জমির পাট্টা ও SIR বাতিলের দাবি:

 নকশালবাড়িতে আদিবাসী জনজাগরণ সমিতির বিশাল প্রতিবাদী মিছিল

চা-শ্রমিকদের জমির পাট্টা প্রদান থেকে শুরু করে বিতর্কিত SIR বাতিল— একাধিক দাবিতে রাজপথে সরব হলেন হাজার হাজার আন্দোলনকারী।
এদিন মিছিলটি নকশালবাড়ির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা পরিক্রমা করে। মিছিল থেকে মূলত প্রতিবেশী রাজ্য আসামসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আদিবাসীদের ওপর হওয়া ধারাবাহিক নির্যাতনের তীব্র নিন্দা জানানো হয়।

নিউজ ইউ এ পি ডিজিটাল ডেস্ক,২০শে ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ,নকশালবাড়ি: :- নিজেদের হকের লড়াই ও আদিবাসীদের ওপর হওয়া বঞ্চনার প্রতিবাদে ফের উত্তাল নকশালবাড়ি। শুক্রবার আদিবাসী জনজাগরণ সমিতির পক্ষ থেকে এলাকায় একটি বিশাল প্রতিবাদ মিছিল বের করা হয়। চা-শ্রমিকদের জমির পাট্টা প্রদান থেকে শুরু করে বিতর্কিত SIR বাতিল— একাধিক দাবিতে রাজপথে সরব হলেন হাজার হাজার আন্দোলনকারী।
এদিন মিছিলটি নকশালবাড়ির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা পরিক্রমা করে। মিছিল থেকে মূলত প্রতিবেশী রাজ্য আসামসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আদিবাসীদের ওপর হওয়া ধারাবাহিক নির্যাতনের তীব্র নিন্দা জানানো হয়। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, আদিবাসীদের সুরক্ষার কথা বলা হলেও বাস্তবে তাঁদের ওপর অত্যাচার ও উচ্ছেদের ঘটনা বাড়ছে।
সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রশাসনের কাছে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট দাবি রাখা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে চা-বাগানে কাজ করা শ্রমিকদের জমির স্থায়ী পাট্টা দ্রুত প্রদান করতে হবে। আদিবাসী এলাকাগুলোতে জমি জরিপ বা প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার নামে যে ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (SIR) চালানো হচ্ছে, তা অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। আন্দোলনকারীদের আশঙ্কা, এর মাধ্যমে আদিবাসীদের জমি কেড়ে নেওয়ার চক্রান্ত চলছে। কর্মক্ষেত্র ও বাসস্থানে আদিবাসীদের সামাজিক মর্যাদা ও নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে হবে।
আদিবাসী জনজাগরণ সমিতির স্থানীয় নেতৃবৃন্দ জানান, “আদিবাসীরা যুগ যুগ ধরে জল-জঙ্গল-জমির লড়াই করে আসছে। কিন্তু আজও চা-শ্রমিকরা তাঁদের ন্যায্য জমির অধিকার থেকে বঞ্চিত। একদিকে রাজ্যে রাজ্যে আমাদের ভাই-বোনদের ওপর অত্যাচার হচ্ছে, অন্যদিকে কৌশলে আমাদের জমি থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা চলছে। যতক্ষণ না প্রশাসন আমাদের দাবি মেনে নিচ্ছে, ততক্ষণ এই আন্দোলন আরও তীব্রতর হবে।”
মিছিলকে কেন্দ্র করে এদিন এলাকায় ব্যাপক পুলিশি নিরাপত্তা মোতায়েন ছিল। শান্তিপূর্ণ হলেও এই বিশাল জমায়েত প্রশাসনের ওপর বড়সড় চাপ তৈরি করল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। দাবি পূরণ না হলে আগামীতে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটার হুঁশিয়ারি দিয়ে আজকের কর্মসূচি শেষ করে সংগঠনটি।