জাতীয় সড়কে দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড!
২৫শে ফেব্রুয়ারি ২০২৬ :- নিউজ ইউ এ পি ডিজিটাল ডেস্ক:বিশেষ প্রতিবেদন |কিশনগঞ্জঃ মাঝরাতে জাতীয় সড়কে দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষের পর ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারালেন ২ জন। বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে কিশনগঞ্জ জেলার কোচধামন থানা এলাকার সপ্টিয়া বিশুনপুর চকে ৩২৭-ই জাতীয় সড়কের ওপর এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। সংঘর্ষের তীব্রতায় একটি ট্রাক সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে যায় এবং অন্য ট্রাকটিতেও আগুন ধরে যায়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দুর্ঘটনাটি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে একটি ট্রাকের চালক ও খালাসী বের হওয়ার সুযোগ পাননি। জ্বলন্ত ট্রাকের ভেতরেই জীবন্ত দগ্ধ হয়ে মৃত্যু হয় তাঁদের। পুলিশ জানিয়েছে, মৃত দুই ব্যক্তি উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা। অন্যদিকে, দ্বিতীয় ট্রাকটির চালক মহম্মদ রফিক মারাত্মকভাবে অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন। তিনি পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে। পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে কিশনগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করেছে। ওই ট্রাকের খালাসী সময়মতো লাফিয়ে নামতে পারায় প্রাণে বেঁচে গিয়েছেন।
ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়েই কোচধামন থানার আইসি রণজয় কুমারের নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও দমকলের দুটি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। শুক্রবার ভোরে পুলিশ অগ্নিদগ্ধ মৃতদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কিষাণগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠিয়েছে। দুর্ঘটনার জেরে শুক্রবার সকাল থেকে ৩২৭-ই জাতীয় সড়কে প্রায় ঘণ্টা দুয়েক তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে পুলিশি হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় এবং যান চলাচল শুরু হয়। ঠিক কী কারণে এই সংঘর্ষ, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে কোচধামন থানার পুলিশ।
পূর্ণিয়ায় ‘শাহি’ শাসন: সীমান্তের ৩০ জন টপ অফিসারকে নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে অমিত শাহ
পূর্ণিয়া: তিন দিনের বিহার সফরের শেষ দিনে পূর্ণিয়ায় রণকৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক ‘হাই-লেভেল’ সমীক্ষা বৈঠক সারলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শুক্রবার পূর্ণিয়ার একটি বেসরকারি রিসোর্টে আয়োজিত এই বৈঠকে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের প্রায় ৩০ জন শীর্ষ আধিকারিক অংশ নেন। প্রশাসনিক মহলের মতে, এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য ছিল সংবেদনশীল সীমান্ত এলাকাগুলোর নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা এবং অনুপ্রবেশ রুখতে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া।
এদিনের বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই এবং বিহারের উপ-মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিহারের মুখ্যসচিব প্রত্যয় অমৃত এবং ডিজিপি বিনয় কুমার। উল্লেখযোগ্য ভাবে, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের সংযোগকারী ‘চিকেন নেক’ বা শিলিগুড়ি করিডোরের নিরাপত্তা নিয়ে এদিনের বৈঠকে বিশেষ আলোচনা হয়েছে। সেই কারণেই সীমান্ত সংলগ্ন সাতটি জেলার জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারদের পাশাপাশি এসএসবি, বিএসএফ, আইটিবিপি, সিআরপিএফ এবং বায়ুসেনার উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, প্রশাসনিক বিষয়ের পাশাপাশি রাজনৈতিক ইস্যুতেও সরব ছিলেন শাহ। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন নির্বাচন এবং সীমান্ত এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করেন তিনি। অনুপ্রবেশ সমস্যা সমাধানে বিএসএফ ও রাজ্য পুলিশের মধ্যে আরও নিবিড় সমন্বয়ের নির্দেশ দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বৈঠক চলাকালীন গোটা রিসোর্ট চত্বর কার্যত দুর্গে পরিণত হয়েছিল। দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা এই হাই-প্রোফাইল বৈঠক শেষে পূর্ণিয়ার চুনাপুর বায়ুসেনা ঘাঁটি থেকে বিশেষ বিমানে দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা হন অমিত শাহ।
