গোটা রাজধানী জুড়েই প্রতিবাদ শুরু করেন তাঁরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কেজরীর বাসভবনের সামনে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়।সূত্রের খবর, ১২ জনের ইডি আধিকারিকের একটি দল দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনে যায়। তল্লাশি অভিযানের জন্য প্রয়োজনীয় নথি দেখিয়েই কেজরীওয়ালের বাড়িতে প্রবেশ করে তারা। তাঁর বাসভবনের সামনে মোতায়েন করা হয় পুলিশ। অন্য দিকে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যাতেই রক্ষাকবচ চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন কেজরীওয়াল।
নিউজ ইউএপি ডিজিটাল ডেস্কঃ দিল্লির আবগারি দুর্নীতি মামলায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকেই তাঁর বাড়িতে তল্লাশি শুরু করে ইডি। বাজেয়াপ্ত করা হয় তাঁর ফোন। তার পরেই গ্রেফতার। মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের আশপাশে জারি করা হয়েছে ১১৪ ধারা। শুক্রবার পিএমএলএ আদালতে হাজির করানো হবে আপ প্রধানকে। দিল্লির মন্ত্রী তথা আপ নেত্রী অতিশী জানিয়েছেন, কেজরীওয়ালই থাকবেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী।দেশের ইতিহাসে কেজরীওয়ালই প্রথম, যিনি মুখ্যমন্ত্রী পদে থাকাকালীন গ্রেফতার হলেন। এর আগে ঝাড়খণ্ডের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনকেও গ্রেফতার করে ইডি।
তবে গ্রেফাতারির আগে মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন তিনি। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর গ্রেফতারির পরেই তাঁর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন আপ কর্মী, সমর্থকেরা। গোটা রাজধানী জুড়েই প্রতিবাদ শুরু করেন তাঁরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কেজরীর বাসভবনের সামনে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়।সূত্রের খবর, ১২ জনের ইডি আধিকারিকের একটি দল দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনে যায়। তল্লাশি অভিযানের জন্য প্রয়োজনীয় নথি দেখিয়েই কেজরীওয়ালের বাড়িতে প্রবেশ করে তারা। তাঁর বাসভবনের সামনে মোতায়েন করা হয় পুলিশ। অন্য দিকে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যাতেই রক্ষাকবচ চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন কেজরীওয়াল। জরুরি ভিত্তিতে মামলা শোনার আর্জি জানানো হয় তাঁর তরফে।দিল্লির আবগারি মামলায় আপ প্রধানকে মোট ন’বার সমন পাঠিয়েছিল ইডি। কিন্তু আট বারই হাজিরা এড়িয়ে গিয়েছেন তিনি।
শেষ পাঠানো সমনে বৃহস্পতিবারই ইডি দফতরে হাজিরা দেওয়ার কথা ছিল দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর। কিন্তু হাজিরা না দিয়ে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন কেজরীওয়াল।আদালতে পেশ করা আবেদনে কেজরীওয়াল বলেন, ‘‘ইডি নিশ্চয়তা দিক যে, তাদের তলবে সাড়া দিলে আমার বিরুদ্ধে কোনও কঠোর পদক্ষেপ করা হবে না।” আপের অভিযোগ, ইডির লক্ষ্য জিজ্ঞাসাবাদ নয়। এত দিন ধরেও তারা এই মামলায় কেজরীওয়ালের বিরুদ্ধে কোনও তথ্যপ্রমাণ পায়নি। তাই লোকসভা ভোটের আগে সমন পাঠিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করার চেষ্টা চলছে। বৃহস্পতিবার বিচারপতি সুরেশকুমার কাইথ এবং বিচারপতি মনোজ জৈনের ডিভিশন বেঞ্চে কেজরীওয়ালের আবেদন সংক্রান্ত মামলার শুনানি ছিল। শুনানি শেষে ডিভিশন বেঞ্চ বলে, ‘‘আমরা উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনেছি। তবে আমরা এই পর্যায়ে মামলাকারীকে কোনও সুরক্ষা দেওয়ার কথা দিচ্ছি না।’’ হাই কোর্ট রক্ষাকবচ না দেওয়ার পরেই তৎপর হয় ইডি। আবগারি মামলায় বিআরএস নেত্রী কে কবিতাকে দিন কয়েক আগেই গ্রেফতার করেছে ইডি। বর্তমানে আদালতের নির্দেশে ইডি হেফাজতে রয়েছেন তিনি।
