মহিষাদল: মহিষাদলের রথের মেলা প্রায় ২৪৭ বছরের পুরনো। শোনা যায়, মহিষাদলের রাজা আনন্দ লালের স্ত্রী রানি জানকির উৎসাহে ১৭৭৬ সালে রথযাত্রার শুরু হয়। সেই থেকে চলে আসছে এই রথেরমেলা। দিন যত গিয়েছে, মেলা বহরে বেড়েছে। আগে তো ১৫ দিনের মেলা হতো, এখন তা একমাস ধরে চলে। আগে মেলায় পালাগান হতো। কলকাতা থেকে যাত্রার দল আসত। সময়ের হাত ধরে সেসব এখন হারিয়েছে। তবে জৌলুস ম্লান এ কথা বলা যাবে না।
এই মেলায় সবং থেকে আসেন মাদুরশিল্পীরা। হরেক রকমের গাছ, ফুল বিক্রি হয় মেলায়। তোপধ্বনি দিয়ে শুরু হয় এই রথের যাত্রা। গুণ্ডিচাবাটি পৌঁছয় রথ। ফি বছর এই রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে বিশাল মেলা বসে এখানে। রথের মেলা বললেই সকলের চোখের সামনে পাঁপড় ভাজার ছবি ভেসে উঠলেও, এলাকার লোকজন বলেন, মহিষাদলের মেলায় নাকি সবথেকে বেশি বিক্রি হয় কাঁঠাল। মেলাচত্বরে লাইন করে কাঁঠালের পসরা নিয়ে বসেন দোকানিরা। এছাড়া ফুচকা, ঘুগনি, তেলেভাজা, পাঁপড়ভাজার দোকান তো থাকেই।
পুরীর রথের পরই আসে হুগলির মাহেশের রথ, পূর্ব মেদিনীপুরের মহিষাদলের রথের কথা। মহিষাদলের রথ দেখতে ফি বছর লক্ষ লক্ষ মানুষ আসেন জেলায়। দিন যত যাচ্ছে, মানুষের ভিড়ও তত বাড়ছে। রথের পূণ্য রশিতে টান দিতে শুধু জেলার মানুষই নন, হাজির হন পার্শ্ববর্তী জেলার মানুষও। এখনও এই রথের দিন মহিষাদল রাজবাড়ি থেকে রাজা আসেন। পালকি চড়ে রাজা হরপ্রসাদ গর্গ আসেন। এরপর সুপ্রাচীনকাল থেকে চলে আসা নিয়ম মেনেই এগোয় রথের আচারঅনুষ্ঠান। মঙ্গলবারও একইভাবে পালিত হলো মহিষাদলের রথযাত্রা।
