প্রেসিডেন্সি জেলে সিবিআই, আড়াই ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ চলল মানিকের

নিউজ ইউএপি ডিজিটাল ডেস্কঃ নিয়োগ দুর্নীতি সংক্রান্ত নতুন একটি মামলায় আজই জেলে গিয়ে মানিক ভট্টাচার্যকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য সিবিআইকে নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়৷ প্রয়োজনে মানিক ভট্টাচার্যকে হেফাজতে নেওয়ার জন্য দুই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই এবং ইডি-কে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি৷২০২০ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়া সংক্রান্ত একটি দুর্নীতির নতুন মামলায় এই নির্দেশ দেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়৷ যে দুর্নীতিকে এ দিন ডিজাইনড কোরাপশন বলে উল্লেখ করেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়৷ মামলাকারীর অভিযোগ, মূলত চারটি জেলা বীরভূম, বাঁকুড়া, হুগলি এবং মুর্শিদাবাদে এই দু্র্নীতি হয়৷ ২০২০ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এই জেলায় কোনও শূন্যপদ নেই বলে চাকরিপ্রার্থীদের জানানো হয়৷

বাধ্য হয়েই এই চার জেলার কোনও স্কুলে যাঁরা চাকরি নিতে ইচ্ছুক ছিলেন, তাঁদের দূরবর্তী কোনও জেলার স্কুল বাছতে হয়৷মামলাকারীরদের অভিযোগ, এরকমই দূরের জেলার স্কুল বাছার পরই বিস্ময়কর ভাবে তাঁরা জানতে পারেন, ওই চার জেলায় সতেরো দিন পরই শূন্যপদ দেখানো হয় এবং চারশো জন চাকরিপ্রার্থী ওই চার জেলায় নিযুক্ত হন৷ পছন্দের স্কুলে নিয়োগের বিনিময়ে প্রত্যেকের থেকে এক লক্ষ টাকা করে মোট চার কোটি টাককার লেনদেন হয়েছে বলে আদালত এ দিন সন্দেহ প্রকাশ করেছে৷ বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের আরও আশঙ্কা, দালালের প্রাপ্য ধরলে এই দুর্নীতির অঙ্ক আরও বাড়বে৷তবে বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের নির্দেশের পর প্রেসিডেন্সি জেলে CBI, আড়াই ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ চলল মানিকের। ওই টিমের নেতৃত্বে ছিলেন একজন এসপি পদমর্যাদার অফিসার। ছিলেন, দু’জন ইন্সপেক্টর ও একজন ভিডিয়োগ্রাফি এক্সপার্ট।

হাইকোর্ট নির্দেশ দেওয়ার পর মঙ্গলবার রাতেই প্রেসিডেন্সি জেলে পৌঁছে যায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই-এর টিম। জেলের ভিতর ইন্টারোগেশন রুমে নিয়ে যাওয়া হয় প্রাক্তন পর্ষদ সভাপতি মানিক ভট্টাচার্যকে। প্রায় আড়াই ঘণ্টা জেলে ছিল সিবিআই। প্রাথমিক নিয়োগ সংক্রান্ত নতুন একটি মামলায় তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্য়ায়। মঙ্গলবার তিনি নির্দেশ দিয়েছিলেন, যাতে রাতেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় মানিককে। প্রয়োজন হলে হেফাজতে নেওয়ার অনুমতিও দিয়েছিল আদালত।এদিন রাত ৯টা ২০ মিনিট নাগাদ প্রেসিডেন্সি জেলে প্রবেশ করে সিবিআই-এর ৪ সদস্যের একটি টিম। জিজ্ঞাসাবাদের পর রাত ১১টা ৫০ মিনিট নাগাদ বেরিয়ে যান তাঁরা। জানা গিয়েছে, ওই টিমের নেতৃত্বে ছিলেন একজন এসপি পদমর্যাদার অফিসার। ছিলেন, দু’জন ইন্সপেক্টর ও একজন ভিডিয়োগ্রাফি এক্সপার্ট।

এদিন মানিকের পুরো জিজ্ঞাসাবাদ পর্ব ভিডিয়োগ্রাফি করার নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারপতি। তিনি বলেছিলেন, মানিক কী উত্তর দেন, তা তিনি শুনতে চান। মানিক এই মামলার মাস্টারমাইন্ড বলেও মন্তব্য করেছিলেন তিনি।প্রাথমিক নিয়োগ সংক্রান্ত একটি নতুন মামলায় এই নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। অভিযোগ ছিল, বেশ কয়েকজন প্রার্থীকে বলা হয়েছিল বীরভূম, হুগলিতে কোনও শূন্যপদ নেই। যাদের বাছাই করা হয়েছিল তাদের অন্যত্র পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ১৭ দিন পর জানা যায়, শেষ সুযোগ দেওয়া হচ্ছে ওই জেলায়। সেখানে চার জেলা মিলিয়ে ৪০০ প্রার্থীকে নেওয়া হয়। আদালতের প্রশ্ন এত তাড়াতাড়ি কীভাবে এতগুলি শূন্যপদ তৈরি হল? সেক্ষেত্রে তৎকালীন পর্ষদ সভাপতির কোনও যোগ ছিল কি না, সেটাই খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।এই মুহূর্তে প্রেসিডেন্সি জেলে জেল হেফাজতে রয়েছেন তৃণমূল বিধায়ক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়৷ বিচারপতির নির্দেশ, আজই দু জন সিবিআই আধিকারিক জেলে গিয়ে মানিক ভট্টাচার্যকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করবেন৷

মানিক ভট্টাচার্য তদন্তে সহযোগিতা না করলে তাঁকে গ্রেফতার করে হেফাজতে নেওয়ার জন্যও সিবিআই এবং ইডি-কে নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি৷এই মামলার তদন্তে তিনি যে কোনও ঢিলেমি বরদাস্ত করবেন না, তাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়৷ প্রেসিডেন্সি জেলের সুপারকেও তদন্তে সহযোগিতার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়৷ তাঁর নির্দেশ, আজ গোটা জিজ্ঞাসাবাদ পর্ব সিবিআই মোবাইল বন্দি করবে৷ আগামিকাল থেকে জিজ্ঞাসাবাদের ভিডিওগ্রাফি করা হবে৷ রাত বারোটা পেরিয়ে গেলেও প্রয়োজনে তার পর সিবিআই জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়ে যেতে পারবে বলেও নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়৷ পাশাপাশি এই দুর্নীতিতে কীভাবে আর্থিক লেনদেন হয়েছিল, তার সূত্র ধরে তদন্ত করবে ইডি৷

 

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *