অনাস্থা প্রস্তাব আনতে উদ্যোগী বিরোধী জোট?

নিউজ ইউএপি ডিজিটাল ডেস্কঃ মোদি সরকারের উপরে এবার চাপ আরও বাড়াল বিরোধী শিবিরের ইন্ডিয়া জোট৷ সূত্রের খবর, বুধবারই বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকারের বিরুদ্ধে সংসদে অনাস্থা প্রস্তাবের নোটিস জমা দিতে চলেছে বিরোধীরা৷ শেষ পর্যন্ত বিরোধীরা সত্যিই অনাস্থা প্রস্তাব আনলে গত কুড়ি বছরে এই প্রথম বার লোকসভায় কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনবে বিরোধী পক্ষ৷ শেষ বার ২০০৩ সালে অটল বিহারী বাজপেয়ী সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনা হয়েছিল৷সংসদীয় রীতি অনুযায়ী, ৫০ জন সাংসদ একসঙ্গে অনাস্থা প্রস্তাব আনলে, তা মানতে বাধ্য লোকসভা স্পিকার। কিন্তু অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে কবে, কখন, কতক্ষণ আলোচনা হবে তা ঠিক করার সম্পূর্ণ অধিকার লোকসভার স্পিকারের।

সংসদে কেন্দ্রকে চাপে ফেলতে বিরোধীদের মোক্ষম চাল। আজ, বুধবারই সংসদের লোকসভায় কেন্দ্রের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনতে পারে বিরোধী শিবির । ইন্ডিয়া জোটের ২৬টি দল মিলিতভাবে এই অনাস্থা প্রস্তাব আনতে পারে। মণিপুর ইস্যুতে যাতে কেন্দ্রকে অস্বস্তিতে ফেলা যায় এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বিবৃতি দেন, তার জন্যই বিরোধী জোটের এই চাল।মঙ্গলবারই জল্পনা শোনা গিয়েছিল যে লোকসভায় কেন্দ্রের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনার পরিকল্পনা করছে ২৬ টি বিরোধী দল।

লোকসভায় অনাস্থা প্রস্তাব আনা যায় কি না, তা নিয়ে চূড়ান্ত স্তরে আলোচনা চলছে বিরোধীদের মধ্যে। সূত্রের খবর, চলতি সপ্তাহে দু’দিন দিল্লির বাইরে থাকার কথা প্রধানমন্ত্রী মোদীর। ফলে তাড়াহুড়ো করে বুধবারই অনাস্থা প্রস্তাব হবে কি না তা নিয়ে বিরোধীদের মধ্যে মতানৈক্য রয়েছে। কিন্তু প্রশ্নটা হচ্ছে, লোকসভায় বিরোধীদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই। তাহলেও কেন বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ করতে উদ্যোগী বিরোধী জোট?বাস্তবতা জেনেও কেন অনাস্থা প্রস্তাব আনতে চলেছে বিরোধীরা?
বিরোধী সূত্রের খবর, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে সংসদে এনে দাঁড় করানোর জন্যই অনাস্থা প্রস্তাবের কৌশল নিচ্ছে বিরোধীরা। মণিপুর ইস্যুতে অধিবেশন শুরুর দিন সংসদের বাইরে মহিলাদের নিগ্রহের ঘটনার নিন্দা করলেও, সংসদের ভিতরে কোনও বক্তব্য রাখেননি প্রধানমন্ত্রী। বিরোধীদের দাবি, সংসদে মণিপুর ইস্যু নিয়ে আলোচনা করুক সরকার।

প্রধানমন্ত্রী বিবৃতি দিক। সেই দাবিতেই অধিবেশন শুরুর দিন থেকে সংসদের দুই কক্ষ বারংবার অশান্ত হচ্ছে। এবার পরিকল্পনা অনাস্থা প্রস্তাব আনার।সূত্রের খবর, অনাস্থা প্রস্তাব আনার বিষয়ে বিরোধী শিবিরের সব দলই ঐক্যমতে পৌঁছে গিয়েছে৷ তবে এই অনাস্থা প্রস্তাব আনার বিষয়ে সবথেকে বেশি তৎপর হয়েছে কংগ্রেস এবং তৃণমূল কংগ্রেস৷ নিজেদের মধ্যে এবং অন্য বিরোধী দলগুলির সঙ্গে সমন্বয় রেখে চলেছে তারা৷তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও ব্রায়েনও ইঙ্গিতপূর্ণ ভাবে বলেছেন, ‘ইন্ডিয়া জোটের শরিক দলগুলির সংসদীয় কৌশল তৈরি৷ সেই কৌশল কীভাবে কার্যকর করা হবে, তার প্রক্রিয়া প্রতিদিন বদলে যেতে পারে৷ লোকসভার ১৯৮ নম্বর রুল অনুযায়ী অনাস্থা প্রস্তাব আনার সুযোগ রয়েছে৷ পিকচার অভি বাকি হ্যায়!’

