেন তিনি এবং নথিপত্র ঠিক করতে দিগিবিদিক ছোটাছুটি করছিলেন। বৃহস্পতিবার রাতে আচমকা তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। চ্যাংরাবান্ধা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে জলপাইগুড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করেন। সেখানেই তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়।

১৩ই  মার্চ,২০২৬ :-নিউজ ইউএপি ডিজিটাল ডেস্ক,:-চ্যাংরাবান্ধা: ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়ার গেরোয় নাম বাদ যাওয়ার আতঙ্কে প্রাণ গেল মেখলিগঞ্জ ব্লকের চ্যাংরাবান্ধা গ্রাম পঞ্চায়েতের তালতলা বাড়ি এলাকার এক বাসিন্দার। মৃত ব্যক্তির নাম মহম্মদ আবু বক্কর সিদ্দিক। পরিবারের দাবি, সন্তানদের নাম ভোটার তালিকায় ‘বিচারাধীন’ বা সমস্যাযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার পর থেকেই গভীর মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন তিনি। সেই দুশ্চিন্তার জেরেই শেষমেশ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, আবু বক্কর সিদ্দিক ও তাঁর স্ত্রীর নাম তালিকায় ঠিক থাকলেও, তাঁর তিন মেয়ে ও এক ছেলের নাম ‘বিচারাধীন’ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। এই খবর পাওয়ার পর থেকেই তিনি চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছিলেন। গত কয়েকদিন ধরে খাওয়া-দাওয়া প্রায় বন্ধ করে দিয়েছিলেন তিনি এবং নথিপত্র ঠিক করতে দিগিবিদিক ছোটাছুটি করছিলেন। বৃহস্পতিবার রাতে আচমকা তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। চ্যাংরাবান্ধা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে জলপাইগুড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করেন। সেখানেই তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়।
শুক্রবার মৃতদেহ বাড়িতে পৌঁছালে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। আবু বক্করের ভাইপো আশরাফুল হক বলেন, “আমার কাকা সম্পূর্ণ সুস্থ ছিলেন। এসআইআর-এর আতঙ্কে ওনার এই অকাল মৃত্যু হল। এই মৃত্যুর দায় কে নেবে? আমরা বিধায়কের মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে এর বিচার চাই।” পরিবারের একমাত্র উপর্জনক্ষম ব্যক্তির মৃত্যুতে অথৈ জলে পরিবারটি।
এদিন শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে দাঁড়াতে হাজির হন মেখলিগঞ্জের বিধায়ক পরেশ চন্দ্র অধিকারী এবং চ্যাংরাবান্ধা পঞ্চায়েত প্রধান ইলিয়াস রহমান। বিধায়ক পরেশ অধিকারী বলেন, “এই ঘটনা অত্যন্ত মর্মান্তিক। আমি সর্বতোভাবে এই পরিবারের পাশে থাকব। গোটা বিষয়টি নিয়ে আমি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা বলব।”