দিনহাটায় বিজেপিতে বড় ভাঙন!

দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্দল প্রার্থী ঘোষণা বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠীর

চাপে জেলা নেতৃত্ব, ভোটের আগে উত্তেজনা তুঙ্গে

১১ই এপ্রিল, ইউএপি ডিজিটাল ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে কোচবিহারের দিনহাটা কেন্দ্র ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। বিজেপির অন্দরে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও অসন্তোষ এবার প্রকাশ্যে ফেটে পড়ল। দলীয় প্রার্থীকে ঘিরে বিরোধ চরমে পৌঁছতেই বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠী সরাসরি নির্দল প্রার্থী ঘোষণা করে দিয়েছে, যা নিয়ে অস্বস্তিতে পড়েছে জেলা বিজেপি নেতৃত্ব।

শুক্রবার দিনহাটা শহরের শহিদ কর্নার এলাকায় বিজেপি জেলা কমিটির স্থায়ী সদস্য এবং ছিটমহল আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত মুখ দীপ্তিমান সেনগুপ্তের বাড়িতে এক সাংবাদিক বৈঠকের আয়োজন করা হয়। সেখানে উপস্থিত বিজেপির একাংশ নেতৃত্ব সরাসরি দলীয় প্রার্থী অজয় রায়ের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন এবং বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘অসহনীয়’ বলে বর্ণনা করেন।


📢 দল ভেঙে নির্দল পথে, ‘দূরবিন’ প্রতীকে অনিমেষ বর্মণ

সাংবাদিক বৈঠক থেকেই বড় ঘোষণা—
👉 বিজেপির প্রাক্তন মণ্ডল সহ-সভাপতি অনিমেষ বর্মণ নির্দল প্রার্থী হিসেবে দিনহাটা কেন্দ্রে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন
👉 তাঁর নির্বাচনী প্রতীক হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে ‘দূরবিন’ চিহ্ন

এই ঘোষণার মাধ্যমে স্পষ্ট, বিজেপির অন্দরের একটি শক্তিশালী অংশ দলীয় প্রার্থীকে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং বিকল্প রাজনৈতিক লড়াইয়ের পথে হাঁটছে।


⚠️ গুরুতর অভিযোগে সরব বিক্ষুব্ধ শিবির

বিক্ষুব্ধ নেতা দীপ্তিমান সেনগুপ্ত সাংবাদিক বৈঠকে সরাসরি দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন—

👉 “বিজেপি যে প্রার্থীকে দাঁড় করিয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে আমাদের সরাসরি লড়াই। অতীতে লোকসভা বা বিধানসভা নির্বাচনে যাঁদের প্রার্থী করা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে কেউ হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত, কারও নাম ডাকাতির মতো গুরুতর অপরাধে জড়িয়েছে। সেই ধরনের ব্যক্তিদেরই বারবার প্রার্থী করা হচ্ছে।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন—
👉 এই বিষয়ে একাধিকবার দলীয় উচ্চ নেতৃত্বকে জানানো হলেও কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি
👉 দিনহাটা থেকে অজয় রায়কে প্রার্থী ঘোষণার পর থেকেই ক্ষোভ বিস্ফোরণের রূপ নেয়
👉 স্থানীয় সংগঠনের মতামতকে সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করা হয়েছে

দীপ্তিমানের দাবি, এই পরিস্থিতিতে দলীয় নীতি ও ভাবমূর্তি রক্ষা করতেই তাঁদের এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।


🏛️ ক্ষতি নিয়ন্ত্রণে নামল জেলা নেতৃত্ব

এই ঘটনাকে ঘিরে যথেষ্ট চাপে পড়েছে কোচবিহার জেলা বিজেপি নেতৃত্ব। পরিস্থিতি সামাল দিতে ইতিমধ্যেই সক্রিয় হয়েছে জেলা কমিটি।

জেলা সভাপতি অভিজিৎ বর্মণ বলেন—
👉 “সব প্রার্থী সবার পছন্দ হবে, এমনটা কখনওই সম্ভব নয়। কিছু ক্ষেত্রে মতভেদ থাকতেই পারে। দীপ্তিমানবাবুর অভিযোগ আমরা গুরুত্ব দিয়েছি এবং এ নিয়ে বৈঠকও ডাকা হয়েছিল।”

তিনি আরও জানান—
👉 “বর্তমান পরিস্থিতিতে আমি ওঁদের কাছে আবেদন জানাব, তাঁরা যেন মূল স্রোতে ফিরে আসেন”
👉 “তৃণমূলকে পরাজিত করতে বিজেপির প্রার্থীকে সমর্থন করা এখন সময়ের দাবি”

তবে এই আবেদন কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।


দলীয় প্রার্থীর নীরবতা ঘিরে জল্পনা

এই তীব্র বিতর্ক ও প্রকাশ্য বিরোধের মাঝেও বিজেপির দলীয় প্রার্থী অজয় রায়ের পক্ষ থেকে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি
তাঁর নীরবতা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে।


🔍 ভোটের আগে বড় ধাক্কা, প্রভাব পড়তে পারে ফলাফলে

রাজ্যের বিভিন্ন কেন্দ্রে প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে ক্ষোভ দেখা গেলেও দিনহাটার পরিস্থিতি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে—

  • দলীয় কোন্দল প্রকাশ্যে চলে আসা বিজেপির সংগঠনকে দুর্বল করতে পারে
  • নির্দল প্রার্থীর লড়াইয়ে ভোট ভাগ হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল
  • বিরোধী দলগুলির জন্য এটি বড় সুযোগ হয়ে উঠতে পারে

সব মিলিয়ে, ভোটের আগে দিনহাটার এই রাজনৈতিক সমীকরণ আগামী দিনে আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।