নিউ জ ইউএপি ডিজিটাল ডেস্কঃ নতুন রূপে সেজে উঠতে চলেছে দেশের প্রায় ১৩০০টি রেলস্টেশন (Rail station)। যার মধ্যে রবিবার ৫০৮টি স্টেশনের উন্নয়নের জন্য ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ২৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্পের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের ৩৭টি স্টেশন রয়েছে। স্টেশন অত্যাধুনিক মানের করলে কী ট্রেন ভাড়াও বাড়বে? সাধারণ মানুষের থেকেই কী প্রকল্পের এই বিপুল অঙ্কের টাকা তোলা হবে? অনেকের মনেই এমন প্রশ্ন উঁকি দিচ্ছে। অবশেষে সকলের প্রশ্নের অবসান ঘোচালেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করে রেলমন্ত্রী (Ashwini Vaishnaw) স্পষ্ট জানালেন, রেলস্টেশনের মান উন্নত করার জন্য ট্রেন ভাড়া (Train fare) বাড়বে না। দেশজুড়ে ৫০৮ ট্রেন স্টেশনের সংস্কারের সূচনা মোদির, ‘Amrit Bharat’-এর ছোঁয়ায় বাংলার ৩৭স্টেশন! কোন কোনটি আছে তালিকায়? দেখুন ২৭ রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে মোট ৫০৮ স্টেশনের পুনঃবিকাশ করা হবে এই অমৃত ভারত স্কিমের আওতায়। যার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের ৩৭ স্টেশন করা হবে উন্নীত। আজ গোটা দেশে ৫০৮ রেলওয়ে স্টেশনের পুনঃউন্নয়নের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। অমৃত ভারত স্টেশন প্রকল্পের অধীনে ২৪,৪৭০ কোটি টাকারও বেশি খরচে স্টেশনগুলি পুনঃবিকাশ করা হবে।
২৭ রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে মোট ৫০৮ স্টেশনের পুনঃবিকাশ করা হবে এই অমৃত ভারত স্কিমের আওতায়। যার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের ৩৭ স্টেশন করা হবে উন্নীত।পশ্চিমবঙ্গের ৩৭টি স্টেশনের মধ্যে রয়েছে ব্যারাকপুর স্টেশনের নাম। এছাড়াও তালিকায় পূর্ব রেলের ২৮টি স্টেশন রয়েছে যার মধ্যে শিয়ালদহ মেন লাইনে সাতটি স্টেশন। এই মেন লাইনে সাতটি স্টেশনের মধ্যে রয়েছে ব্যারাকপুর স্টেশন।ব্যারাকপুর স্টেশনের জন্য ২৬.৭ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। আধুনিক এই রেল স্টেশনে চলমান সিঁড়ির পাশাপাশি প্রবেশ এবং বাইরে বেরোনোর আলাদা পথ, যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য অতিরিক্ত ব্যবস্থা, যাত্রীদের বিশ্রামের জন্য আধুনিক ওয়েটিং রুম-সহ আরও সুব্যবস্থা থাকবে যাত্রীদের।পিসরুমের পর পিস ট্রেন! অভিনব এই ট্রেনের আবেদন জানালেন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস। রেলমন্ত্রীর কাছে এই নতুন ট্রেন চালুর আবেদন রাজ্যপালের। তাঁর কথায় বাংলার সবচেয়ে বড় শত্রু হিংসা। প্রথমে জলপাইগুড়ি, পরে দার্জিলিং যাবে এই ট্রেন।
এদিন অমৃত ভারত স্টেশন প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বললেন রাজ্যপাল। অমৃত ভারত প্রকল্পে সেজে উঠছে একের পর এক স্টেশন। বদলে যাচ্ছে লুক। বদলে যাচ্ছে পরিষেবা। উন্নতমানের একের পর এক নয়া রেল স্টেশন তাক লাগাচ্ছে দেশজুড়ে। এবার অমৃত ভারত স্টেশন স্কিমের অধীনে উত্তর পূর্বাঞ্চলের জন্য ‘পুনঃবিকশিত’ হচ্ছে মোট ৫৬’টি রেলওয়ে স্টেশন।অমৃত ভারত প্রকল্পে সেজে উঠছে একের পর এক স্টেশন। বদলে যাচ্ছে লুক। বদলে যাচ্ছে পরিষেবা। উন্নতমানের একের পর এক নয়া রেল স্টেশন তাক লাগাচ্ছে দেশজুড়ে। এবার অমৃত ভারত স্টেশন স্কিমের অধীনে উত্তর পূর্বাঞ্চলের জন্য ‘পুনঃবিকশিত’ হচ্ছে মোট ৫৬’টি রেলওয়ে স্টেশন।এবার উত্তর পূর্ব ভারতের যোগাযোগ ব্যবস্থায় মত একাধিক মহলে নেওয়া হয়েছে যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত। রেলওয়ে পরিকাঠামোগুলিকে নতুন রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে একটি চমকপ্রদ পদক্ষেপ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদি আজ ৬ অগাস্ট, ২০২৩ তারিখে অমৃত ভারত স্টেশন স্কিমের অধীনে উত্তর পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের ৫৬টি স্টেশনের পুনঃবিকাশের জন্য ভার্চুয়াল ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন।অসমের মাননীয় রাজ্যপাল ও অসমের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী নারেঙ্গি স্টেশনে উপস্থিত থেকে আয়োজিত অনুষ্ঠানের শোভা বাড়াবেন। অন্যদিকে নাগাল্যান্ডের মাননীয় রাজ্যপাল ও ত্রিপুরার মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী যথাক্রমে ডিমাপুর ও উদয়পুর রেল স্টেশনে উপস্থিত থাকবেন।