ভুট্টার টানে গ্রামে হানা দাঁতালের!

জলদাপাড়া বন দপ্তরের ২৫টি বিশেষ দল নামছে পাহারায়

 ৫ইএপ্রিল,২০২৬ :- নিউজ ইউএপি ডিজিটাল ডেস্ক: ফালাকাটা: ডুয়ার্সের গ্রামগুলিতে এখন বিঘা বিঘা জমিতে ভুট্টার আবাদ। আর সেই সুস্বাদু খাবারের টানেই জঙ্গল ছেড়ে লোকালয়ে হানা দিচ্ছে হাতির দল। গত দুই সপ্তাহে ফালাকাটা ও আলিপুরদুয়ার ১ ব্লকের গ্রামগুলিতে হাতির তাণ্ডব এতটাই বেড়েছে যে, বন দপ্তর এখন কার্যত ঘুমহীন রাত কাটাচ্ছে। সামনেই বিধানসভা ভোট, তার আগেই ফসল ও ঘরবাড়ির ক্ষয়ক্ষতি এবং প্রাণহানি রুখতে কড়া পদক্ষেপ শুরু করল জলদাপাড়া বন দপ্তর।
বন দপ্তর সূত্রে খবর, বর্তমানে প্রতি রাতে প্রায় ২৫ থেকে ৩০টি আলাদা আলাদা জায়গায় হাতির গতিবিধি লক্ষ করা যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বনকর্মীদের ২৫টি দল গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৫টি বিশেষ দল তৈরি করা হয়েছে শুধুমাত্র সেই গ্রামগুলির জন্য যেখানে ভুট্টার চাষ বেশি। প্রতিটি বিশেষ দলে বনকর্মীদের সঙ্গে স্থানীয় ৩ জন করে বাসিন্দাকে রাখা হয়েছে, যাতে দ্রুত খবর আদান-প্রদান করা যায়।
নতুনপাড়া, শালকুমার, যোগেন্দ্ৰনগর, রাইচেঙ্গা, মেজবিল, পশ্চিম কাঁঠালবাড়ি, সুরি পাড়া, মুন্সিপাড়া, সিধাবাড়ি, ধৈধৈ ঘাট, কলাবাড়িয়া, বংশীধরপুর, মন্ডলপাড়া, ব্যাংডাকি ও খাউচাঁদপাড়ার মতো ভুট্টা অধ্যুষিত গ্রামগুলিতে রাতভর টহল দেবে এই বিশেষ দলগুলি।
হাতি-মানুষ সংঘাত এড়াতে মাইকিং করে প্রচার শুরু করেছে বন দপ্তর। গ্রামবাসীদের উদ্দেশে বলা হয়েছে, রাত বা ভোরে একা মাঠে বেরোনো যাবে না। হাতির সামনে পড়লে নিজে থেকে তাড়ানোর চেষ্টা করা বিপজ্জনক। হাতির উপস্থিতি দেখলেই দ্রুত বন দপ্তরকে খবর দিতে হবে। সংঘাতকালীন পরিস্থিতিতে বনকর্মীদের কাজে সহযোগিতা করতে হবে।
৫-৭ বছর আগেও এই এলাকায় ভুট্টার চাষ এতটা ছিল না। এখন অর্থকরী ফসল হিসেবে ভুট্টার চাষ বাড়ায় হাতির হানাও বেড়েছে। একদিকে ভোটের আমেজ, অন্যদিকে হাতির আতঙ্ক— সব মিলিয়ে প্রশাসন ও বন দপ্তর এখন বাড়তি সতর্ক। বন্যপ্রাণের হানা রুখতে বনকর্মীদের এই তৎপরতা এলাকায় কতটা স্বস্তি আনে, এখন সেটাই দেখার।

প্রচার সেরে ফেরার পথে ভয়াবহ দুর্ঘটনা!

নয়ানজুলিতে উল্টে গেল শীতলকুচির বিজেপি প্রার্থীর গাড়ি,

‘প্রাণনাশের চক্রান্ত’র অভিযোগ স্বামীর


৫ইএপ্রিল,২০২৬ :- নিউজ ইউএপি ডিজিটাল ডেস্ক: কোচবিহারঃ ভোটের মুখে কোচবিহারে বড়সড় বিপর্যয়। শনিবার রাত ১২টা নাগাদ শীতলকুচি বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী সাবিত্রী বর্মনের গাড়ি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। শিকারপুর পাঁচমাইল সংলগ্ন এলাকায় একটি বেপরোয়া ট্রাক সামনে চলে আসায় প্রার্থীর গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তা থেকে ছিটকে নয়ানজুলিতে পড়ে যায়। এই ঘটনায় প্রার্থী ও তাঁর গাড়িচালক দুজনেই রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার হয়েছেন।
বিজেপি সূত্রে খবর, শনিবার সারাদিন প্রচারের ঝোড়ো কাজ সেরে বাড়ি ফিরছিলেন সাবিত্রী বর্মন। সেই সময় একটি ট্রাক আচমকা তাঁর গাড়ির সামনে চলে আসে। ট্রাকটির ধাক্কা এড়াতে গিয়ে প্রার্থীর গাড়িটি উল্টে যায়। স্থানীয় বাসিন্দা ও দলীয় কর্মীরা দ্রুত উদ্ধারকার্যে হাত লাগান। নয়ানজুলি থেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁদের উদ্ধার করে প্রথমে মাথাভাঙা মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁদের কোচবিহার এমজেএন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
দুর্ঘটনার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। যে ট্রাকটির কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে, সেটির খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে। এটি নিছক দুর্ঘটনা নাকি এর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে জেলা পুলিশ। তবে প্রার্থীর বর্তমান শারীরিক অবস্থা নিয়ে চিন্তিত দলীয় নেতৃত্ব ও সমর্থকরা।
এদিকে এই দুর্ঘটনার পিছনে ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছে বিজেপি। তাদের অভিযোগ, প্রাণে মারতেই ইচ্ছাকৃতভাবে প্রার্থীর গাড়ির মুখোমুখি চলে এসেছিল একটি ট্রাক। এর পিছনে তারা কাঠগড়ায় তুলেছেন তৃণমূলকে। বিজেপি চাইছে দুর্ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত। যদিও যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেছে তৃণমূল নেতৃত্ব। তৃণমূলের পালটা দাবি, হেরে যাওয়ার ভয়ে তৃণমূলকে দোষারোপ করছে বিজেপি।
নির্বাচনী উত্তাপের মাঝেই এই দুর্ঘটনা কোচবিহারের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলল। উল্লেখ্য, এই প্রথম বিধানসভা ভোটে লড়ছেন সাবিত্রী বর্মন। ২০২১ সালে এই আসনে বিজেপি জয়লাভ করেছিল, তাই এবারও আসনটি ধরে রাখা বিজেপির কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।