২০০২ সালে কুমারী অবস্থায় পৈতৃক পদবির সঙ্গে বর্তমানে স্বামীর পদবি না মেলায় একমাত্র উপায় হিসেবে বিবাহ নিবন্ধীকরণ বা ম্যারেজ রেজিস্ট্রির হিড়িক পড়ছে। এসআইআর গেরোয় স্ত্রীর পদবি নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়া জীবনকুমার নাগের কথায়, ‘বিয়ের আগে স্ত্রীর পৈতৃক পদবি ছিল দে, যা এখন ভোটার লিস্টে নাগ হয়েছে। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম থাকলেও পদবি সেখানে দে রয়েছে। বিবাহ সূত্রে পদবির এই পরিবর্তন বোঝাতে ম্যারেজ রেজিস্ট্রি সার্টিফিকেট দরকার। সেটা শুনেই বিয়ের আট বছর পর তড়িঘড়ি রেজিস্ট্রি করাতে হবে।’
নিউজ ইউ এ পি ডিজিটাল ডেস্ক, কোচবিহার, ৬ই নভেম্বর ২০২৫ধূপগুড়ি : রায় গুণাকর ভারতচন্দ্র রায়ের লেখা অনুযায়ী ছদ্মবেশী দেবী অন্নপূর্ণার কাছে ঈশ্বরী পাটনি পরিচয় জানতে চাইলে দেবী বলেন, ‘জানহ স্বামীর নাম নাহি ধরে নারী।’
ছদ্মবেশী দেবীর জবাব শুনে ঈশ্বরী পাটনি বেশি না ঘাঁটালেও এসআইআর-এ তা হবে না। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা এতটাই স্পষ্ট যে আকারে ইঙ্গিতে তার জবাব দেওয়ার উপায় নেই। তাই বিএলও-দের কাছে স্ত্রীর নাম এবং বিস্তারিত তথ্য জানাতে বাধ্য হচ্ছেন স্বামীরা। আর তাতেই স্ত্রীর পদবি নিয়ে গোল বাধছে।
২০০২ সালে কুমারী অবস্থায় পৈতৃক পদবির সঙ্গে বর্তমানে স্বামীর পদবি না মেলায় একমাত্র উপায় হিসেবে বিবাহ নিবন্ধীকরণ বা ম্যারেজ রেজিস্ট্রির হিড়িক পড়ছে। এসআইআর গেরোয় স্ত্রীর পদবি নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়া জীবনকুমার নাগের কথায়, ‘বিয়ের আগে স্ত্রীর পৈতৃক পদবি ছিল দে, যা এখন ভোটার লিস্টে নাগ হয়েছে। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম থাকলেও পদবি সেখানে দে রয়েছে। বিবাহ সূত্রে পদবির এই পরিবর্তন বোঝাতে ম্যারেজ রেজিস্ট্রি সার্টিফিকেট দরকার। সেটা শুনেই বিয়ের আট বছর পর তড়িঘড়ি রেজিস্ট্রি করাতে হবে।’
বিয়ে করলেও রেজিস্ট্রি করায় যাঁদের গড়িমসি চরমে ছিল তাঁদের এই মুহূর্তে সমস্যার অন্ত নেই। যাঁদেরর শ্বশুরবাড়ি আশপাশে বা এরাজ্যে তাঁদের সমস্যা যদি জটিল হয় তাহলে ভিনরাজ্যে বিয়ে করা লোকেদের সমস্যা জটিলতর। ধূপগুড়ি বা আশপাশে এমন বহু মানুষ আছেন যাঁদের শ্বশুরবাড়ি অসম বা উত্তর-পূর্বের ত্রিপুরা, মেঘালয়ের মতো রাজ্যে। এসআইআর-এর কোপ থেকে স্ত্রীর নাম রক্ষা করতে দূরের রাজ্যে ২৩ বছর আগের ভোটার লিস্টের খোঁজ করতে হচ্ছে অনেককেই।
ধূপগুড়ির বাসিন্দা প্রদীপ দত্তের কথায়, ‘১৫ বছর আগে বিয়ের সময় ত্রিপুরায় শ্বশুরবাড়ি ছিল এবং স্ত্রীর পৈতৃক পদবি ছিল পাল। শ্বশুরমশাই প্রয়াত হওয়ার পর বর্তমানে শাশুড়ি থাকেন শিলিগুড়িতে। ওখানে সেই অর্থে স্ত্রীর পরিবারের তেমন কেউ থাকেন না। এই অবস্থায় ওখানকার পুরোনো ভোটার লিস্ট জোগাড় করার আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছি। সেটা হাতে পেলে আবার রেজিস্ট্রির জন্য ঝাঁপাতে হবে।’
স্ত্রীর পদবির গেরোয় এসআইআর-এর ধাক্কা সামলাতে রেজিস্ট্রি করার ঝোঁক, এমনকি এনিয়ে খোঁজখবর নেওয়ার হিড়িক যে বাড়ছে, তার ইঙ্গিত মিলেছে বিয়ে নথিভুক্তির সঙ্গে যুক্ত লোকেদের কথায়। ধূপগুড়ি সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের মুহুরি মেহবুব আলমের কথায়, গত এক সপ্তাহে ১০ জনের বেশি ম্যারেজ রেজিস্ট্রির জন্য খোঁজ নিয়েছেন স্ত্রীর পদবি নিয়ে এসআইআর-এ সমস্যা হওয়ার কারণে।
অনেকেই সমস্যার সমাধান খুঁজতে ছুটছেন উকিল এবং সরকার স্বীকৃত রেজিস্ট্রারদের কাছে। তবে সেসব জায়গায় পরিস্থিতি বুঝে দরও চড়ছে বলেই খবর। পেশায় উকিল রাজর্ষি চৌধুরী বলেন, ‘এসআইআর-এ স্ত্রীর বিয়ের আগের ও পরের পদবি নিয়ে অনেকেই প্রশ্নের মুখে পড়ে সমাধানের খোঁজে আসছেন। অ্যাফিডেভিটে কাজ হবে নাকি কোর্ট ম্যারেজ করে সমস্যা সমাধান হবে, এই প্রশ্ন প্রায় সকলেরই। আমরা বলছি আগে স্থানীয় বিএলও-র সঙ্গে কথা বলে তাঁর পরামর্শমতো পদক্ষেপ করতে। তারপর মক্কেল যা চাইবেন তাই করে দেব।’
২০০২ সালের ভোটার তালিকা জোগাড়ে অনেকেই হয়রান। তার ওপর তালিকা থেকে স্ত্রীর নাম বাদ গেলে বাড়িতে যে রক্ষে থাকবে না, তাও হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন আপামর স্বামীকুল। ঈশ্বরী পাটনি যেমন চেয়েছিলেন, তাঁর সন্তান যেন দুধে-ভাতে থাকে তেমনই বিপাকে পড়া স্বামীরা চাইছেন স্ত্রীর নাম যেন টিকে থাকে ভোটার লিস্টের পাতায়।
