সারা বাংলা আতসবাজি সমিতির নেতা যখন তাঁকে নেত্রীকে বিষয়টি কার্যকর করার অনুরোধ জানাতে বলছেন, সেখানে একটি হাসির ইমোজি পাঠিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘‘আচ্ছা বলছি।’’ কুণাল ঘোষকে দল থেকে সাসপেন্ড করতে বলুন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। বুধবার তৃণমূল সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে পাঠানো এমন অনুরোধের হোয়াট্সঅ্যাপ বার্তা ছড়িয়ে পড়েছে সমাজমাধ্যমে।
নিউজ ইউ এ পি ডিজিটাল ডেস্ক :- সুদীপকে পাঠানো হোয়াট্সঅ্যাপ বার্তা যে তাঁরই, তা স্বীকার করে নিয়েছেন বাবলা। তিনি বলেন, ‘‘কুণাল দলের ক্ষতি করছেন। তাই আমি নেত্রী ও সুদীপদাকে অনুরোধ করেছি। যে ভাবে কুণাল দলের ক্ষতি করছেন, তাতে যাতে বড় বিপর্যয় না হয়, তা থেকে দলকে বাঁচাতেই এমন বার্তা পাঠিয়েছিলাম।’’ তাঁর আরও বক্তব্য, ‘‘যা করেছি বেশ করেছি। সুদীপদা আমার কথা রেখেছেন। আমি আবারও বলব, কুণালকে দল থেকে বার করে দেওয়া হোক।’’বাবলার বার্তায় উত্তর কলকাতার বিদায়ী সাংসদ সুদীপ কী জবাব দিয়েছেন, তা-ও সমাজমাধ্যমে ঘুরছে। সুদীপ পরামর্শ দিয়েছেন বাবলাকে, কুণালকে এড়িয়ে যাওয়ার। একই সঙ্গে ১ জুন ভোট করিয়ে তাঁকে ভোটে জেতাতেও বলেছেন সুদীপ। সারা বাংলা আতসবাজি সমিতির নেতা যখন তাঁকে নেত্রীকে বিষয়টি কার্যকর করার অনুরোধ জানাতে বলছেন, সেখানে একটি হাসির ইমোজি পাঠিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘‘আচ্ছা বলছি।’’ কুণাল ঘোষকে দল থেকে সাসপেন্ড করতে বলুন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। বুধবার তৃণমূল সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে পাঠানো এমন অনুরোধের হোয়াট্সঅ্যাপ বার্তা ছড়িয়ে পড়েছে সমাজমাধ্যমে। সেই অনুরোধের জবাবে সুদীপ কী জবাব দিয়েছেন, তা-ও প্রকাশ্যে এসেছে। ঘটনাচক্রে, বুধবার দুপুরেই কুণালকে দলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছে তৃণমূল। তার কিছু পরেই সমাজমাধ্যমে একাধিক হোয়াট্সঅ্যাপ বার্তা ছড়িয়ে পড়ে।
সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই সব বার্তায় দেখা যাচ্ছে, সুদীপকে সেগুলি পাঠিয়েছেন সারা বাংলা আতশবাজি সমিতির নেতা বাবলা রায়। বাবলা ওই বার্তায় সুদীপকে জানিয়েছেন, কুণালকে সাসপেন্ড করার অনুরোধ জানিয়ে তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে মেলও পাঠিয়েছেন। একই সঙ্গে প্রাক্তন মুখ্যসচিব হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদীকেও তিনি এই বিষয়ে বলেছেন। সুদীপকে পাঠানো এ সব বার্তার কথা কুণালও সমাজমাধ্যম থেকে জানতে পেরেছেন বলে সংবাদমাধ্যমের কাছে দাবি করেছেন।তৃণমূলের তরফে যেভাবে প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে পদ থেকে অপসারিত করা হয়েছে, তাতে কিছুটা অভিমানী কুণাল ঘোষ। শুধু তাই নয়, তাঁকে কোনও অফিশিয়াল বার্তা না দিয়ে এভাবে প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা নিয়েও আপত্তি কুণালের। একরাশ অভিমান প্রকাশ করে বলেই দিলেন, ‘আমাকে যখন দল শোকজ করেছিল। আমি সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দিয়েছি। ঈশ্বর সাক্ষী, আমার মরা বাবা-মায়ের দিব্যি… আমি শোকজ়ের উত্তর দিয়েছি একনিষ্ঠ সৈনিক হিসেবে। কিন্তু সেই উত্তর আমি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ করিনি।’ কুণালের অভিমানী বক্তব্য, যদি পদ থেকে অপসারণের কথা তাঁকে সংবাদমাধ্যম থেকে জানতে হয়, তাহলে তাঁর কাছেও ‘নৈতিক অধিকার’ রয়েছে শোকজের জবাবি চিঠি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ করার।
রাজ্য রাজনীতিতে কুণাল ঘোষকে দেখা যায়, প্রতিদিন বিরোধীদের আক্রমণ শানাতে। ঝাঁঝালো আক্রমণে প্রতিদিন বিদ্ধ করেন বিরোধী পক্ষকে। নিজেই বললেন, ‘বিজেপি-সিপিএম-কংগ্রেসের প্রতি আমার থেকে বেশি আক্রমণাত্মক ও কটূ কথা আর কে কে বলেন… তা আপনারাই বলতে পারবেন।’ এহেন কুণাল ঘোষ আজ তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে অপসারিত হয়ে কিছুটা অভিমানী সুরেই প্রশ্ন করলেন, ‘এখন কি আমাকে অগ্নিপরীক্ষা দিতে হবে? যাঁরা তৃণমূলের লড়াকু কর্মী তাঁদের কি অগ্নিপরীক্ষা দিতে হবে?’ কুণালের দাবি, তিনি এখনও দলের তরফে কোনও অফিশিয়াল বার্তা পাননি। যে প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয়েছে, সেখানে বলা হয়েছে পদ থেকে ‘রিমুভড’। আর এই কড়া শব্দবন্ধ নিয়েই অভিমান কুণালের। তৃণমূল নেতার দাবি, তিনি নিজে অনেক আগেই এসব পদ ছেড়ে দিতে চেয়েছিলেন। বললেন, ‘আমাকে তো একটা ফোন করেও বলতে পারত… তুমি যে পদ ছাড়তে চেয়েছিলে, সেখান থেকে তোমাকে অব্যাহতি দিচ্ছি। সেখানে অপসারিত শব্দ তো যায় না। আমি তো কোনও দলবিরোধী কাজ করিনি।’
