‘অতীতে যাদের দু’বার করোনা হয়েছে, তাঁদের ডেঙ্গি হলে সব থেকে বেশি ঝুঁকি৷ জ্বর, গা-হাত-পা ব্যথা হলে কোনওভাবেই অ্যান্টিহায়োটিক বা পেনকিলার খেতে হবে না, প্যারাসিটামল খাওয়া যেতে পারে৷ তবে দু’দিন জ্বর থাকলে ডেঙ্গি ও ম্যালেরিয়ার পরীক্ষা হওয়া জরুরি৷ পাঁচদিনের ওপরে জ্বর থাকলে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া জরুরি৷
নিউজ ইউএপি ডিজিটাল ডেস্কঃ চিকিৎসকরা বলছেন, কোভিডের পর ডেঙ্গি হলে সাবধান৷ আর সেই কারণেই আতঙ্কের নাম কোভিডেঙ্গি৷ অর্থাৎ, করোনার সময় যাঁদের ভেন্টিলেশনে বা আইসিইউতে থাকতে হয়েছে, ডেঙ্গির মরশুমে তাঁদের অনেকটা বেশি ঝুঁকি৷ ডেঙ্গি আক্রান্ত হয়ে যাঁদের মৃত্যু হয়েছে, তাঁদের সিংহভাগই করোনা আক্রান্ত হয়েছিলেন৷ সেই কারণেই চিকিৎসকরা বলছেন, ‘করোনা হয়ে থাকলে, এই সময় অনেক বেসি সতর্ক থাকতে হবে৷ অনেক ডেঙ্গি আক্রান্তের মৃত্যু হয়েছে তীব্র শ্বাসকষ্টের শিকার হয়ে৷’চিকিৎসকরা বলছেন, ‘অতীতে যাদের দু’বার করোনা হয়েছে, তাঁদের ডেঙ্গি হলে সব থেকে বেশি ঝুঁকি৷ জ্বর, গা-হাত-পা ব্যথা হলে কোনওভাবেই অ্যান্টিহায়োটিক বা পেনকিলার খেতে হবে না, প্যারাসিটামল খাওয়া যেতে পারে৷ তবে দু’দিন জ্বর থাকলে ডেঙ্গি ও ম্যালেরিয়ার পরীক্ষা হওয়া জরুরি৷ পাঁচদিনের ওপরে জ্বর থাকলে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া জরুরি৷
চিকিৎসকরা বলছেন, ‘করোনার সময়ের মতো রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা ওঠানামা করছে কিনা সেটা দেখা উচিত৷ শিশুদের এবং বয়স্ক মানুষদের ক্ষেত্রে আরও বেশি সতর্ক থাকা উচিত৷ সাধারণ সর্দি কাশি হলে বা সামান্যতম শ্বাসকষ্ট হলেই দ্রুত চিকিৎসকের দ্বারস্থ হওয়া উচিত৷ মোট ডেঙ্গি আক্রান্তদের আশি শতাংশের বেশি আগে করোনা আক্রান্ত ছিলেন৷
বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালের প্রাক্তন উপাধক্ষ্য বা সুপার ও চিকিৎসক আশিস মান্না ও চিকিৎসক কৌশিক চৌধুরী, তিনি ও কয়েকজন চিকিৎসক মিলে ডেঙ্গির বাড়বাড়ন্তের সময় সমীক্ষা করে দেখেন, যে সমস্ত ডেঙ্গি আক্রান্তের মৃত্যু হয়েছে, তার মধ্যে ৮০ শতাংশের বেশি কোভিডে গুরুতর অসুস্থ ছিলেন৷ একই সঙ্গে আইডি হাসপাতালের চিকিৎসাধীন যে সমস্ত রোগীরা ডেঙ্গি আক্রান্ত তাঁদেরও মেডিক্যাল হিস্ট্রি তিনি খতিয়ে দেখেন৷ তার পরেই দেখা যায়, তাঁদের একটি বড় অংশ, প্রায় ৯০ শতাংশই আগে কোভিডে আক্রান্ত হয়েছিলেন৷
জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য দফতরের কর্তারা জানান, করোনার পরিস্থিতির মধ্যেও জেলাজুড়ে ডেঙ্গি নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচী চলছে। জেলা পরিষদ, স্বাস্থ্য দফতর ও স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত, পুরসভা কর্তৃপক্ষের নজরদারিতে কাজ চলছে। গত মার্চ থেকে বাড়ি বাড়ি ঘুরে স্বাস্থ্য কর্মী ও গ্রামীণ সম্পদ কর্মীরা ডেঙ্গির বিষয়ে বাসিন্দাদের যেমন সচেতন করছে, তেমনই মশানাশক স্প্রে করছে। মুর্শিদাবাদের মুখ্যস্বাস্থ্য আধিকারিক প্রশান্ত বিশ্বাস বলেন, ‘‘করোনার মতো ডেঙ্গি নিয়ন্ত্রণেও জেলা জুড়ে কাজ চলছে।’’
এ বছর ডেঙ্গি নিয়ন্ত্রণের কাজ করছে মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদ। মুর্শিদাবাদের অতিরিক্ত জেলাশাসক (জেলা পরিষদ) সুদীপ্ত পোড়েল বলেন, ‘‘গত বছরের তুলনায় এবারে ডেঙ্গি কম। তবুও আমরা করোনার মতো ডেঙ্গি-সহ মশা-মাছি বাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে আমরা কাজ করছি। মানুষকে সচেতন করার পাশাপাশি স্প্রে, ফগিং করা হচ্ছে। যাঁরা এসব কাজ করছেন তাঁদের পিপিই কিট দেওয়া হয়েছে।’’
জেলা স্বাস্থ্য দফতর সূত্রের খবর গত বছর, জেলায় ২০৯২জন ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছিলেন। চলতি বছরে ২০অগস্ট পর্যন্ত ৭০জন ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছেন। তবে গত বছরের মতো এবছরে এখনও পর্যন্ত ডেঙ্গিতে কারও মৃত্যু হয়নি। মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদ সূত্রের খবর, জেলায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে সমীক্ষার জন্য ২৬৭৬টি ভেক্টর কন্ট্রোল টিম তৈরি করা হয়েছে, যার সদস্য সংখ্যা ৩৪০০। এলাকায় স্প্রে ও ফগিংয়ের করার জন্য ৯৮০টি দল করা হয়েছে, যার সদস্য সংখ্যা ২২০৫জন। তাঁদের কাজ দেখভালের জন্য রয়েছে ৩৬৭জন সুপার ভাইজার। এই সব কর্মীরা গত মার্চ থেকে ডেঙ্গি নিয়ন্ত্রণে কাজও শুরু হয়েছে।
সূ্ত্রের খবর এবছর বেশি ডেঙ্গি আক্রান্ত হয়েছে বেলডাঙা-১ ব্লকে। সেখানে এবছর ৭জন আক্রান্ত হয়েছেন। এর পরেই বহরমপুরে ব্লকে ৬জন আক্রান্ত হয়েছেন। বেলডাঙা-২ ও লালগোলা ব্লকে ৫জন করে, বহরমপুর শহর ও হরিহরপাড়া ব্লকে ৪জন করে ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছেন। তবে গত বছর নওদায় যেখানে ১০৪জন ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছিলেন, এবছর সেখানে মাত্র এক জন আক্রান্ত হয়েছেন। নতুন আতঙ্ক ‘কোভিডেঙ্গি!’ কলকাতায় ডেঙ্গির বাড়বাড়ন্তের মধ্যে নতুন করে উঠে এসেছে এক রোগের কথা৷ চিকিৎসকরা নাম দিয়েছেন, ‘কোভিডেঙ্গি৷’ অর্থাৎ কোভিড ও ডেঙ্গির মিলিত এক রোগ, যাতে বিপুল বিপদের মুখে পড়তে হচ্ছে আক্রান্তকে৷ আর সেই বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ করলেন চিকিৎসকরাও৷
( আরও অনেক খবর পড়তে আমাদের এই NEWS UAP পেজ এ চোখ রাখুন)
