নিউজ ইউএপি ডিজিটাল ডেস্কঃ সোমবার ভগবানপুর বিধানসভা এলাকার বাসুদেববেড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের বড়বড়িয়া গ্রামে এই দেওয়াল লিখন নজরে আসতেই শোরগোল পড়ে যায়।২০২৪ সালে শুভেন্দু অধিকারীকে ভোট দেওয়ার আবেদন জানিয়ে দেওয়াল লিখন নজরে এল ভগবানপুরে। কাঁথি লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত ভগবানপুর। এখানেই পঞ্চায়েত ভোট শেষ হতে না হতেই শুভেন্দুকে ভোট দেওয়ার আবেদন।সকালে অনেকেই দেখতে পান দেওয়ালে লেখা, ‘কাঁথি লোকসভা কেন্দ্রে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে এই চিহ্নে ভোট দিন।’ পাশে আঁকা পদ্ম। যা বিজেপির প্রতীক। তলায় লেখা রয়েছে ‘১১২ নম্বর বড়বড়িয়া বিজেপি যুব মোর্চা কর্তৃক প্রচারিত।’ পঞ্চায়েত ভোটের পরেই এমন দেওয়াল লিখন দেখে আলোড়ন পড়ে এলাকায়।
তবে শুভেন্দু অধিকারী নিজে বিষয়টিকে তৃণমূলের কাজ বলেই চিহ্নিত করেছেন। তাঁর কথায়, “আমাকে বিধানসভায় সামলাতে পারছে না ওরা। তাই লোকসভায় পাঠাতে চায়। এই দেওয়াল লিখনের সঙ্গে বিজেপির কোনও যোগ নেই।”কাঁথি লোকসভার মুগবেড়িয়া এলাকায় ১১২ নম্বর বুথে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর নামে দেওয়াল লিখনের কাজ শুরু করে দিয়েছেন স্থানীয় বিজেপি প্রার্থীরা। শুভেন্দু অধিকারীকে প্রার্থী হিসেবে চাইছেন তাঁরা। লোকসভা নির্বাচনের এখনও খাতায় কলমে প্রায় এক বছর দেরি। ফলে প্রার্থী ঘোষণার প্রশ্নও ওঠে না৷ তবু উৎসাহী বিজেপি কর্মীরা শুভেন্দু অধিকারীকে লোকসভায় দলের প্রার্থী হিসেবে দেখতে চাইছেন।কাঁথির সাংসদ এখন শিশির অধিকারী।
তাঁর সাংসদ পদ বাতিল করতে একাধিক বার লোকসভায় চিঠি দিয়েছে তৃণমূল। তাই ২০২৪ লোকসভা ভোটে শিশিরবাবুকে তৃণমূল প্রার্থী করবে না, এটা ধরেই নেওয়া যায়। তৃণমূলের টিকিটে তমলুকের সাংসদ ছিলেন শুভেন্দু। তিনি সাংসদ পদ থেকে সরে রাজ্যের মন্ত্রী হওয়ায় ওই কেন্দ্রে সাংসদ হন শুভেন্দুর ভাই দিব্যেন্দু অধিকারী। সম্প্রতি একাধিক সভা থেকে শুভেন্দুকে বলতে শোনা গেছে, কাঁথি এবং তমলুক লোকসভা কেন্দ্রে রেকর্ড ভোটে জয়ী হবে বিজেপি। রবিবারই এই নিয়ে কটাক্ষ করেছিলেন তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভগবানপুরে এই দেওয়াল লিখন তৃণমূলের কাজ বলে অভিযোগ স্বয়ং শুভেন্দুর। পঞ্চায়েত ভোট মিটতেই আলোচনায় কিন্তু এসে গেল লোকসভা ভোট।
কাঁথি লোকসভা কেন্দ্রের বর্তমান সাংসদ শুভেন্দু অধিকারীর বাবা শিশির অধিকারী৷ তৃণমূলে থাকাকালীন দীর্ঘদিন তমলুকের সাংসদ ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী৷ পরে তিনি সাংসদ পদ ছাড়ায় তমলুকের সাংসদ হন দিব্যেন্দু অধিকারী৷ বর্তমানে শিশির অধিকারী এবং দিব্যেন্দু অধিকারীর সম্পর্ক কার্যত ছিন্ন৷ বিজেপি যোগ নিয়ে যতই জল্পনা থাকুক না কেন, বয়সজনিত কারণেই শিশির অধিকারীর এবারের লোকসভা নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ৷ ফলে কাঁথি লোকসভা কেন্দ্রে বিজেপি-র প্রার্থী কে হবেন, তা নিয়ে এখন থেকেই চর্চা শুরু হয়েছে৷শুভেন্দু অধিকারীর নিজের জেলা হলেও সদ্য শেষ হওয়া পঞ্চায়েত নির্বাচনে বিজেপি-কে টেক্কা দিয়েছে তৃণমূল৷ এই অবস্থায় ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে জেলার দুই লোকসভা কেন্দ্রে দলের জয় নিয়ে সংশয় বাড়ছে বিজেপি-র নেতা কর্মীদের মধ্যে৷ কাঁথি, তমলুক লোকসভা কেন্দ্র গত কয়েক বছরে অধিকারী পরিবারের সঙ্গে সমার্থক হয়ে উঠেছে৷ ফলে শুভেন্দু অধিকারীকে প্রার্থী করলে বিজেপি-র জয়ের সম্ভাবনা বাড়বে, এমন ধারণা থেকেই দলের কর্মী সমর্থকরা শুভেন্দু অধিকারীর সমর্থনে দেওয়াল লিখেছেন বলে মনে করা হচ্ছে৷
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এখনও শুভেন্দু অধিকারী অথবা জেলা বিজেপি নেতৃত্বের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি৷ তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, বর্তমানে রাজ্যে তৃণমূলকে পরাজিত করাকেই পাখির চোখ করেছেন শুভেন্দু অধিকারী৷ বিরোধী দলনেতা হিসেবে তাঁর উপর যথেষ্ট আস্থা রয়েছে দিল্লিতে দলের শীর্ষ নেতৃত্বেরও৷ এই অবস্থায় শুভেন্দু লোকসভায় প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা কতটা, তা নিয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছেনা৷
