নিউজ ইউএপি ডিজিটাল ডেস্কঃ বন্দুকের নল ঠেকিয়ে ‘অপহরণ’! জেল নয়, ইমরানকে নিয়ে কোথায় গেল পুলিশ? তোশাখানা মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলেন পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। শনিবার ইসলামাবাদের একটি আদালত ইমরানকে তিন বছর কারাদণ্ডের সাজা দিয়েছে। এই রায়ের ফলে আগামী পাঁচ বছর ভোটে দাঁড়াতে পারবেন না তিনি। এছাড়াও পাক রাজনীতি থেকে তাঁকে ৫ বছরের জন্য দূরে থাকতে হবে।পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের দাবি, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীকে নাকি বন্দুক দেখিয়ে অপহরণ করা হয়েছে। গ্রেফতারির প্রতিবাদ করে তারা ইতিমধ্যেই লাহোর হাইকোর্টে পিটিশন দাখিল করেছে।বন্দুকের নল ঠেকিয়ে নাকি অপহরণ (Abduction) করা হয়েছে ইমরান খান(Imran Khan)-কে!
শনিবারই তোশাখানা মামলায় গ্রেফতার হন পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী। তিন বছরের সাজা দেওয়া হয়েছে তাঁকে, পাশাপাশি পাঁচ বছর নির্বাচনেও লড়তে পারবেন না কাপ্তান। এমনটাই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে পাকিস্তানের একটি দায়রা আদালতের তরফে। এদিকে ইমরানের গ্রেফতারির পর তাঁর দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (Pakistan Tehreek-e-Insaf) তরফে দাবি করা হল যে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীকে নাকি বন্দুক দেখিয়ে অপহরণ করা হয়েছে। গ্রেফতারির প্রতিবাদ করে তারা ইতিমধ্যেই লাহোর হাইকোর্টে পিটিশন দাখিল করেছে।ইমরান এর বিরুদ্ধে অভিযোগ, দেশের প্রধানমন্ত্রী পদে থাকাকালীন পাকিস্তানের রাষ্ট্র হিসাবে পাওয়া উপহারগুলি অবৈধভাবে বিক্রি করে দিচ্ছিলেন ইমরান। সেগুলি বিক্রি করে পাওয়া অর্থ সম্পর্কেও কিছু জানাননি। ওই ব্যবসায়ী জানান, ২০১৯ সালে যখন ইমরানের দল পাকিস্তানের শাসনক্ষমতায় ছিল, তখন সৌদি আরবের রাজা মহম্মদ বিন সলমন তাঁকে ওই বহুমূল্য ঘড়িও উপহার দিয়েছিলেন।সম্প্রতি ইসলামাবাদ হাইকোর্টের বাইরে থেকে আরও একবার গ্রেফতার করা হয় তাঁকে।সূত্রের খবর, আল কাদির ট্রাস্ট মামলায় পাকিস্তানের ন্যাব বা ন্যাশনাল অ্যাকাউন্টেবিলিটি ব্যুরো ইমরানকে একাধিকবার সমন পাঠিয়েছিল৷জানা গিয়েছে, পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ বা পিটিআইয়ের তরফে দলের অতিরিক্ত সেক্রেটারি জেনারেল উমর নিয়াজি পিটিশন দাখিল করেছেন। তিনি আর্জি জানিয়েছেন যে তাঁর পিটিশন যেন অবিলম্বে গ্রহণ করা হোক এবং পঞ্জাব পুলিশ ও সরকারকে ইমরান খানের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হোক।
পিটিশনে বলা হয়েছে, “সরকার বেআইনিভাবে হেফাজতে নিয়েছে ইমরান খানকে। ইমরান খান জ়ামান পার্কে তাঁর বাসভবনে একটি বৈঠক করছিলেন, সেইসময় কমপক্ষে ২০০ পুলিশকর্মী বাড়িতে জোড় করে ঢুকে পড়ে এবং বন্দুক দেখিয়ে ইমরান খানকে অপহরণ করে। ওঁকে বেআইনিভাবে হেফাজতে রাখা হয়েছে।”তোশাখানা মামলায় আদালতের তরফে সাজার যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তাও নিয়মমাফিক ইমরান খানকে দেখানো হয়নি। তার আগেই জোর করে তাঁকে অপহরণ করা হয়। অজ্ঞাত কোনও জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে ইমরান খানকে, এমনটাই অভিযোগ। উল্লেখ্য, শনিবারই ইসলামাবাদের ট্রায়াল কোর্ট তোশাখানা মামলায় দোষী সাব্যস্ত করে পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে। ৭০ বছর বয়সী প্রাক্তন ক্রিকেটারকে তিন বছর কারাদণ্ডের সাজা দেওয়া হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচনেও লড়তে পারবেন না ইমরান, এমনটাই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে ইমরান যে সুরক্ষিত রয়েছেন, তা প্রমাণ করতে লাহোর হাইকোর্টে আনা হোক বলেও দাবি জানিয়েছেন পিটিআই কর্মী-সমর্থকরা।