বাদল অধিবেশন শুরু হওয়ার পর গত চার দিন ধরে অচল হয়ে রয়েছে সংসদের দুই কক্ষ৷ মণিপুর ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে বিবৃতি দিতে হবে, এই দাবিতে রাজ্যসভা এবং লোকসভা অচল করে রেখেছেন বিরোধীরা৷কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ অবশ্য সংসদে দাবি করেছেন, সরকার মণিপুর ইস্যুতে আলোচনায় প্রস্তুত৷ কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর বিবৃতির বিষয়ে কোনও আশ্বাস দেননি তিনি৷ ফলে বিরোধীরাও নিজেদের অবস্থান বদলায়নি৷বিরোধী শিবিরের সূত্রে পাওয়া খবর অনুযায়ী, যেহেতু কোনওভাবেই প্রধানমন্ত্রী মণিপুুর ইস্যুতে বিবৃতি দিচ্ছেন না, তাই সরকারকে চাপে ফেলে বাধ্য করাতেই অনাস্থা প্রস্তাব আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে৷
যদিও এই অনাস্থা প্রস্তাবকে গুরুত্ব দিতে নারাজ সরকার৷ সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী বলেন, আমাদের সরকারের প্রথম পাঁচ বছরেও বিরোধী পক্ষ এরকম অনাস্থা প্রস্তাব এনেছিল৷ তার পর ২০১৯-এ আমাদের আসন সংখ্যা ২৮২ থেকে বেড়ে ৩০৩ হয়৷ এবারেও বিরোধীরা অনাস্থা প্রস্তাব আনুক৷ লোকসভা নির্বাচনে আমরা ৩৫০-র বেশি আসনে জয়ী হব৷ প্রসঙ্গত সংসদীয় রীতি অনুযায়ী, ৫০ জন সাংসদ একসঙ্গে অনাস্থা প্রস্তাব আনলে, তা মানতে বাধ্য লোকসভা স্পিকার। কিন্তু অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে কবে, কখন, কতক্ষণ আলোচনা হবে তা ঠিক করার সম্পূর্ণ অধিকার লোকসভার স্পিকারের। যেহেতু মণিপুর ইস্যুতে বিরোধীদের প্রধানমন্ত্রীর বিবৃতি দেওয়ার দাবিকে কোনভাবেই গুরুত্ব দিচ্ছে না সরকার, তাই ঘুরপথে আলোচনার পরিসর তৈরি করতে চাইছে বিরোধীরা। অনাস্থা প্রস্তাবের উপর আলোচনা সুযোগকে কাজে লাগিয়ে মণিপুর ইস্যুতে সরকারকে আক্রমণ করাই বিরোধীদের গেম প্ল্যান।
তবে অনাস্থা প্রস্তাব আনা হবে কি হবে না, তা নিয়ে বিরোধী শিবির এখনও ঐক্যমতে পৌঁছতে পারেনি। কংগ্রেসের অভ্যন্তরে একাংশ নেতৃত্বের মত, অনাস্থা প্রস্তাবে জেতার ক্ষমতা নেই বিরোধী জোটের। আস্থা ভোট হলে অকারণে মুখ পুড়বে বিরোধী শিবিরের।এদিকে, অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বিরোধীদের উদ্দেশে একাধিক ইস্যুকে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করবেন প্রধানমন্ত্রী-সহ বিজেপি সাংসদরা। এই মুহূর্তে বিজেপির একমাত্র লক্ষ্য নতুন ইন্ডিয়া জোটে ভাঙ্গন ধরানো। ফলত সেই বিভাজনের রাজনীতি করার সুযোগ করে দেওয়া কি ঠিক হবে? এই প্রশ্নও রয়েছে বিরোধী জোটের একাংশের মনে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *