মালদ্বীপ ভারতকে সেনা প্রত্যাহার করতে বলল

দ্বীপরাষ্ট্রটির ঘরোয়া রাজনীতিতেও মুইজ্জুর দল প্রোগ্রেসিভ পার্টি অফ মলদ্বীপস (পিপিএম) এই বলে প্রচার চালায় যে, দেশের সার্বভৌম ক্ষমতাকে খর্ব করতেই সেনা রেখে দিয়েছে ভারত।চিন সফরের পরেই ভারতের বিরুদ্ধে সুর চড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন মলদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মহম্মদ মুইজ্জু।

নিউজ ইউএপি ডিজিটাল ডেস্কঃ মুইজ্জুর সেনা সরানো সংক্রান্ত নির্দেশের নেপথ্যে চিনের হাত দেখছেন কেউ কেউ। কারণ ভারত-মলদ্বীপ চলতি বিতর্কের শুরুতে খানিক সুর নরমের ইঙ্গিত দিয়েছিল মলদ্বীপ সরকার। ভারত এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগে সাসপেন্ড করা হয়েছিল মলদ্বীপের তিন মন্ত্রীকে। তার পরেও অবশ্য দুই দেশের সম্পর্ক খুব একটা সহজ হয়নি। সমাজমাধ্যমে ভারতীয় নেটাগরিকদের ‘বয়কট মলদ্বীপ’-এর ঠেলা সামলাতে হিমশিম খেতে হয় ভারতের দক্ষিণ-পশ্চিম ভারত মহাসাগরের এই দ্বীপরাষ্ট্রকে। আগে থেকে মলদ্বীপে ঘুরতে যাওয়ার বিমান-হোটেলে টিকিট বুক করে রাখার পরেও তা বাতিল করেন একের পর এক ভারতীয়। এই প্রবণতা এখনও বন্ধ হয়নি।মলদ্বীপের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এমনিতেই ‘চিনপন্থী’ বলে পরিচিত মুইজ্জু। গত সপ্তাহেই তিনি পাঁচ দিনের জন্য চিন সফরে যান।

সফরের তৃতীয় দিনে গত বুধবার জিনপিংয়ের সঙ্গে রাজধানী বেজিংয়ে বৈঠক করেন মুইজ্জু। সেখানেই ভারতের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাতের আবহে মলদ্বীপের পাশে থাকার অঙ্গীকার করেন চিনা প্রেসিডেন্ট তথা কমিউনিস্ট পার্টির শীর্ষনেতা। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে ওই বৈঠকেই বেজিংকে তাঁদের ‘পুরনো বন্ধু এবং ঘনিষ্ঠতম সহযোগী’ বলেন মুইজ্জু। দুই রাষ্ট্রপ্রধানের বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক আর্থিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা সংক্রান্ত কয়েকটি চুক্তি সই হয়।প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার কিছু দিনের মধ্যেই ভারতকে রীতিমতো হুঁশিয়ারি দিয়ে মুইজ্জু বলেন, ‘‘আমাদের দেশের মাটি থেকে সমস্ত বিদেশি সেনাকে আমরা ফেরত পাঠাব।’’ এ ক্ষেত্রে মুইজ্জু নাম না-করলেও স্পষ্ট ভাবেই ভারতকে নিশানা করেন। কারণ, ভারত মহাসাগরের ওই দ্বীপরাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক এবং শিল্পক্ষেত্রের নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিল ভারতীয় সেনা।

পরে কূটনৈতিক স্তরেও ভারতকে সেনা সরাবার বার্তা দেয় মলদ্বীপ। দ্বীপরাষ্ট্রটির ঘরোয়া রাজনীতিতেও মুইজ্জুর দল প্রোগ্রেসিভ পার্টি অফ মলদ্বীপস (পিপিএম) এই বলে প্রচার চালায় যে, দেশের সার্বভৌম ক্ষমতাকে খর্ব করতেই সেনা রেখে দিয়েছে ভারত।চিন সফরের পরেই ভারতের বিরুদ্ধে সুর চড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন মলদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মহম্মদ মুইজ্জু। শনিবার কোনও দেশের নাম না করেই হুঁশিয়ারির সুরে জানিয়েছিলেন, কাউকে ধমকানোর ছাড়পত্র দেয়নি তার সরকার। তার পরের দিনই ভারতীয় সেনাকে দ্রুত মলদ্বীপ ছাড়তে বলল তাঁর সরকার। তবে এ বার শুধু কূটনৈতিক স্তরে আর্জি জানানোই নয়, রীতিমতো দু’মাসের সময়সীমাও বেঁধে দিয়েছে মলদ্বীপ সরকার। আগামী ১৫ মার্চের মধ্যে ভারতীয় সেনাকে মলদ্বীপ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সংবাদ সংস্থা পিটিআই-এর তরফে এই খবর পাওয়া গিয়েছে।এর আগে কূটনৈতিক স্তরে সেনা সরিয়ে দেওয়ার জন্য ভারতকে আর্জি জানিয়েছিল ভারত। এ বার সরাসরি ‘নির্দেশ’ দেওয়া হল। মুইজ্জুর সচিবালয়ের শীর্ষ আধিকারিক আবদুল্লা নাজ়িম ইব্রাহিম সে দেশের একটি সংবাদপত্রকে বলেছেন, “ভারতীয় সেনারা মলদ্বীপে থাকতে পারবেন না।

কারণ এটাই প্রেসিডেন্ট মুইজ্জু এবং তাঁর সরকারের সিদ্ধান্ত।”মহম্মদ মুইজ্জু। মলদ্বীপ রাষ্ট্রের নবম প্রেসিডেন্ট। রাষ্ট্রপ্রধান হিসাবে শপথগ্রহণ করেছেন মাত্র ৫৭ দিন আগে। আর শুরুতেই তিনি জড়িয়ে পড়েছেন চরম বিতর্কে। প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে মলদ্বীপের সম্পর্কের অবনতি হচ্ছে তাঁর আমলে।এর ফলে দেশের একাংশের বিরাগভাজন হয়েছেন মুইজ্জু। ভারতের বিরোধিতা অনেকে পছন্দ করছেন না। বিরোধী দলগুলি মুইজ্জুর ভারত বিরোধিতাকে হাতিয়ার করে কোমর বেঁধে মাঠে নেমে পড়েছে। চলছে প্রচার।আবার ভারতের বিরোধিতা করে মলদ্বীপের একটা বড় অংশের মানুষের সমর্থনও পাচ্ছেন মুইজ্জু। তিনি নির্বাচনী প্রচারেও ভারতের বিরুদ্ধে বেশ কিছু কথা বলেছিলেন। তার পর ভোটে জিতে ক্ষমতায় এসেছেন।রাজনীতির বাইরে এ হেন মুইজ্জুর জীবন কিন্তু বর্ণময়। তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা অনেক রাজনীতিবিদকে চমকে দিতে পারে। আবার রাজনীতিতে মুইজ্জুর দক্ষতাও সর্বজনবিদিত।চিন সফর শেষে দেশে ফেরার পরেই শনিবার মুইজ্জু বলেন, “হতে পারি আমরা ক্ষুদ্র। কিন্তু তাই বলে কাউকে ধমকানোর ছাড়পত্র দিয়ে দিইনি আমরা।” এর পরেই নতুন মাত্রা পায় ভারত-মলদ্বীপ বিতর্ক।

বাংলায় সবার আগে পড়ুন ব্রেকিং নিউজ। থাকছে প্রতিদিনের খবরের লাইভ আপডেট। সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য বাংলা খবর পড়ুন এই   NEWS UAP  পেজ এর ওয়েবসাইটে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *