২২ সেপ্টেম্বর বিক্রমের সঙ্গে যোগাযোগ

ইসরো জানিয়েছে, সূর্যালোকে বিক্রম এবং প্রজ্ঞানের ব্যাটারি রিচার্জ হবে। তার জন্যই অপেক্ষা করে আছেন ইসরোর আধিকারিকেরা। ব্যাটারি রিচার্জ সম্পূর্ণ হলেই আবার ল্যান্ডার এবং রোভারকে সক্রিয় করে তোলা যাবে বলে আশাবাদী ইসরো।চন্দ্রযান-৩ অভিযানের গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ হল সূর্য। সূর্যের আলোতেই এই অভিযানের যাবতীয় যন্ত্রপাতি কাজ করছে। ইসরো জানিয়েছে, চাঁদের তাপমাত্রা আরও একটু বৃদ্ধি পাওয়ার পর আগামী ২২ সেপ্টেম্বর বিক্রমের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করবেন বিজ্ঞানীরা।

নিউজ ইউএপি ডিজিটাল ডেস্কঃ সম্প্রতি হাওয়াই বিশ্ববিদ্যালয়ের এক দল বিজ্ঞানী তাঁদের গবেষণায় দাবি করেছেন, পৃথিবীর বর্হিমণ্ডলে যে প্লাজ়মার চাদর রয়েছে, তা থেকে নির্গত হওয়া ইলেকট্রন কণা চাঁদে আবহাওয়ার বিকার ঘটাতে সাহায্য করে। এর ফলে পাথর ভেঙে তৈরি হয় খনিজ। এমনকি এ ভাবেই তৈরি হতে পারে জলকণা। ‘নেচার অ্যাস্ট্রোনমি’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে তাঁদের ওই গবেষণাপত্র। এই গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য মিলেছে চন্দ্রযান-১ অভিযান থেকে।সম্প্রতি সফল ভাবে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে পা রেখেছে ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র ইসরোর পাঠানো চন্দ্রযান-৩। ২০০৮ সালের অক্টোবরে এই সিরিজ়ের প্রথম মহাকাশযান চন্দ্রযান-১ পাঠানো হয়েছিল। ২০০৯ সালের অগস্ট পর্যন্ত সে সফল ভাবে কাজ করেছে।

চাঁদের মাটিতে পা না রাখলেও, সেই যান চাঁদকে কক্ষ করে ঘুরেছে। রিমোর্ট সেন্সিংয়ের মাধ্যমে সংগ্রহ করেছে তথ্য।হাওয়াই বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক শুয়াই লি এবং তাঁর সহকারী গবেষকেরা সেই তথ্য বিশ্লেষণ করে নবলব্ধ সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন। গবেষণায় জানা গিয়েছে, চাঁদ যে সময়ে পৃথিবীর ম্যাগনেটোটেল (পৃথিবীর বর্হিমণ্ডলের স্তর ম্যাগনেটোস্ফিয়ারের প্রভাব) পর্যায়ের বাইরে থাকে, সেই সময় তার উপরে সৌরজাগতিক ঝড় আছড়ে পড়ে। তার জেরে প্রবল শক্তিশালী প্রোটন কণার সঙ্গে চন্দ্রপৃষ্ঠের সংঘর্ষ হয়। আবহবিকারের ফলে চাঁদের পিঠে পাথর ভেঙে ধীরে ধীরে তা খনিজে পরিণত হয়।

তৈরি হয় জলকণাও। আবার যে সময়ে ম্যাগনেটোটেল পর্যায়ের মধ্যেই চাঁদ থাকে, তখন সৌরঝড় চাঁদকে ছুঁতে পারে না। সেই সময় জলকণা তৈরির সম্ভাবনাও শূন্যে নেমে যায়।একই ভাবে পৃথিবীর বাইরের স্তরে প্লাজ়মার যে চাদর রয়েছে সেখান থেকে নির্গত শক্তিশালী ইলেকট্রন কণার জেরেও চন্দ্রপৃষ্ঠে জলকণা তৈরি হতে পারে। চন্দ্রযান-১ থেকে দীর্ঘ সময় ধরে যে তথ্য মিলেছে, তা থেকে এই দুই পর্যায়ের পার্থক্য স্পষ্ট করে তুলে ধরেছেন গবেষকেরা।চাঁদের পিঠে জলের ধারা না মিললেও যে অংশে সূর্যের আলো পড়ে না, সেখানে বরফের চাদরে অস্তিত্ব মিলেছে আগেই। তা এল কী ভাবে? কিংবা চন্দ্রপৃষ্ঠে রয়েছে বহু মূল্যবান খনিজের আকর। তার উৎসই বা কী? এ সব নিয়ে মানুষের কৌতূহল অনেক দিনের।