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানের সময় সাংসদ, স্থানীয় বিধায়ক ও সমাজের প্রখ্যাত ব্যক্তিরা রাজ্যের অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে বিভিন্ন স্টেশনে উপস্থিত থাকবেন।উত্তর পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের ৫৬টি স্টেশনের মধ্যে অসমের ৩২টি। অন্যানগুলির মধ্যে ত্রিপুরায় ৩টি, পশ্চিমবঙ্গে ১৬টি, বিহারে ৩টি এবং নাগাল্যান্ড ও মেঘালয়ে একটি করে স্টেশন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।১৯৬০ কোটি টাকা এই ৫৬টি স্টেশনের পুনঃবিকাশের জন্য ব্যবহার করা হবে। এর মধ্যে কিছু প্রধান স্টেশন হলো অসমের নারেঙ্গি, জাগীরোড, ডিব্রুগড়, শিবসাগর টাউন; ত্রিপুরার উদয়পুর, ধর্মনগর, কুমারঘাট; পশ্চিমবঙ্গের নিউ আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি রোড, হাসিমারা; বিহারের কিষানগঞ্জ, ঠাকুরগঞ্জ, বারসোই জং, নাগাল্যান্ডের ডিমাপুর এবং মেঘালয়ের মেন্দিপাথার।উত্তর পূর্ব সীমান্ত রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক সব্যসাচী দে জানিয়েছেন, ভারতীয় রেলের রেলওয়ে স্টেশনগুলির উন্নয়নের জন্য সম্প্রতি অমৃত ভারত স্টেশন স্কিম চালু করা হয়েছে। এই স্কিমের অধীনে দীর্ঘমেয়াদি পদ্ধতিতে ক্রমাগত স্টেশনগুলির উন্নয়নের বিবেচনা করা হয়েছে।ভারতীয় রেল যাত্রীদের জন্য উত্তম ও উন্নত সুযোগ-সুবিধা-সহ উত্তর পূর্বাঞ্চলের রেল পরিকাঠামোর
আধুনিকীকরণের প্রতিশ্রুতি এই স্কিমের অধীনে উন্নয়নের মাধ্যমে প্রতিফলিত হবে। দেশের এই অংশে মানুষ যাতায়াতের জন্য নির্ভর করে থাকে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার উপর। তারই আরও এক ধাপের সূচনা হতে চলেছে আগামী দিনে।অমৃত ভারত স্টেশন প্রকল্পের অধীনেই এদিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ভার্চুয়ালি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ৫০৮টি রেলস্টেশনের উন্নয়নের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ২৫০০০ কোটি টাকার সরকারের এই প্রকল্পের উদ্বোধনের পরই সাধারণ মানুষ ট্রেনের ভাড়া, স্টেশন খরচ নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। এদিন সাংবাদিক বৈঠক করে সকলের উদ্বেগের অবসান ঘোচালেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী মোদী সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের জন্য কাজ করে চলেছেন। রেলস্টেশনের উন্নয়ন করার লক্ষ্যও একই। আমরা কোনও বোঝা ছাড়াই তাঁদের বিশ্বমানের স্টেশন উপহার দিতে চাই। স্টেশনের উন্নয়নের নামে আমরা ট্রেনের ভাড়া বাড়াব না বা কোনও ফি ধার্য করব না।”
এদিন রেলমন্ত্রী জানান, রেলস্টেশনের উন্নীতকরণ প্রকল্পের জন্য ৯ হাজার ইঞ্জিনিয়ারকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে রেল। নিরাপত্তা-সহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। নরেন্দ্র মোদী সরকারের এই প্রকল্প থেকে কোনও রাজ্য বঞ্চিত হবে না বলেও জানান রেলমন্ত্রী। এপ্রসঙ্গে এখনও পর্যন্ত কেরল বন্দে ভারত এক্সপ্রেস না পাওয়ার জন্য পিনারাই বিজয়ন সরকারকে তোপ দাগেন অশ্বিনী বৈষ্ণব। পিনারাই বিজয়নের সরকার সমীক্ষা রিপোর্ট-সহ বিস্তারিত তথ্য দিতে সমস্যা করার জন্যই কেরলে রেল নেটওয়ার্কের উন্নীতকরণের কাজ বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ রেলমন্ত্রীর। তবে কেরলে রেল নেটওয়ার্কের উন্নতি ঘটানোর ব্যাপারে কেন্দ্র প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বলেও জানান অশ্বিনী বৈষ্ণব।প্রসঙ্গত, এদিন যে ৫০৮ স্টেশনের উন্নয়নের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে, তার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের ৩৭টি স্টেশন রয়েছে এবং এর জন্য বরাদ্দ হয়েছে ১৫০৩ কোটি টাকা। এছাড়া উত্তরপ্রদেশ ও রাজস্থানের ৫৫টি করে স্টেশনের জন্য বরাদ্দ হয়েছে ৪ হাজার কোটি টাকা। মধ্যপ্রদেশের ৩৪টি স্টেশনের জন্য বরাদ্দ ১ হাজার কোটি টাকা এবং মহারাষ্ট্রের ৪৪টি স্টেশনের জন্য বরাদ্দ ১৫০০ কোটি টাকা। এছাড়া তামিলনাড়ু, কর্নাটক, কেরল-সহ অন্যান্য রাজ্যের একাধিক স্টেশন অমৃত ভারত স্টেশন প্রকল্পের অধীনে আনা হয়েছে।
