সামসীর সভা থেকে মৌসমকে চড়া সুরে আক্রমণ মমতার,
পাল্টা তোপ ‘গ্রেটার’ নেত্রীর
৫ইএপ্রিল,২০২৬ :- নিউজ ইউএপি ডিজিটাল ডেস্ক: সামসী: মালদহের রাজনীতিতে এবার সৌজন্যের পালা শেষ, শুরু হলো সরাসরি সংঘাত। শনিবার সামসী কলেজ মাঠের জনসভা থেকে নাম না করে মৌসম নূরকে তীব্র আক্রমণ শানালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। লোকসভা নির্বাচনের ঠিক আগে মৌসমের কংগ্রেসে প্রত্যাবর্তনকে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবে দেগে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানান, মালদহের মানুষ এর যোগ্য জবাব দেবেন।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “মালদহে লোকসভার প্রতিনিধি না থাকায় আমরা ওনাকে রাজ্যসভায় পাঠিয়েছিলাম। সরাসরি ভোটে লড়ে উনি জিততে পারেননি, আমাদের বিধায়কদের ভোটে এবং এমনকি আমার নিজের ভোট পেয়ে উনি সাংসদ হয়েছিলেন। আমি নিজে কোনোদিন রাজ্যসভায় যাইনি, অথচ এত সুযোগ পেয়েও ভোটের মুখে দলের বিরুদ্ধাচরণ— এটা মানুষ মেনে নেবে না।” মুখ্যমন্ত্রী আরও যোগ করেন, যারা বেইমানি করে পালিয়ে যায়, তাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অন্ধকার।
মুখ্যমন্ত্রীর আক্রমণের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাল্টাটান মৌসম নূর। কৃতজ্ঞতা স্বীকারের পাশাপাশি তিনি একরাশ অভিযোগ উগরে দিয়ে বলেন, “আমাকে রাজ্যসভায় পাঠানোর জন্য ওনাকে ধন্যবাদ। কিন্তু ৫ বছর মালদহের জন্য কাজ করার কোনো সুযোগই আমাকে দেওয়া হয়নি। রাজ্যসভায় বলার সুযোগ পেতাম না, তাও নিজের উদ্যোগে নদী ভাঙন নিয়ে কথা বলেছি।”
কংগ্রেসে ফেরা নিয়ে আবেগপ্রবণ মৌসম দাবি করেন, “আমি যখন মালদহে ফিরলাম, স্টেশনে হাজার হাজার মানুষের ঢল দেখে বুঝেছিলাম তৃণমূলে যাওয়া আমার ভুল ছিল। এখন আমি নিজের দলে (কংগ্রেস) ফিরে শান্তিতে আছি।” তিনি আরও মনে করিয়ে দেন যে, লোকসভার সাংসদ থাকাকালীন তিনি মালদহের জন্য একাধিক উন্নয়নমূলক কাজ করেছিলেন যা মানুষ ভোলেনি।
গনি খান চৌধুরীর পরিবারের এই উত্তরাধিকারীকে ঘিরে তৃণমূল ও কংগ্রেসের এই বাকযুদ্ধ মালদহের রাজনৈতিক লড়াইকে এক নতুন মাত্রা দিল। একদিকে মমতার ‘বেইমানি’র তত্ত্ব, অন্যদিকে মৌসমের ‘কাজের সুযোগ না পাওয়ার’ অভিযোগ— এই দুইয়ের যাঁতাকলে পড়ে মালদহের সাধারণ ভোটাররা কার দিকে পাল্লা ভারি করেন, এখন সেটাই দেখার।
ভোট লুঠের প্রস্তুতি না কি বড় নাশকতার ছক?‘
চ্যাংরাবান্ধায় আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারে ঘনীভূত রহস্য
৫ইএপ্রিল,২০২৬ :- নিউজ ইউএপি ডিজিটাল ডেস্ক: মেখলিগঞ্জ: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে উত্তরবঙ্গে নাশকতার বড়সড় ছক ভেস্তে দিল পুলিশ। রবিবার ভোর সোয়া ৪টে নাগাদ চ্যাংরাবান্ধা বাইপাস এলাকার নাকা চেকিং পয়েন্টে একটি সন্দেহভাজন গাড়ি থেকে উদ্ধার হলো ৬টি দেশি ওয়ান শটার (কাট্টা) এবং ২০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শিলিগুড়ি থেকে দিনহাটার অভিমুখে যাওয়া একটি ছোট গাড়ি (নম্বর: WB 06 J 6260) সম্পর্কে আগেভাগেই খবর ছিল গোয়েন্দাদের কাছে। সেই মতো চ্যাংরাবান্ধা বাইপাসে ওত পেতে ছিল পুলিশ। গাড়িটি নাকা পয়েন্টে পৌঁছালে তল্লাশি চালিয়ে লুকানো অবস্থায় আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি উদ্ধার হয়। ধৃত দুই ব্যক্তির নাম মনিরুল ইসলাম ও সামিম রহমান। ধৃতদের মেখলিগঞ্জ থানায় নিয়ে গিয়ে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
মেখলিগঞ্জের এসডিপিও আশিষ পি সুব্বা জানিয়েছেন, “নির্দিষ্ট খবরের ভিত্তিতে এই অভিযান চালানো হয়েছিল। উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও গুলি জেলা ক্রাইম ব্রাঞ্চের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। ধৃত দুজনকে আজই মেখলিগঞ্জ মহকুমা আদালতে তোলা হবে। এই চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত এবং এই অস্ত্র কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”
ভোটের মুখে দিনহাটার দিকে এতগুলি আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্য কী ছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সীমান্ত এলাকায় চোরাচালানের আড়ালে বড় কোনও রাজনৈতিক গোলমাল বা নাশকতার পরিক
ল্পনা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ ও গোয়েন্দা বিভাগ। আন্তর্জাতিক সীমান্ত বাণিজ্য কেন্দ্রে এই ধরনের অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
