কার্ড বিকৃত, বঞ্চিত প্রকৃত ভোটার, শোরগোল ইসলামপুরে

বিষয়টি নিয়ে মহকুমা শাসকের বক্তব্য, ‘এই বিষয়ে আমার কাছে অভিযোগ এসেছে। আমরা তদন্ত শুরু করেছি। সবটাই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’ ২০১৪ সালে বাংলাদেশ থেকে ভারতে এসে এভাবে নথি তৈরির বিষয়টি নিয়ে তিনি বলেন, ‘এই মর্মেও আমরা তদন্ত শুরু করেছি। তদন্ত অনুসারে আইনত যা পদক্ষেপ করার তা অবশ্যই নেওয়া হবে।’
অভিযুক্ত কানাই হাওলাদার এবং তাঁর স্ত্রী রিপা হাওলাদার পুরো ঘটনার কথা স্বীকার করে নিয়েছেন। রিপা জানান, ২০১৪ সালে তিনি শ্বশুর ও স্বামীর সঙ্গে বাংলাদেশ থেকে ভারতে আসেন। ভারতীয় নথি তৈরির জন্য আনুমানিক তিন বছর আগে বিশ্বেশ্বরের কাছে যান তাঁর স্বামী।

নিউজ ইউ এ পি ডিজিটাল ডেস্ক, ১৩ নভেম্বর ২০২৫,ইসলামপুর : রাজ্যজুড়ে ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া শুরু হতেই একের পর এক অভিযোগ সামনে এসেছে। এরই মধ্যে ইসলামপুর থানার শ্রীকৃষ্ণপুর এলাকার একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকশ্যে এসেছে। যেখানে দেখা যাচ্ছে, ২০১৪ সালে বাংলাদেশ থেকে ভারতে এসে অন্য এক ব্যক্তির ভোটার কার্ডকে বিকৃত করে সেই জায়গায় নিজের বাবার নাম তোলেন এক ব্যক্তি। পরে সেই নথিকে প্রামাণ্য করে নিজের ও স্ত্রীর ভোটার কার্ড তৈরি করেন বলে অভিযোগ। অভিযুক্ত ব্যক্তি যে ব্যক্তির ভোটার কার্ড বিকৃত করে এমন ঘটনা ঘটিয়েছিলেন বলে অভিযোগ তাঁর এনুমারেশন ফর্ম না আসার পরই বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। তারপর থেকেই বিষয়টি নিয়ে হইচই পড়ে গিয়েছে এলাকায়। ৮৫ বছর বয়সি বিশ্বেশ্বর হাওলাদার পুরো বিষয়টি নিয়ে ইসলামপুরের মহকুমা শাসক অঙ্কিতা আগরওয়ালের কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন। মহকুমা শাসকও স্বীকার করে নিয়েছেন এমন ঘটনার কথা।

বিষয়টি নিয়ে মহকুমা শাসকের বক্তব্য, ‘এই বিষয়ে আমার কাছে অভিযোগ এসেছে। আমরা তদন্ত শুরু করেছি। সবটাই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’ ২০১৪ সালে বাংলাদেশ থেকে ভারতে এসে এভাবে নথি তৈরির বিষয়টি নিয়ে তিনি বলেন, ‘এই মর্মেও আমরা তদন্ত শুরু করেছি। তদন্ত অনুসারে আইনত যা পদক্ষেপ করার তা অবশ্যই নেওয়া হবে।’
অভিযুক্ত কানাই হাওলাদার এবং তাঁর স্ত্রী রিপা হাওলাদার পুরো ঘটনার কথা স্বীকার করে নিয়েছেন। রিপা জানান, ২০১৪ সালে তিনি শ্বশুর ও স্বামীর সঙ্গে বাংলাদেশ থেকে ভারতে আসেন। ভারতীয় নথি তৈরির জন্য আনুমানিক তিন বছর আগে বিশ্বেশ্বরের কাছে যান তাঁর স্বামী। তারপর তাঁর কাছ থেকে নথি নিয়ে নিজের বাবার ভোটার কার্ড তৈরি করেন। এরপর একে একে নিজের ও তাঁর ভোটার কার্ড তৈরি করেন।

এদিকে, এসআইআর শুরু হলেও বিশ্বেশ্বরের কাছে কোনও এনুমারেশন ফর্ম না আসায় বিষয়টি নিয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট বিএলও’র সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এর পরেই তিনি জানতে পারেন যে ২০০২ সালের ভোটার লিস্টে তাঁর নাম থাকলেও, শেষবার আপডেট হওয়া ভোটার তালিকায় তাঁর নাম না থাকায় তাঁর নামে কোনও এনুমারেশন ফর্ম আসেনি। এরপর দুটি তালিকা মিলিয়ে তিনি দেখেন যে জায়গায় তাঁর নাম থাকার কথা ছিল সেখানে অভিযুক্ত কানাইয়ের বাবা সুকুমার হাওলাদারের নাম রয়েছে। যদিও বিশ্বেশ্বরের এপিক নম্বরেই সুকুমারের নাম উঠেছে না, সুকুমারের নামে নতুন এপিক নম্বর রয়েছে সে বিষয়ে বিশদে কিছু জানা যায়নি। ওই বুথের বিএলও এ বিষয়ে বেশি কিছু বলতে চাননি। সংশ্লিষ্ট এলাকার বিএলও রঞ্জন দাস শুধু বলেন, ‘বিশ্বেশ্বরের নামে ফর্ম না এলে আমি কী করব? বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।’

এদিকে, এনুমারেশন ফর্ম না আসায় বেশ চিন্তায় পড়েছেন বিশ্বেশ্বর। এমন ঘটনা নিয়ে তাঁর প্রতিক্রিয়া, ‘আমার সঙ্গে জালিয়াতি করে কানাই এসব করেছে। প্রশাসনকে জানিয়েছি। আমার নাম ভোটার লিস্ট থেকে কারসাজি করে বাদ দিয়েছে। আমি চাই ওর কঠোর শাস্তি হোক।’ এদিকে কানাইয়ের স্ত্রী রিপার সাফাই, ‘বাংলাদেশের পরিস্থিতি তো আপনাদের অজানা নয়। নথি নিয়ে যা ভুল হওয়ার তা অনিচ্ছাকৃত। আমরা ভুল স্বীকার করে ক্ষমাও চেয়েছি। আমার স্বামীকে এই নিয়ে ওরা মারধরও করেছে। এখন উনি বাড়িতে নেই। কাজে গিয়েছেন।’
এদিকে এমন ঘটনা সামনে আসতেই প্রশাসনের দিকেও আঙুল উঠেছে। অনেকেই বলছেন, প্রশাসনের গাফিলতির কারণেই এমন ঘটনা ঘটেছে। এছাড়াও এই ঘটনার পিছনে কোনও বড় চক্র জড়িয়ে থাকতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে। তবে শুধু একটি ঘটনা নাকি এমন ঘটনা আরও রয়েছে সে নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।