নিরন্তর গবেষণাও চলছে।তবে চাঁদে চন্দ্রযান-৩-এর ল্যান্ডার বিক্রম এবং রোভার প্রজ্ঞানকে জাগিয়ে তোলার চেষ্টা করবে ইসরো। শুক্রবারই সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। তবে এ বার সাফল্য আসবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। কারণ, চন্দ্রযান-৩-এর যন্ত্রপাতিকে আবার সক্রিয় করে তোলার সম্ভাবনা অতি ক্ষীণ।ইসরো জানিয়েছে, চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে সূর্য উঠে গিয়েছে। এখনও সেখানে ভোর। সূর্যের মৃদু আলো পড়েছে বিক্রম এবং প্রজ্ঞানের গায়ে। তবে তার মাধ্যমে যন্ত্রপাতির ব্যাটারি চার্জ হচ্ছে কি না, স্পষ্ট নয়। শুক্রবার বিক্রম এবং প্রজ্ঞানের ঘুম ভাঙানোর চেষ্টা করা হবে। সূর্যের আলোয় সোলার প্যানেলগুলি সক্রিয় হয়ে উঠবে। চার্জ সম্পূর্ণ হলে বিক্রম বা প্রজ্ঞানের জেগে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে।চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে সূর্য উঠে গিয়েছে।

সূর্যের ক্ষীণ আলো এসে পড়েছে শিবশক্তি পয়েন্টেও। এ বার চন্দ্রযান-৩-এর ল্যান্ডার বিক্রম এবং রোভার প্রজ্ঞানকে জাগিয়ে তোলার অপেক্ষা। তার প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে ইসরো।ইসরোর তরফে জানানো হয়েছে, চাঁদে বুধবারই সূর্যোদয় হয়েছে। তবে সঙ্গে সঙ্গে বিক্রম বা প্রজ্ঞান কাউকেই জাগানো সম্ভব নয়। গত ১৫ দিন ধরে যে শীতল আবহাওয়ায় যন্ত্রগুলি অকেজো হয়ে পড়েছিল, তা কাটিয়ে ওঠার জন্য কিছুটা তাপের প্রয়োজন। এখনই সূর্য থেকে সেই তাপ মিলবে না।

ইসরো জানিয়েছে, সূর্যালোকে বিক্রম এবং প্রজ্ঞানের ব্যাটারি রিচার্জ হবে। তার জন্যই অপেক্ষা করে আছেন ইসরোর আধিকারিকেরা। ব্যাটারি রিচার্জ সম্পূর্ণ হলেই আবার ল্যান্ডার এবং রোভারকে সক্রিয় করে তোলা যাবে বলে আশাবাদী ইসরো।চন্দ্রযান-৩ অভিযানের গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ হল সূর্য। সূর্যের আলোতেই এই অভিযানের যাবতীয় যন্ত্রপাতি কাজ করছে। ইসরো জানিয়েছে, চাঁদের তাপমাত্রা আরও একটু বৃদ্ধি পাওয়ার পর আগামী ২২ সেপ্টেম্বর বিক্রমের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করবেন বিজ্ঞানীরা। তবে যোগাযোগ সম্ভব হবে কি না, স্পষ্ট নয়। কারণ, চাঁদে রাত নামলে তাপমাত্রা অনেকটা কমে যায়। কখনও কখনও হিমাঙ্কের ২৫০ ডিগ্রি নীচেও পৌঁছে যায় তাপমাত্রা। সেই তীব্র শীত কি সহ্য করতে পেরেছে বিক্রম, প্রজ্ঞান? তার পরেও কি তাদের মধ্যেকার যন্ত্রপাতি অক্ষত অবস্থায় আছে? তা নিয়ে জল্পনা এখনও চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *