চাকরির দাবিতে উত্তাল শিলিগুড়ি;

বাজেট পেশের দিনে পুরনিগম অভিযানে বিজেপি যুব মোর্চা

নিউজ ইউ এ পি ডিজিটাল ডেস্ক, শিলিগুড়ি | ১৬ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ :- “ভাতা নয়, চাকরি চাই”—এই স্লোগানকে সামনে রেখে সোমবার শিলিগুড়িতে বিক্ষোভ মিছিল করল ভারতীয় জনতা যুব মোর্চা। রাজ্যে বেকারত্ব বৃদ্ধি এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির প্রতিবাদে এদিন শিলিগুড়ি সাংগঠনিক জেলা যুব মোর্চার তরফে ‘কর্পোরেশন চলো’ অভিযানের ডাক দেওয়া হয়। একদিকে যখন পুরনিগমের ভেতরে বাজেট অধিবেশন চলছিল, তখন বাইরে বিজেপি কর্মীদের বিক্ষোভে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
এদিন শহরের প্রধান সড়কে একটি বিশাল প্রতিবাদ মিছিল বের করেন যুব মোর্চার কর্মী-সমর্থকরা। তাঁদের হাতে ছিল দলীয় পতাকা ও “চাকরি চায় বাংলা” লেখা সম্বলিত ব্যানার। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, রাজ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব এবং পাহাড়প্রমাণ দুর্নীতির কারণে কয়েক লক্ষ যোগ্য প্রার্থী আজ কর্মহীন হয়ে বসে আছেন। রাজ্য সরকার স্থায়ী কর্মসংস্থানের বদলে নামমাত্র ভাতা দিয়ে যুবসমাজকে ভুল পথে চালিত করছে বলে দাবি করেন তাঁরা।
আন্দোলনে শামিল হয়ে শিলিগুড়ির বিধায়ক শংকর ঘোষ এবং দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্ত রাজ্য সরকারের কড়া সমালোচনা করেন। রাজু বিস্ত বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে যোগ্য প্রার্থীরা রাজপথে বসে চোখের জল ফেলছেন, কিন্তু সরকার নির্বিকার। ভাতা দিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না, বাংলার যুবক-যুবতীদের সম্মানজনক স্থায়ী চাকরি দিতে হবে।” বিধায়ক শংকর ঘোষ জানান, রাজ্য সরকার যদি স্বচ্ছ নিয়োগের পথে না হাঁটে, তবে এই আন্দোলন আগামীতে আরও বৃহত্তর আকার ধারণ করবে।
এদিনের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পুরনিগম চত্বরে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা পরিক্রমা করার সময় বেশ কিছুক্ষণ যান চলাচল ব্যাহত হয়। তবে পুলিশের তৎপরতায় বড় কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। যুব মোর্চার পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, এটি কেবল শুরু; দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের লড়াই চলবে।

পোড়াঝাড়ে তৃণমূলের গোষ্ঠীসংঘর্ষ: পুড়ল দোকান, পঞ্চায়েত সদস্যসহ ৫ জনকে গ্রেফতার করল পুলিশ
ফুলবাড়ি: বালি-পাথর ফেলাকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবার পৌঁছল অগ্নিসংযোগের পর্যায়ে। ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি বিধানসভার অন্তর্গত পোড়াঝাড় এলাকায় শনিবার রাতে দুই গোষ্ঠীর লড়াইয়ে ভস্মীভূত হলো এক কর্মীর দোকান। এই ঘটনায় নিউ জলপাইগুড়ি থানার পুলিশ স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য রাজু মণ্ডলসহ মোট পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে।
স্থানীয় সূত্রে খবর, এলাকায় বালি ও পাথর ফেলার কাজ কার নিয়ন্ত্রণে থাকবে, তা নিয়ে তৃণমূলের দুটি পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন চলছিল। শনিবার রাতে সেই বিবাদ চরম আকার ধারণ করে। হাতাহাতি ও বচসার রেশ কাটতে না কাটতেই গভীর রাতে এক তৃণমূল কর্মীর দোকানে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে বিরোধী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে। দাউদাউ করে জ্বলতে থাকা দোকানটি নেভাতে দমকলকে খবর দেওয়া হয়। দমকল কর্মীরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলেও দোকানের আসবাব ও সামগ্রী পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে।
রবিবার সকাল থেকেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পোড়াঝাড় এলাকা। অভিযুক্ত পঞ্চায়েত সদস্য রাজু মণ্ডলের গ্রেফতারির দাবিতে তাঁর বাড়ির সামনে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন তৃণমূলের অন্য গোষ্ঠীর সমর্থকরা। উত্তেজনা বাড়তে থাকায় নিউ জলপাইগুড়ি থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অভিযোগের গুরুত্ব বিচার করে পুলিশ অভিযান চালিয়ে পঞ্চায়েত সদস্য রাজু মণ্ডলসহ নারায়ণ মজুমদার, সুরজিৎ সরকার, কিরণ সরকার এবং গয়ানাথ মণ্ডলকে গ্রেফতার করে।
সোমবার ধৃত পাঁচজনকে জলপাইগুড়ি জেলা আদালতে পেশ করা হয়েছে। যদিও পঞ্চায়েত সদস্য রাজু মণ্ডলের দাবি, তাঁকে রাজনৈতিক চক্রান্ত করে ফাঁসানো হয়েছে এবং অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার সাথে তাঁর কোনও যোগ নেই। তবে প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এলাকায় নতুন করে সংঘাত এড়াতে পুলিশি টহলদারি বাড়ানো হয়েছে।