সজল জেলে যেতেই শিবির বদল অনুগামীদের

এই অবস্থায় কোচবিহার জেলার নয়টি বিধানসভার কেন্দ্রের মধ্যে তৃণমূলের সবচেয়ে খারাপ অবস্থা হচ্ছে কোচবিহার উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রে। কেন্দ্রটিতে বিজেপি এমনিতেই শক্তিশালী, তার উপর এখানে তৃণমূলের গোষ্ঠীকোন্দল বিশেষ করে জেলা সভাপতির সঙ্গে ব্লক সভাপতির কোন্দল ভয়াবহ আকার নিয়েছে। যার ফলে তৃণমূল সেখানে অনেকটাই ব্যাকফুটে রয়েছে। এই অবস্থায় ব্লক সভাপতি সজল সরকার সম্প্রতি গ্রেপ্তার হওয়ায় কেন্দ্রটিতে সজলের অনুগামীরা বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছেন। তাঁরা কী করবেন, কোনদিকে যাবেন কিছু বুঝে উঠতে পারছেন না।

নিউজ ইউ এ পি ডিজিটাল ডেস্ক, কোচবিহার,১৮ নভেম্বর ২০২৫:কয়েকদিন আগে কোচবিহার ২ ব্লক সভাপতি সজল সরকারের সভায় যাঁরা জেলা সভাপতি অভিজিৎ দে ভৌমিকের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন, সজল গ্রেপ্তার হতেই তাঁরা এখন শিবির পরিবর্তন করতে শুরু করেছেন। মঙ্গলবার তাঁরা কোচবিহারে দলের জেলা কার্যালয়ে এসে জেলা সভাপতির সঙ্গে বৈঠক করেন। তৃণমূলের নেতারা মনে করছেন, এটা আসলে সমঝোতা মিটিং। সজল নেই, কিন্তু তাঁদের দলীয় পদ তো বাঁচাতে হবে। এই কারণে জেলা সভাপতির কাছে এসে কার্যত আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হন সজলের অনুগামীরা।
দলীয় সূত্রে খবর, বৈঠকে সজল অনুগামীরা নিজেদের ভুল স্বীকার করে নেন। ঘটনার কথা জানাজানি হতে তৃণমূলের অন্দরে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। সামনেই বিধানসভা নির্বাচন। এই অবস্থায় কোচবিহার জেলার নয়টি বিধানসভার কেন্দ্রের মধ্যে তৃণমূলের সবচেয়ে খারাপ অবস্থা হচ্ছে কোচবিহার উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রে। কেন্দ্রটিতে বিজেপি এমনিতেই শক্তিশালী, তার উপর এখানে তৃণমূলের গোষ্ঠীকোন্দল বিশেষ করে জেলা সভাপতির সঙ্গে ব্লক সভাপতির কোন্দল ভয়াবহ আকার নিয়েছে। যার ফলে তৃণমূল সেখানে অনেকটাই ব্যাকফুটে রয়েছে। এই অবস্থায় ব্লক সভাপতি সজল সরকার সম্প্রতি গ্রেপ্তার হওয়ায় কেন্দ্রটিতে সজলের অনুগামীরা বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছেন। তাঁরা কী করবেন, কোনদিকে যাবেন কিছু বুঝে উঠতে পারছেন না। দলীয় সূত্রে খবর, এই সময়ে পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে কেন্দ্রটিতে পুনরায় ঘর গোছাতে শুরু করেছেন জেলা সভাপতি। এদিন উত্তর বিধানসভা কেন্দ্র নিয়ে দলের জেলা কার্যালয়ে বৈঠক ডাকেন অভিজিৎ। সেই বৈঠকে সজলের ঘনিষ্ঠ ব্লকের গোপালপুর গ্রাম প‌ঞ্চায়েতের অঞ্চল সভাপতি সুব্রত চকদার, ঢাংঢিংগুড়ির অঞ্চল সভাপতি নির্মলচন্দ্র রায়, মরিচবাড়ির অঞ্চল সভাপতি তুলসী সরকার, পাতলাখাওয়ার অঞ্চল সভাপতি আমজাদ আলি, বড়রাংরসের অঞ্চল সভাপতি দীপঙ্কর রায় প্রমুখকে দেখা যায়। এছাড়াও জেলা পরিষদ সদস্য শিখা দাস সহ সজল-ঘনিষ্ঠ একাধিক নেতা-নেত্রী বৈঠকে ছিলেন। যদিও বৈঠক নিয়ে কিছুই বলতে চাননি সুব্রত চকদার।

সংক্ষেপে তাঁর উত্তর, ‘জেলা সভাপতি বৈঠক ডেকেছিলেন। তাই এসেছি।’ খোলসা করেননি জেলা সভাপতিও। তিনি বলেন, ‘কোচবিহার উত্তর বিধানসভা কেন্দ্র নিয়ে দলের বর্ধিত সভা করেছি। ওই বৈঠকে ব্লকের প্রায় সমস্ত নেতৃত্ব উপস্থিত ছিলেন।’ তৃণমূলের অন্দরের আলোচনা, ব্লক সভাপতি নেই। এই অবস্থায় নির্বাচনের আগে ব্লকে দল চলবে কীভাবে? যে কারণে জেলা সভাপতি এদিন বিধানসভা কেন্দ্র নিয়ে বৈঠক ডেকেছিলেন। তাতে সজলের অনুগামীরা যেভাবে ভিড় করেছেন, তাতে স্পষ্ট আগামীদিনে সজল ফিরে এলেও ব্লকের রাশ পুনরায় তাঁর পক্ষে নেওয়া সম্ভব হবে না। বৈঠক সূত্রে খবর, ব্লকে বিবাদ মিটিয়ে নিজের মতো করে দল সাজিয়ে নির্বাচনে ঝাঁপাতে চাইছে তৃণমূল। আর তৃণমূলের জেলা নেতৃত্বের এই মিশন সফল হলে কেন্দ্রটিতে বিজেপিকে যথেষ্ট বেগ পেতে হতে পারে।