পার্থর মুক্তির নির্দেশে চাঞ্চল্য! আদালতের শর্ত পূরণে ফেরার পথ সুগম

জেলে বন্দি ছিলেন পার্থ। মাঝখানে একাধিকবার জামিনের আবেদন করলেও তা খারিজ হয়ে যায়। এমনকী সুপ্রিম কোর্টেরও দ্বারস্থ হয়েছিলেন তিনি। তবে গ্রুপ সি শিক্ষক নিয়োগ মামলায় সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেয়— প্রথমে চার্জ গঠন করতে হবে নিম্ন আদালতে, এরপর দুই মাসের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন করতে হবে। সাক্ষ্য গ্রহণের কাজ শেষ হলেই শর্তসাপেক্ষে মিলবে জামিন।শেষমেশ সেই সাক্ষ্যগ্রহণ প্রক্রিয়া সোমবার সম্পন্ন হয়। মোট ৮ জন সাক্ষীর জবানবন্দি নথিবদ্ধ হয়েছে।

 

অবশেষে জেলমুক্ত! ৩ বছর ৩ মাস পর বাড়ি ফিরছেন প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়

সঙ্গী হচ্ছেন এসএসসি-র প্রাক্তন চেয়ারম্যান সুবীরেশ ভট্টাচার্যও

**নিউজ ইউ এ পি ডিজিটাল ডেস্ক, উত্তরবঙ্গ ,১০ই নভেম্বর  :**শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় দীর্ঘ ৩ বছর ৩ মাস ১৮ দিনের বন্দিদশার অবসান। অবশেষে জেল থেকে মুক্তি পেতে চলেছেন রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। একইসঙ্গে মুক্তি পাচ্ছেন এসএসসি-র প্রাক্তন চেয়ারম্যান সুবীরেশ ভট্টাচার্যও। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে মঙ্গলবার বা সর্বোচ্চ বুধবার বাড়ি ফিরতে পারেন পার্থ।

২০২২ সালের ২২ জুলাই নাকতলার বাসভবনে ইডির তল্লাশির পর গ্রেফতার হন তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। এরপর তল্লাশি অভিযান চলে তাঁর ঘনিষ্ঠ অভিনেত্রী অর্পিতা চট্টোপাধ্যায়ের একাধিক ফ্ল্যাটে। সেখান থেকেই উদ্ধার হয় বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ, সোনা ও নথিপত্র। ওই ঘটনার জেরেই রীতিমতো তোলপাড় হয় রাজ্য রাজনীতি।

এরপর থেকেই জেলে বন্দি ছিলেন পার্থ। মাঝখানে একাধিকবার জামিনের আবেদন করলেও তা খারিজ হয়ে যায়। এমনকী সুপ্রিম কোর্টেরও দ্বারস্থ হয়েছিলেন তিনি। তবে গ্রুপ সি শিক্ষক নিয়োগ মামলায় সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেয়— প্রথমে চার্জ গঠন করতে হবে নিম্ন আদালতে, এরপর দুই মাসের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন করতে হবে। সাক্ষ্য গ্রহণের কাজ শেষ হলেই শর্তসাপেক্ষে মিলবে জামিন।

শেষমেশ সেই সাক্ষ্যগ্রহণ প্রক্রিয়া সোমবার সম্পন্ন হয়। মোট ৮ জন সাক্ষীর জবানবন্দি নথিবদ্ধ হয়েছে। এর পরই পার্থর মুক্তির নির্দেশ আসে। ইতিমধ্যেই ৯০ হাজার টাকার বন্ডও জমা পড়ে গিয়েছে। বিশেষ সিবিআই আদালতের বিচারক রিলিজ অর্ডারে সই করলেই প্রেসিডেন্সি জেলের আনুষ্ঠানিক মুক্তির প্রক্রিয়া শুরু হবে।

হাসপাতাল থেকেই শুনানি, এল মুক্তির সুখবর

বিগত কয়েকমাস ধরে শারীরিক অসুস্থতার কারণে বাইপাসের ধারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। রেচনতন্ত্রের সংক্রমণ, হৃদযন্ত্রের অপারেশন, কিডনি সমস্যা এবং ছানি অপারেশন— একের পর এক শারীরিক জটিলতায় ২০২ দিন কাটছে হাসপাতালেই। সেখান থেকেই ভার্চুয়াল মাধ্যমে আদালতের শুনানিতে অংশ নেন তিনি। মুক্তির খবর শোনার পর তাঁকে খানিকটা হাসিমুখে দেখা যায় ভিডিও ফিডে।

রাজনৈতিক মহলে চর্চা তুঙ্গে

পার্থর মুক্তি ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে নয়া উত্তাপ। বিরোধীরা দাবি করছে— ‘‘এই মুক্তি বিশেষ রাজনৈতিক সমঝোতার ইঙ্গিত’’, অন্যদিকে শাসক শিবির বলছে— “আইন তার নিজস্ব পথে এগিয়েছে”।

অন্যদিকে, সাধারণ মানুষের একটি বড় অংশের নজর আবার পড়ছে অর্পিতা চট্টোপাধ্যায়ের ভূমিকা ও সেই বিপুল টাকার উৎস কোথায়— সেই তদন্ত কোন দিকে গড়ায়।

এখন নজর পরবর্তী আইনি পদক্ষেপে

জেল থেকে বেরোলেও মামলার কার্যক্রম সম্পূর্ণ শেষ হয়নি। দলিল, জবানবন্দি, সাক্ষ্য— সবকিছুর ওপরেই পরবর্তী শুনানির ভিত্তি দাঁড়াবে বলে আইনজীবী মহল মনে করছে।

তবে আপাতত দীর্ঘ বন্দিজীবনের পর মুক্ত জীবনে ফিরতেই পার্থ এবং সুবীরেশ— এটাই নিশ্চিত।