কিশনগঞ্জে গবাদি পশু পাচারের ছক বানচাল!

জাতীয় সড়কে ট্রাক থেকে উদ্ধার ২৮টি গরু ও শাবক

১লা এপ্রিল,২০২৬ :- নিউজ ইউএপি ডিজিটাল ডেস্ক,কিশনগঞ্জ: উত্তরবঙ্গে গবাদি পশু পাচারের বড়সড় প্রচেষ্টা রুখে দিল পোয়াখালি থানার পুলিশ। বুধবার সকাল ৯টা নাগাদ ৩২৭ই নম্বর জাতীয় সড়কে পেটভরি গ্রামের কাছে নাকা চেকিং চলাকালীন একটি ডিসিএম ট্রাক থেকে উদ্ধার হয় ১৩টি গরু এবং ১৫টি শাবক। পাচারে ব্যবহৃত ট্রাকটি বাজেয়াপ্ত করার পাশাপাশি দুই অভিযুক্তকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পোয়াখালি থানার আইসি অঙ্কিত সিং জানিয়েছেন, গোপন সূত্রে তাঁদের কাছে খবর ছিল যে বিহারের আরারিয়া জেলা থেকে একটি ট্রাকে করে গবাদি পশু উত্তরবঙ্গের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সেই খবরের ভিত্তিতেই জাতীয় সড়কে নজরদারি বাড়ানো হয়। বুধবার সকালে সন্দেহভাজন ট্রাকটিকে থামিয়ে তল্লাশি চালাতেই পর্দা ফাঁস হয় পাচারচক্রের।
গ্রেপ্তার হওয়া দুই অভিযুক্তের নাম সুরজ মাহাতো এবং মহম্মদ সোহেল। পুলিশি জেরায় তারা ওই গবাদি পশু পরিবহনের কোনও বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। বুধবারই তাদের কিষাণগঞ্জ আদালতে তোলা হলে বিচারক ১৪ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতের নির্দেশ দেন। বর্তমানে দুই অভিযুক্তই কিশনগঞ্জ জেলে রয়েছে।

ভোটের মুখে আন্তঃরাজ্য সীমান্তে পুলিশের এই তৎপরতা পাচারকারীদের ওপর বড় ধাক্কা বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। উদ্ধার হওয়া পশুগুলিকে নিরাপদ স্থানে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে থানা সূত্রে খবর।

মেলার আড়ালে ‘চটুল নাচ’!

নির্বাচনের মুখে উত্তাল চাঁচল, প্রশাসন ও শাসকদলকে বিঁধল বিজেপি


১লা এপ্রিল,২০২৬ :- নিউজ ইউএপি ডিজিটাল ডেস্ক,সামসী: বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতেই রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে মালদহে। এরই মাঝে চাঁচল সদরের কলমবাগান মাঠের মিনা বাজারকে ঘিরে তৈরি হলো নতুন বিতর্ক। অভিযোগ, মেলার আড়ালে রাতের অন্ধকারে চলছে অশালীন ও চটুল নাচের আসর। ছোট ছোট শিশু ও পরিবার নিয়ে মেলায় আসা সাধারণ মানুষ এই ঘটনায় চরম অস্বস্তিতে পড়েছেন। এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিদিন সন্ধ্যায় কলমবাগান মাঠের এই মেলায় ভিড় জমাচ্ছেন অসংখ্য মানুষ। অভিযোগ উঠেছে, মেলার একটি অংশে অশালীন নাচের আসর বসানো হচ্ছে, যেখানে এলাকার একাংশ যুবকও সামিল হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, মেলার মতো জনবহুল জায়গায় এই ধরণের কর্মকাণ্ড যুবসমাজের ওপর কুনজর ফেলছে এবং এলাকার সুস্থ পরিবেশ নষ্ট করছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের দিকে আঙুল তুলেছে বিজেপি। বিজেপির মালদহ জেলা যুব মোর্চার সাধারণ সম্পাদক প্রসেনজিৎ শর্মার দাবি, “তৃণমূলের মদতেই মেলার আড়ালে এই ধরণের অপসংস্কৃতি চলছে। এতে যুবসমাজ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অবিলম্বে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপে এই আসর বন্ধ করা উচিত।”
অন্যদিকে, বিজেপির অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন চাঁচল-১ পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি তথা তৃণমূল নেতা জাকির হোসেন। তিনি জানান, “চটুল গান বা নাচের মতো কোনও ঘটনা ঘটে থাকলে পুলিশ-প্রশাসন নিশ্চয়ই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এর সঙ্গে রাজনীতির কোনও যোগ নেই।”
নির্বাচনের ঠিক আগে এই ধরণের ঘটনা প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। চাঁচল থানার পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা মিললে দ্রুত কড়া আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। এখন দেখার, নির্বাচনের প্রাক্কালে কলমবাগান মাঠের এই বিতর্কিত মিনা বাজার নিয়ে প্রশাসন শেষ পর্যন্ত কী ভূমিকা নেয়।