কবিতা ছাড়াও এই মামলায় এখনও পর্যন্ত দিল্লির প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী মণীশ সিসৌদিয়া এবং আপের রাজ্যসভার সাংসদ সঞ্জয় সিংহ গ্রেফতার হয়েছেন। রয়েছেন তিহাড় জেলে। অভিযোগ ওঠে, দিল্লি সরকারের ২০২১-২২ সালের আবগারি নীতি বেশ কিছু মদ ব্যবসায়ীকে সুবিধা করে দিচ্ছিল। এই নীতি প্রণয়নের জন্য যাঁরা ঘুষ দিয়েছিলেন, তাঁদের সুবিধা করে দেওয়া হচ্ছিল। আপ সরকার সেই অভিযোগ মানেনি। সেই নীতি যদিও পরে খারিজ করা হয়।দিল্লি হাইকোর্টে রক্ষাকবচ চেয়েছিলেন অরবিন্দ কেজরীবাল। কিন্তু, হাইকোর্ট তাঁকে খালি হাতেই ফিরিয়েছে। ইডির গ্রেফতারি থেকে রক্ষাকবচ দিতে রাজি হয়নি। এরপর, বৃহস্পতিবার রাতেই আবগারি মামলার তদন্তে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনে হানা দিল ইডির কর্তারা। এই ঘটনা নিয়ে প্রতি মুহূর্তের আপডেট পান এখানে –কেজরীবালকে গ্রেফতারের পর, সম্ভবত তাঁকে ইডি অফিসে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। দিল্লির ইডি অফিসের বাইরে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।তদন্ত সংস্থার প্রতিবাদে কেজরিয়ালের সমর্থকদের বিপুল সংখ্যক পৌঁছানোর জল্পনার মধ্যে ইডি অফিসের বাইরে 144 ধারা জারি করা হয়েছে।
অতীশির মতো, দিল্লি বিধানসভার অধ্যক্ষ রামনিবাস গোয়েলও জানিয়েছেন, ইডি গ্রেফতার করলেও পদত্যাগ করবেন না, অরবিন্দ কেজরীবাল।অতীশি আজ রাতেই সুপ্রিম কোর্টে জরুরি শুনানির আবেদন করা হবে বললেও, কেজরীবালের আইনজীবী, অভিষেক সিংভি জানিয়েছেন, আজ রাতেই সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করবেন না কেজরী। তবে সূত্রের খবর, শীর্ষ আদালত তাদের জরুরি শুনানির আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে। তাই, কেজরীর আইনি দল আগামীকাল সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হবে।আপ নেতা তথা দিল্লির মন্ত্রী অতীশি বলেছেন, “আমরা খবর পেয়েছি ইডি অরবিন্দ কেজরীবালকে গ্রেফতার করেছে। আমরা সবসময় বলেছি, জেল থেকেই সরকার চালাবেন যে অরবিন্দ কেজরীবাল। তিনি দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর পদেই থাকবেন। আমরা সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছি। আমাদের আইনজীবীরা সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছেছেন। আমরা আজ রাতেই সুপ্রিম কোর্টে জরুরি শুনানির দাবি জানাব।”সব জল্পনার অবসান, কেজরীবালকে গ্রেফতার করল ইডি।
কেজরীবালের বাড়ির বাইরে বিপুল সংখ্যায় ভিড় জমিয়েছেন আপ সমর্থকরা। ইডি ও দিল্লি পুলিশের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন তাঁরা। প্রতিবাদীদের বেশ কয়েকজনকে আটক করে দিল্লি পুলিশ।
অতীশি বলেছেন, “স্পষ্টতই ইডি এবং তাদের প্রভু, বিজেপি, আদালতকে সম্মান করে না। যদি তা হত, তাহলে তারা আজই অরবিন্দ কেজরীবালের বাড়িতে অভিযান চালাতে আসত না। এটা একটা রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র। তারা এখানে অরবিন্দ কেজরীবালকে গ্রেফতার করতে এসেছে।”
সৌরভ ভরদ্বাজ বলেন, “যেভাবে পুলিশ মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির ভিতরে ঢুকেছে এবং বাইরে থেকে কাউকে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না, তাতে মনে হচ্ছে মুখ্যমন্ত্রীকে গ্রেফতার করার প্রস্তুতি চলছে।”
কেজরীবালে বাড়িতে ইডি হানা দিতেই, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনে এসে হাজির হন দিল্লির মন্ত্রী সৌরভ ভরদ্বাজ এবং অতিশী। তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনে প্রবেশের চেষ্টা করলে, দিল্লি পুলিশ তাদের আটকায়।
হাইকোর্টে ধাক্কা খাওয়ার পর, সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করার প্রস্তুতি নিচ্ছিল কেজরীবালের আইনি দল। ইডি হানা দেওয়ার পর, এদিন রাতেই জরুরি ভিত্তিতে শুনানির আবেদন করেছে আপ।
তবে, আদালত থেকে খালি হাতেই ফিরতে হয় তাঁকে। আদালত তাঁর আবেদন মানেনি। এরপরই, সার্চ ওয়ারেন্ট হাতে নিয়ে অরবিন্দ কেজরীবালের বাড়ি পৌঁছে যায় ইডির আট থেকে দশ আধিকারিকের একটি দল। উত্তর দিল্লির ডিসিপি-র নেতৃত্বে বিরাট পুলিশ বাহিনী ঘিরে ফেলে মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন।
এদিন সকালে দিল্লি হাইকোর্টে অরবিন্দ কেজরীবাল রক্ষাকবচ চেয়েছিলেন। কেজরীবাল আবেদন করেছিলেন, সমন মেনে হাজিরা দিলে ইডি যেন তাঁকে গ্রেফতার না করে। তিনি আবেদন করেন, সমন মেনে হাজিরা দিলে তাঁর বিরুদ্ধে কোনও কঠোর পদক্ষেপ করা হবে না এমন আশ্বাস দিতে হবে ইডিকে।
এক-আধবার নয়, নয়বার এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটে তলব করেছিল অরবিন্দ কেজরীবালকে। এদিনও তাঁকে সমন পাঠিয়েছিল ইডি। কিন্তু আজও হাজিরা দেননি কেজরীবাল।
বাংলায় সবার আগে পড়ুন ব্রেকিং নিউজ। থাকছে প্রতিদিনের খবরের লাইভ আপডেট। সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য বাংলা খবর পড়ুন এই NEWS UAP পেজ এর ওয়েবসাইটে।
